Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (54 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-০২-২০১৪

চৌদ্দ বছরের শিশুকে সাড়ে চার বছর আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন

চৌদ্দ বছরের শিশুকে সাড়ে চার বছর আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন

বরগুনা, ০২ মে- চৌদ্দ বছরের এক কন্যা শিশুকে সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন বরগুনার যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-সমন্বয়কারী রেজাউল হক রাজু। গত সোমবার রাতে ধর্ষণের পর তাকে আটকে রাখা হয় গৃহে। বুধবার রাতে তার-কাটার দেয়াল টপকে পালিয়ে আসে সে। পরে খবর পেয়ে ইটবাড়িয়া গ্রাম থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে নির্যাতিত ওই শিশুটিকে। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার ইটবাড়িয়া গ্রামে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ সমন্বয়কারী রেজাউল হক রাজুর বাসায়। নির্যাতিতের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার চরকগাছিয়া গ্রামে। তার পিতা একজন দরিদ্র রিকশাচালক।

নির্যাতিত কন্যা শিশু ও তার নানীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, খুব ছোট সময় মায়ের মৃত্যু হয় শিশুটির। সৎ মায়ের অভাবী সংসারে ঠাই হয়নি তার। দু'মুঠো ভাতের জন্য অনোন্যপায় হয়ে মাত্র নয় বছর বয়সে তাকে কাজ নিতে হয়েছিল বরগুনার ইটবাড়িয়া এলাকার যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-সমন্বয়কারী রেজাউল করিম রাজুর বাসায়। গৃহস্থালীর সকল কাজ করেও রেহাই ছিলনা তার। গৃহকর্তা রেজাউল হক রাজু প্রায়ই তাকে যৌনহয়রাণীর চেষ্টা চালায়। অপ্রাপ্ত বয়সের লজ্জায় সবই মুখ বুজে সয়ে যেত শিশুটি। সাড়ে চার বছর ধরে চলতে থাকে এসব নির্যাতন। গত সোমবার রাতে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রেজাউল করিম রাজু। ঘটনার সময় স্ত্রী রিণা বেগম ছিলেন বাথরুমে। ঘটনার কথা শুনে চুল টেনে মারধর করেন স্ত্রী রিণা বেগম। এরপর কোথাও যেন পালিয়ে যেতে না পারে তাই আটকে রাখা হয় তাকে। পরে বুধবার রাত আটটার দিকে তার-কাটার দেয়াল টপকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় নির্যাতিত ওই কন্যা শিশু।

খবর পেয়ে ইটবাড়িয়া গ্রাম থেকে অসুস্থ অবস্থায় শিশটিকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন বরগুনা থানার এসআই মো. ছিদ্দিকুর রহমান। এ ঘটনার কথা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ও বরগুনা থানায় ছুটে যান মানবাধিকারকর্মীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা। সেখানে পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেয় নির্যাতনের শিকার ওই কন্যা শিশু। এ ঘটনায় নিজেই বাদী হয়ে বরগুনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে নির্যাতিত ওই শিশু।

এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আ. মান্নানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে। আরও কিছু পরীক্ষা বাকী রয়েছে। ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে টেলিফোনে তার উত্তর জানাতে অস্বীকার করেন। ঘটনার পরপরই বাসায় তালা মেরে স্বপরিবারে অন্যত্র চলে গেছেন অভিযুক্ত যুব প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী রেজাউল হক রাজু। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউল হক রাজুর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আশেপাশের স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে তার বিরোধ চলছে। তাই ওই বিরোধের জের ধরে ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে বলে তিনি জানান। বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আযম খান ফারুকী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পুলিশ নির্যাতিতকে উদ্ধার করে বরগুনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সার ব্যবস্থা করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য সচেষ্ট রয়েছে পুলিশ।

বরগুনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে