Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯ , ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৩-২০১২

শীতে ত্বকের পরিচর্যা

শীতে ত্বকের পরিচর্যা

শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায় ফলে বায়ুম-ল ত্বক থেকে পানি শুষে নেয়। এ শুষে নেয়ার কারণে ত্বক, ঠোঁট ও পায়ের তালু ফেটে যেতে থাকে। আমাদের দেহের ৫৭ শতাংশই হলো পানি। আর এর মধ্যে ত্বক নিজেই ধারণ করে ১০ ভাগ। ফলে ত্বক থেকে পানি বেরিয়ে গেলে ত্বক দুর্বল আর অসহায় হয়ে পড়ে। ত্বকের যেসব গ্রন্থি থেকে তৈল আর পানি বের হয়ে থাকে তা আর আগের মতো ঘর্ম বা তৈল কোনোটাই তৈরি করতে পারে না। ফলে ত্বক আরো শুকিয়ে যেতে থাকে।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, আমাদের ত্বকে থাকে ঘর্মগ্রন্থে, থাকে তৈলগ্রন্থি যেখান থেকে অনবরত তৈল আর ঘাম বের হতে থাকে। এ ঘাম আর তৈল মিলে দেহের ওপর একটি তেল আর পানির মিশ্রণ বা আবরণী তৈরি করে যা দেহকে শীতল করে রাখে এবং ত্বককে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে ও ত্বকের ফাটাভাব প্রতিরোধ করে। শীত এলে ত্বক ছাড়াও সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় ঠোঁট নিয়ে। কম-বেশি ঠোঁট ফাটা সবারই হয়। সে ক্ষেত্রে তৈলাক্ত প্রলেপ ঠোঁটে ব্যবহার করলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এ ক্ষেত্রে ভেসলিন, লিপজেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করে ঠোঁট ভালো রাখা যায়। তবে মনে রাখতে হবে জিব দিয়ে ঠোঁট ভিজানো কখনো উচিত নয়। এতে ঠোঁট ফাটা আরো বেড়ে যেতে পারে। আর এক শ্রেণীর লোকের এ শীত এলেই পা ফাটার প্রবণতা দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে এক্রোফ্লেভিন দ্রবণে পা কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর পা শুকিয়ে যাওয়া মাত্র ভেসলিন মেখে দিন। এছাড়া গি্লসারিন ও পানির দ্রবণ পায়ে মাখলে পায়ের ফাটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পায়ের ফাটা কম হলে অলিভ অয়েল বা নারকেল তৈল ব্যবহারেও ভালো ফলাফল পওয়া যায়। তবে এখন বাজারে অনেক রকমের ময়েশ্চরাইজার পাওয়া যায়। এটা আসলে তৈল আর পানির একটি মিশ্রণ। এতে থাকে ত্বক কোমলকারী পদার্থ যেমন_ পেট্রোলিয়াম, ভেজিটেবল অয়েল, ল্যানোলিন, সিলিকন, লিকুয়িড, পালাফিলন, গি্লসারিন, প্লাইকল ইত্যাদি। এখন শীতকালে বাড়ে এমন একটি রোগের বিষয় কিছুটা আলোচনা করা যাক।

রোগটির নাম হচ্ছে ইকথায়োসিস। ইকথায়োসিস আবার বিভিন্ন ধরনের আছে তবে আমরা তার সবগুলোয় না গিয়ে শুধু ইকথায়োসিস ভ্যালগারিস নিয়ে কিছুটা আলোচনা করব। এটি একটি জন্মগত রোগ এবং রোগটি শিশুকাল থেকেই লক্ষ্য করা যায়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি হাজারে অন্তত এ রোগে একজন ভুগে থাকে। নারী-পুরুষের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সমপরিমাণ। এ রোগে যারা আক্রান্ত হয় তাদের হাত ও পায়ের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ত্বক ফাটা এবং ছোট ছোট গুঁড়া মরা চামড়া বা অাঁইশ পায়ের সামনের অংশের বা হাতের চামড়ায় লক্ষণীয়ভাবে ফুটে উঠতে দেখা যায়। তবে হাত ও পায়ের ভাঁজযুক্ত স্থানে থাকবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তাদের কাছে প্রশ্ন রাখলে তারাই বলবে, এ রোগটি তাদের দেহে ছোটবেলা থেকেই আছে। তাদের ক্ষেত্রে শীতকাল এলেই প্রতিবছর এর ব্যাপকতা বেড়ে যায়। তাদের হাতে বা পায়ের দিকে তাকালে দেখা যাবে, হাতের রেখাগুলো খুবই স্পষ্ট এবং মোটা যা কিনা সাধারণ লোকের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় নয়।

এরই সঙ্গে তাদের থাকে অ্যালার্জিক সমস্যা। তাদের কাছে প্রশ্ন করলে তারাই বলবে, তাদের প্রায়ই নাক দিয়ে পানি পড়া অর্থাৎ সর্দি সর্দি ভাব থাকবে। তাদের পারিবারিক ইতিহাস খুঁজলে আরো পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে, তাদের পরিবার অ্যালার্জিক সমস্যা ছিল বা এখনো আছে। এ রোগটি একবারে কখনই ভালো হয় না। তবে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শীত এলেই বেশি বেশি করে তৈলাক্ত পদার্থ থাকলে ত্বক ভালো থাকে এবং ফাটা ভাব পরিস্ফুট হয় না। তবে যাদের ফাটা অবস্থা খুব বেশি তাদের ক্ষেত্রে আলফা হাইড্রোক্সি এসিড থাকলে খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়। আর এটি পেতে যদি অসুবিধা হয় তাহলে গি্লসারিনের সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে ত্বকে মাখলে খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়।
 

শরীর চর্চা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে