Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.2/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-২৭-২০১৪

গরমের সুযোগে ওয়াসার পানি বাণিজ্য!

গরমের সুযোগে ওয়াসার পানি বাণিজ্য!

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল- সরকারি সেবাদানকারী সংস্থা হিসেবে নগরবাসীর জন্য স্বল্প সুপেয় পানি নিশ্চিত করার কথা থাকলেও সেবার পরিবর্তে বাণিজ্যে নেমেছে ঢাকা ওয়াসা। আর বৈশাখের তাপদাহে উত্তপ্ত রাজধানীতে প্রতিবছরের মতো এবার দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির চরম সঙ্কট।
 
রাজধানীর অধিকাংশ এলাকাতেই একই চিত্র। প্রতিদিন পানির জন্য হাহাকার বাড়ছে। এমনিতেই মার্চ এপ্রিল মাসে পানির স্তর অনেক নীচে নেমে যায়। অন্যদিকে প্রতিবছর এই সময় ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন সংস্কার ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট এ সংকট আরো বাড়িয়ে তোলে। আর নগরবাসীর এই দুর্ভোগকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান ওয়াসার এক শ্রেণীর সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের দাপুটে উপস্থিতিতে প্রকাশ্যেই চলে পানি বাণিজ্য।
 
তবে পানি বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ড. তাকসিম এ খান প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের কাজ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে। আর এটি হওয়ারও কোনো সুযোগ নাই। কেননা আমাদের একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে। কারো বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বরখাস্ত করা হবে।

ইতোমধ্যেই গত বৃহস্পতিবার একজনকে এই অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
 
তার মতে, রাজধানীতে পানির কোনো সংকট নেই, আছে কারিগরি সমস্যা। এই মুহূর্তে আমাদের উৎপাদন ও সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। ঢাকা ওয়াসার প্রতিদিন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৪২ কোটি লিটার। উৎপাদন হচ্ছে ২২৮ থেকে ২৩০ কোটি লিটার। বর্তমানে নগরীর চাহিদাও ২৩০ কোটি লিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
 
ওয়াসা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো জানান, তীব্র তাপদাহের কারণে ৬৭০টি পাম্পের মধ্যে ৭টি অকেজো হয়ে আছে। যে কারণে কিছু এলাকার শেষ বাড়িগুলোতে পানির সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছে লোড শেডিং। তবে সহসাই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আগামী সোমবারের মধ্যে পানি নিয়ে আর কোনো সমস্যাই থাকবে না।
 
ওয়াসার এমডি জানান, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলেই শাস্তি। তবে কিছু ক্ষেত্রে যে এরকম ঘটনা ঘটছে তাও স্বীকার করেন তিনি।

তার মতে, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার ধরন অন্য রকম।

তিনি বলেন, কোনো কোনো বাড়ির মালিক দীর্ঘ সময় পানি না পেয়ে আমাদের সরবরাহকারী গাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেন, ‘ভাই আমার একগাড়ি পানি দাও, আমি তোমাকে ৫০০ টাকা বেশি দেবো। এখানেই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
 
কিন্তু ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। রাজধানীর যাত্রবাড়ী, শনির আখড়া, মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা, মিরপুর, শ্যামলী, আজিমপুর, গোরানসহ বেশ কিছু এলাকায় চরম পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। লাইনে পানি সরবরাহ কম থাকায় বাসাবাড়িতে পানির অভাবে গোসল-খাওয়া পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে পানি সংকটের কারণে নানা ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে। বিশেষ করে পানি বাহিত রোগের আধিক্য বেড়েছে অনেক।
 
নগরজুড়ে পানি স্বল্পতাকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ও অতি লোভী কর্মকর্তা-কর্মচারী ওয়াসার পানি ব্যবসায় নেমে গেছে। ওয়াসার বড় এক গাড়ি পানির মূল্য যেখানে ৬০০ টাকা, সেখানে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।
 
অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সত্যতা পাওয়া যায় রাজধানীর সূত্রাপুরের এক বাসিন্দার কাছ থেকে। শুক্রবার আবু কাওসার নামের ওই বাসিন্দা জানান, তার বাসায় তিন দিন ধরে পানি নেই। তাই ওয়াসার সঙ্গে যোগাযোগ করে একগাড়ি পানি নিয়েছি। এজন্য আমাকে দিতে হয়েছে ১ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, কোনো উপায় ছিলো না। কারণ পানি না থাকায় ঠিকমতো কোনো কাজই করতে পারছিলাম না। তাই বাধ্য হয়েই বেশি টাকা দিয়ে হলেও পানি তো পেয়েছি।
 
একই অভিযোগ করেন রাজধানীর আদ‍াবর ৬ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আজ দুই দিন পানি নাই। ৬তলা বাড়ির সব ভাড়াটিয়াই পানির অভাবে চরম কষ্টে আছে। আমি নিজেও এই সমস্যা মোকাবিলা করছি। একদিকে লোড শেডিং, অন্যদিকে তাপদাহ। তাই বাধ্য হয়ে ১৫০০ টাকা দিয়ে বড় একগাড়ি পানি নিয়েছি।

এজন্য কোনো ভাউচার দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাউচার চাইলে বলে পানি দিতে পারবো না।
 

ঢাকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে