Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-০৩-২০১৪

‘পাওনা টাকা নিতে গিয়ে খুন হন ব্যবসায়ী কাশেম’

‘পাওনা টাকা নিতে গিয়ে খুন হন ব্যবসায়ী কাশেম’

সিলেট, ৩ মে- পাওনা টাকা নিতে গিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানার চরসলিয়াবাদ গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী আবুল কাশেম (৪৫) খুন হয়েছেন।

শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের তথ্য জানান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৯) অধিনায়ক মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি বলেন, কাঠ ব্যবসার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন জনকে টাকা ধার দিতেন আবুল কাশেম। একইভাবে ছয়মাস আগে ওই এলাকার জহুরুল ইসলামকে ১ লাখ টাকা ধার দেন তিনি। কিন্তু সেই টাকাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। পাওনা টাকা ফেরত নিতে এসে লাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে।

গত ২৭ এপ্রিল সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার রায়গ্রামের সমুজ মিয়ার বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে কাশেমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পাঁচদিন পর আবুল কাশেমের খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব-৯।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জহিরুল ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব ৯-এর অধিনায়ক মুফতি মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বৈশাকান্দি গ্রাম থেকে হত্যাকারী জহিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রুজিনা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ খান জানান, কাশেম পাওনা টাকা ফেরত দেয়ার চাপ দিলে জহির তাকে সিলেট এসে টাকা নিতে বলেন। ২২ এপ্রিল কাশেম সিলেট এসে জহিরের বাসায় ওঠেন। ওইদিন রাতেই পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে শেষ কথা হয় কাশেমের।

এরপর তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে রাখে জহির। ২৩ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে ফোনে কাশেমের পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন তিনি। পরে কাশেমের স্ত্রী তার স্বামীর গলার কণ্ঠস্বর শুনানোর জন্য জহিরকে বললে সে তা পারেনি। ফলে তিনি টাকাও পাঠাননি।

ওই রাতেই জহিরুল ও তার স্ত্রী রুজিনা অজ্ঞান কাশেমকে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করে ভাড়া বাড়ির সেফটি ট্যাংকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ২৭ এপ্রিল পুলিশ ট্যাংক থেকে কাশেমের লাশ উদ্ধার করে।

এর আগে কাশেমের পরিবারের পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানায় একটি মামলা করা হয়।

কাশেমের লাশ উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনসহ খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক এলাকা থেকে প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তার দেয়া তথ্য মতে তার স্ত্রী রুজিনা বেগমকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের উভয়ের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানায়। খুনি দম্পত্তি দক্ষিণ সুরমার সমুজ মিয়ার বাড়িতে ছয়মাস ধরে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিল।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল বলে জানায় র‌্যাব। হত্যার কারণ হিসেবে আর্থিক লেনদেনের বিষয় জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। অধিকতর তদন্তে আরও অন্য কোনো কারণ থাকলে তা বেরিয়ে আসবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রমের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক মুফতি মাহমুদ খান।

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে