Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.8/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-২৬-২০১৪

গোপীবাগে সিক্সমার্ডার: টেকনিক্যালি ক্লু না থাকায় ধরা পড়ছে না খুনিরা!

গোপীবাগে সিক্সমার্ডার: টেকনিক্যালি ক্লু না থাকায় ধরা পড়ছে না খুনিরা!

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল-  রাজধানীর গোপীবাগে চাঞ্চল্যকর ছয় খুনের চারমাস পার হলেও খুনিদের কাউকেই শনাক্ত করতে পারছে না গোয়েন্দা পুলিশ। উগ্র মতবাদের লোকজন এই খুনের সঙ্গে জড়িত এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তদন্ত চলছে ধীর গতিতে। খুনিরা কোনো টেকনিক্যালি ক্লু রাখেনি। তাই খুনিদের ধরতে বিলম্ব হচ্ছে।

মামলার এ পর্যায়ে চলছে খুনের সঙ্গে জড়িত উগ্র মতবাদী সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার কাজ। সন্দেহের তালিকায় রয়েছে জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, কওমী মাদ্রসা এবং তার কার্যক্রমে বাধা দেওয়া ব্যক্তিসহ বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠন।

রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ১ নাম্বার লেনের ৬৪/৬ নাম্বার ভবনের দোতলায় কথিত পীর ও ইমাম মাহদীর সেনাপতি পরিচয় দানকারী লুৎফর রহমান ফারুকসহ ছয়জনকে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর জবাই করে খুন করে দুর্বৃত্তরা। এই খুনের মামলার তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইন্সপেক্টর আবু আল খায়ের মাতুব্বর শীর্ষ নিউজকে জানান, ‘খুনিদের ধরতে আমাদের এগুতে হচ্ছে ম্যানুয়ালি। কারণ, তারা এমন কোনো প্রমাণ রেখে যায়নি যা দিয়ে তাদের সনাক্ত করা যায়। আসলে এ মামলার তদন্তে আরো সময় দরকার আছে’।

তিনি বলেন, ‘দৃশ্যমান এমন কোনো প্রমাণই পাওয়া যায়নি। যত ধরনের টেকনিক আছে এখনও চর্চা করছি। যা সব সময়ই চর্চা করা উচিৎ। কিন্তু আমাদের খুনিদের ধরতে এগুতে হচ্ছে মানদাতা আমলের ম্যানুয়ালি পদ্ধতিতে। এটাই বিলম্বের মূল কারণ। তবে দেখবেন হুট করে খুনিদের ধরে ফেলেছি’।

তিনি আরো বলেন, কিছু সন্দেহভাজন লোক ধরার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে উল্লেখযোগ্য কিছু বলা যাচ্ছে না। সন্দেহভাজন লোকদের গ্রেফতার করতে পারলে হত্যাকাণ্ডের রহস্যের ব্যাপারে সুনির্দষ্টভাবে কিছু বলা যাবে। কাউকে গ্রেফতার না করে কীভাবে বলি যে ওমুক সংগঠন জড়িত। ডকুমেন্ট ছাড়া তো এটা বলা বোকামি হবে। তবে উগ্র মতাবাদের লোকজন এটা করেছে তা নিশ্চিত’।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘জেএমবি, কওমী মাদরাসা ও মাদরাসা শিক্ষায় যারা শিক্ষিত তাদের পাশাপাশি হরকাতুল জিহাদকেও আমরা মাথায় রেখেছি। কারণ জেএমবি অতীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই ওদের ব্যাপারে জোর সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু সন্দেহের বিষয়টি তখন স্পষ্ট করে বলতে পারবো যখন কেউ গ্রেফতার হওয়ার পর স্বীকার করবে যে ঘটনাটি তারা ঘটিয়েছে’।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো বলেন, কথিত পীর লুৎফর ১৯৯১ সাল থেকে এই (ভিন্ন মতবাদ) কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার আবাসস্থল ছিল যাত্রাবাড়ি, গেন্ডারিয়া এবং গোপীবাগে। বারবার বাসা পরিবর্তন করে এই এলাকাটুকুর ভেতরেই তার বসবাস ছিল। এ সময় তার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ হয়েছে, হামলা হয়েছে, মামলা হয়েছে। তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তখন কিছু লোক তাকে গ্রেফতারের জন্য বেশি আগ্রহ দেখিয়েছিল। তাদের তালিকা করা হয়েছে। তাদেরকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে’।

ঘটনার পরপর কয়েকজনকে আটক করেছিল সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তাদের বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘‘আটকৃত দুইজনকে আমিও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। কিন্তু ‘দে আর নট ইনভলভ ইন দিস ম্যাটার’ (তারা এ ঘটনায় জড়িত নয়’’।

তিনি আরো বলেন, ‘যত ধরনের রাস্তা আছে খুনিদের ধরতে সেই সব রাস্তায় হাটা হচ্ছে’।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় তারা বাসায় প্রবেশ করে লুৎফরের সঙ্গে প্রথমে খোশ গল্প করে। পরে তারা মুড়ি খায়। এরপর তারা পরিকল্পিতভাবে ঠাণ্ডা মাথায় ছয়জনকে জবাই করে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, যে ছুরি দিয়ে খুনিরা ছয়জনকে হত্যা করেছে, ওই রক্তমাখা ছুরিটিও তারা নিয়ে গেছে। ঘটনার সময় বাড়ির কেয়ারটেকার মহাখালী এলাকায় ছিলেন। আর বাড়ির দারোয়ান খুনের ঘটনার সময় বাড়িটির নিচে বসা ছিলেন। একটি জনবহুল এলাকায় এত বড় নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে খুনিরা নির্বিঘ্নে এলাকা ছেড়ে চলে গেলে তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়।

খুনের পর সাংবাদিকদের লুৎফরের স্ত্রী সালমা বেগম জানিয়েছিলেন, খুনিরা তাদের বাসায় একাধিকবার এসেছে। তারা বয়সে যুবক। তাদের নাম পরিচয় জানা নেই। তবে তাদের দেখলে তিনি চিনতে পারবেন বলে জানান।

কথিত পীর লুৎফর রহমান ফারুক ছাড়াও ওইদিন খুন হন তার ছেলে মনির হোসেন, লুৎফরের ব্যক্তিগত কেয়ারটেকার মঞ্জুর আলম ওরফে মঞ্জু এবং লুৎফর রহমানের মুরিদ সাইদুর রহমান (৩০), মজিবর (৩২) ও রাসেল (৩০)। এ ঘটনার পর অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে ওয়ারি থানায় মামলা করেন নিহত লুৎফর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফারুক। মামলাটি এখন ঢাকা মহানগর গেয়েন্দা পুলিশ (পূর্ব বিভাগ) তদন্ত করছে।

 

ঢাকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে