Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-০৩-২০১৪

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন: তদন্তে ১৪ আলামত

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন: তদন্তে ১৪ আলামত

নারায়ণগঞ্জ, ০৩ মে- নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহৃত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনের লাশের শীতলক্ষ্যায় নিহতের ঘটনায় জড়িতরাও বিভিন্ন ধরনের ক্লু রেখে গেছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে অসংখ্য ব্যক্তি ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সুনির্দিষ্ট ১৪ ধরনের আলামত বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রহস্যময় ‘এমবিবি’ ব্র্যান্ডের ইট। যেগুলো লাশ ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নিহতদের শরীরে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এসব আলামতের সূত্র ধরেই শুরু হয়েছে তদন্ত কাজ।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ শহরের আশপাশে বিভিন্ন ইটভাটায় গিয়ে এমবিবি ইট সম্পর্কে কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও কয়েকজন ইটভাটার মালিক জানান, এটি পার্শ্ববর্তী থানা এলাকার ভুলতা বা আশপাশের কোনো এলাকার ইটভাটা হতে পারে। বক্তাবলী এনায়েতনগর ইউনিয়ন আঞ্চলিক ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শওকত আলী জানান, তাদের ইটভাটা মালিক সদস্য তালিকার মধ্যে এমবিবি কোম্পানির ইট উৎপাদিত হয় না। রূপগঞ্জের ভুলতা ও রূপসী এলাকায় এ ধরনের ইটের ভাটা থাকতে পারে।

এদিকে লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল ও লাশের শরীর থেকে পুলিশ মোট ১৪টি আলামত সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছে পুত্রকাটি। এসব আলামতের মধ্যে রয়েছে ইট, দড়ি, পলিথিন ব্যাগ, ব্যাগ সেলাইয়ের সুতা, লাশের পরনে থাকা জামাকাপড়, হাতঘড়ি, আংটি, মানিব্যাগ ইত্যাদি। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সাতটি লাশের হাত-পা শক্ত পাটের দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। লাশগুলো যাতে কোনোভাবেই ভেসে উঠতে না পারে সে জন্য ১২টি করে ইটভর্তি সিলিকনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাগগুলোতে ইট ভরে অত্যন্ত মজবুত করে সেলাই করা ছিল। এসব দড়ি ও সিলিকনের ব্যাগ থেকে ঘটনার সূত্র খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। দড়ি ও ব্যাগের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারকৃত জামাকাপড় থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধারণা, অপহরণের আগে-পরে অপহরণকারীদের সঙ্গে নিহতদের ধস্তাধস্তি হয়ে থাকতে পারে। ওই সময় অপহরণকারীদের মাথার চুল যদি ছিঁড়ে গিয়ে থাকে অথবা তাদের দেহের চামড়ার কোনো অংশ যদি খসে যায়, তাহলে সেগুলোর কোনো নমুনা সংগ্রহের জোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অপরদিকে সাতটি লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বন্দর থানার চারজন এসআই। তারা হলেন- এসআই বেলায়েত, এসআই মিজান, এসআই হানিফ ও এসআই আবু তালেব। সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি লাশের নাভির নিচে পেটের একটি নির্দিষ্ট জায়গা কাটা ছিল। এর বাইরে শরীরের আর কোথাও কোনো কাটা বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশগুলো ছিল অর্ধগলিত। একটি লাশের চোখ পুরোপুরি গলে গিয়েছিল। মুখমণ্ডল ছিল কালচে। প্রতিটি লাশই পলিথিন ব্যাগ দিয়ে মাথা থেকে গলা পর্যন্ত প্যাঁচানো ছিল। বন্দর থানার ওসি আক্তার মোর্শেদ যুগান্তরকে বলেন, চেহারা বিকৃত করতে হয়তো এসিড জাতীয় কোনো রাসায়নিক পদার্থ লাশের মুখমণ্ডলে ঢেলে দেয়া হয়েছে। এ কারণে মুখমণ্ডল কালচে হয়ে যেতে পারে। তবে কি কারণে লাশের মাথা থেকে গলা পর্যন্ত পলিথিন বেঁধে দেয়া হয়েছে তা নিয়ে ভাবনায় পড়েছে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আফাদুজ্জামানের ময়নাতদন্ত পর্যবেক্ষণ করে দৈনিক যুগান্তর তাদের প্রতিবেদনে জানায়, একজন প্রশিক্ষিত খুনীই এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৭টি লাশই ছিল এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। প্রতিটি লাশই ২৫০ থেকে ৩০০ মিটার পরপর ফেলা হয়েছিল। লাশগুলোর পেট ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেয়া হয়েছে যাতে পেটে গ্যাস জমা হয়ে ফুলে উঠতে না পারে। ৭টি লাশ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাদের সবাইকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছে। সবার মাথার পেছনে একটি স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত করা হয়েছে। এর ফলে দ্রুততম সময়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কাউকেই গুলি করে বা কুপিয়ে হত্যা করা হয়নি। ভারি এবং ধাতব কোনো কিছু দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করা হয়েছে। কিন্তু মাথা যাতে ফেটে না যায় সে জন্য হয়তো ধাতব ওই বস্তুতে কাপড় বা এ ধরনের কিছু জড়িয়ে নেয়া হয়েছিল। লাশ যাতে ভেসে উঠতে না পারে সেজন্য পেট কেটে দেয়া হয়েছে। যারা হত্যা করেছে তারা যথেষ্ট প্রশিক্ষিত বলে মন্তব্য করেন ময়নাতদন্তকারী এই চিকিৎসক।

এদিকে নজরুল ইসলাম অপহরণের ১২ ঘণ্টার ব্যবধানেই গাজীপুরের হোতাপাড়া শালবন থেকে তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৯১৩৬) পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। যদিও সেই গাড়িটি নজরুলের রাজনৈতিক সমর্থক নিহত স্বপনের। এরপর আইনজীবী চন্দন সরকারের প্রাইভেট কারটি (ঢাকা মেট্রো গ-২৭-৩৩৩৭) ২৮ এপ্রিল রাতে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় গুলশানের নিকেতন এলাকা থেকে। তার প্রাইভেট কারটি পেছন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। এ দুটি গাড়ি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, গাড়ি দুটি ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধীদের হাতের ছাপ উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। এছাড়া গাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারেরও চেষ্টা করা হবে।

নারায়নগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে