Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০ , ১৯ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৩-২০১২

অভ্যুত্থান পরিকল্পনা হয় তিন দেশে : আরও গ্রেফতার ১১

অভ্যুত্থান পরিকল্পনা হয় তিন দেশে : আরও গ্রেফতার ১১
সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের অপচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ১১ জন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার রাতে তাদের গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে। এ নিয়ে সেনা অভ্যুত্থান পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার হলেন। এদিকে একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সেনা অভ্যুত্থান পরিকল্পনা হয়েছে হংকং, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায়। সেখানে অনুষ্ঠিত ৩টি বৈঠকেই বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিম উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে সেনা অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী পলাতক মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে জিয়াকে গ্রেফতার করতে সব সেনানিবাস, বিমানবন্দর ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির কাছে ছবি পাঠানো হয়েছে। মেজর জিয়ার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সম্পর্ক রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্ত আদালত। এছাড়া ষড়যন্ত্রের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সাবেক ও বর্তমান সেনাকর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছেন তদন্ত আদালত। একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, সেনাবাহিনীতে বিশৃংখলা সৃষ্টির অভিযোগে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আরও ১১ জন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশ সেনাসদরের লগ এরিয়ায় নজরদারিতে ছিলেন। তাদের পাঁচজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেনÑ লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান, লে. কর্নেল (অব.) সামসুল হক, মেজর শহিদ, মেজর খালিদ ও ক্যাপ্টেন তানজিব। এর আগে একই অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত লে. এহসান ইউসুফ ও চাকরিচ্যুত মেজর জাকিরসহ চারজন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গোলাম আযমের লন্ডন প্রবাসী ছেলে নোমান আল আযমী, হংকং প্রবাসী ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদ ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি লে. কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিমকে গ্রেফতার করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) সাহায্য নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে এ তিনজনকে দেশে ফিরিয়ে এনে কঠোর শাস্তি দিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শিগগিরই শুরু হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই যড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহিতা ও সেনাবাহিনীর শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে। মামলার আসামি হওয়ার পর তাদের ছবি ইন্টারপোলের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও সেনা অভ্যুত্থান অপচেষ্টায় জড়িত লে. কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিম বর্তমানে আফগানিস্তানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকেও গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে নতুন করে ইন্টারপোলের সাহায্য নেয়া হচ্ছে। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের বিদেশী পরিকল্পনাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ শুরু হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা খুব শিগগিরই শুরু হবে।
এদিকে বিশেষ একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মেজর জিয়া যুক্তরাজ্যের একটি রোমিং মোবাইল সিম ব্যবহার করতেন। সেই সিম দিয়ে তিনি বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত সেনাকর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মেজর জিয়া মোবাইলে যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাদের মধ্যে বিভিন্ন র‌্যাংকের ১১ সেনাকর্মকর্তার ফোনালাপ গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। জিয়া তাদের সঙ্গে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনের বিষয়ে কথা বলেন। মেজর জিয়াকে ধরতে সব সেনানিবাস ও বন্দরে ছবি পাঠানো হয়েছে। জিয়াউলের সঙ্গে হিজবুত তাহরিরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। এদিকে ব্যর্থ হওয়া ক্যু পরিকল্পনায় অন্যতম অনুঘটক ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত লে. কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিম। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী সার্কভুক্ত একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে ক্যু পরিকল্পনায় ডালিম জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র। দেশের বাইরে ক্যু-পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রচারণার দায়িত্বে ছিলেন গোলাম আযমের ছোট ছেলে নোমান আযমী।
সেনা গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, হংকং, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় তিনবার বৈঠকে বসে অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারীরা। তিনটি বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন লে. কর্নেল (অব.) ডালিম। মালয়েশিয়ার বৈঠকে গোলাম আযমের ছোট ছেলে লন্ডন প্রবাসী নোমান আযমীও উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার লে. কর্নেল পদমর্যাদার এক সেনা কর্মকর্তা। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সেনাকর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারীদের প্রথম দফার হত্যা পরিকল্পনাতে ছিল প্রধানমন্ত্রী এবং ডিজিএফআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মামুন খালিদের নাম। ওই বিশেষ সংস্থা সূত্রমতে, সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও সরকার উৎখাতের ব্যর্থ চেষ্টার ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত ১১ জন পদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মেজর জেনারেল, একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, দু’জন লে. কর্নেল, ছয়জন মেজর ও ক্যাপ্টেন পদের একজন কর্মকর্তা। পরে তাদের ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ৮ জানুয়ারি সাভারের ব্রিগেড কমান্ডার তারিকুল আলমকে লগ এরিয়ায় সংযুক্ত করা হয়। এর চারদিন পর ১২ জানুয়ারি সংযুক্ত করা হয় কুমিল্লার জিওসি কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন তানজীবকে। অন্য দুই লে. কর্নেলকে ১৫ জানুয়ারি সংযুক্ত করা হয়।
সেনাসূত্র নিশ্চিত করেছে, সংযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন কুমিল্লার ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাভারে নবম পদাতিক ডিভিশনের ৭১ ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তারিকুল আলম, ঢাকা সেনানিবাসের লে. কর্নেল সারোয়ার ও লে. কর্নেল জগলুল হক। এছাড়া ক্যাপ্টেন পদবির তানজীব নামের একজনকে ঢাকা সেনানিবাসের লগ এরিয়ায় সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ব্রিগেডে মেজর পদের দু’জন ও সিগন্যাল ব্রিগেডে একজন মেজর সংযুক্ত আছেন। ঢাকার বাইরে রংপুর, কুমিল্লা ও সাভারে একজন করে মেজর পদের কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়। ফোনালাপের সূত্র ধরে এসব কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একটি বিশেষ গোয়েন্দা সূত্রমতে, যড়যন্ত্রের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দু’জন সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে চিহ্নিত ইশরাক আহমেদ কুমিল্লার জিওসির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে জিওসি এ তথ্য কোন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাননি। তদন্ত আদালতে এখনও কামরুজ্জামানের জবানবন্দি নেয়া হয়নি। সূত্র আরও জানায়, হংকং প্রবাসী ইশরাক ৭১ ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তারিকুল আলমের সঙ্গেও দেখা করেন। ইশরাক নিজে ব্রিগেড কমান্ডারের কার্যালয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে তারিকুল আলম এ তথ্য স্বীকার করেন। তারিকুল জানান, ইশরাকের সুইডেন প্রবাসী ভাই ইতরাক আহমেদ তার সঙ্গে দেখা করেন।
গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স ক্লাবে সেনাসদর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিএস (পার্সোনেল সার্ভিস) পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাসুদ রাজ্জাক জানান, সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী ধর্মান্ধ সেনাসদস্য অভ্যুত্থান চেষ্টা চালিয়েছিল, যা নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে