Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-২৮-২০১৪

ধুনটে আদালতের আদেশে বাঙ্গালী নদীর বাঁধ ভেঙে দিল প্রশাসন

ধুনটে আদালতের আদেশে বাঙ্গালী নদীর বাঁধ ভেঙে দিল প্রশাসন

বগুড়া, ২৮ এপ্রিল- উচ্চ আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বগুড়ার ধুনটে এলাঙ্গী ইউনিয়নের বাঙ্গালী নদীতে আড়াআড়িভাবে নির্মিত অবৈধ বাঁধ ভেঙে দিয়েছেন প্রশাসন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়েরকৃত রিট মামলায় আদালত গত ১০ মার্চ এই আদেশ দেয়। গতকাল রোববার সকাল ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধায়ানে ওই বাঁধ ভাঙ্গার কাজ শুরু করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ দেড়শতাধিক পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। বাঁধ ভাঙার কাজে অংশগ্রহণ করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ প্রায় ৩০০ জন শ্রমিক।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৩ সালের জুলাই মাসে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বাঙ্গালী নদীর আড়িয়ামারা নামক স্থানে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। নদীর বুকে ওই বাঁধের দৈর্ঘ্য ২৫০ ফুট ও প্রশস্ত ৬০ ফুট। তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত বাঁধের উপর অবৈধভাবে বেশকিছু দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়। তখন এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। ফলে নদী থেকে বাঁধ অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেলার আইনজীবী ইকবাল কবির ১৯ সেপ্টেম্বর পরিবেশ ও বন, পানিসম্পদ, ভূমি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রালয়ের সচিব এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, বগুড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ ১০ কর্মকর্তার কাছে নোটিশ পাঠান। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণের ফলে পানি চাপ বেড়ে যাওয়ায় নদীর দুই পাড়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ধুনট শেরপুর সড়ক ও বথুয়াবাড়ী সেতু হুমকির মুখে পড়ে। নদীতে বাঁধ দিয়ে গতি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনের পরিপন্থি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই উক্ত নোটিশের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বাঁধ অপসারণ করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নানা অজুহাত দেখিয়ে বাঁধ অপসারণের ব্যবস্থা করেনি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন। উচ্চ আদালতের (হাইকোর্ট ডিভিশন) বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার এবং বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকার এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১০ মার্চ এই আদেশ দেন। আদালত বাঙ্গালী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নকারী বাঁধ অপসারণ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওয়াপদার মহাপরিচালক ও বগুড়া জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে সীমানা নির্ধারণ করে নদীটি রক্ষার নির্দেশ কেন প্রদান করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। এছাড়া বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর পরিবেশ ব্যবস্থার যে ক্ষতি সাধন হয়েছে তা নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট থেকে কেন ক্ষতিপুরন আদায় করার নির্দেশ প্রদান করা হবে না রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
উচ্চ আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মাদ মাহমুদুল আলমের তত্ত্বাবধায়নে বাঁধ ভাঙ্গার কাজ শুরু করা হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, ডিপুটি রেভিনিউ কালেক্টর মনিরুজ্জামান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র ক্যামিস্ট আব্দুস ছালাম, কামরুজ্জামন, পরিদর্শক কমল কুমার বর্মন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান এমএ তারেক হেলাল, মাসুদ রানাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল মোতালেবের নেতৃত্বে দেড়শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ধুনট ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ ৩০০ শ্রমিক বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করে বাঁধের মাটি কাটছে। বহুল আলোচিত এই বাঁধ কাটার দৃশ্য দেখার জন্য হাজার হাজার জনতা নদীর দুই তীরে অবস্থান নেন।

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে