Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (34 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-২৫-২০১৪

সবজি ব্যবসায়ী থেকে ভয়ংকর খুনি

সবজি ব্যবসায়ী থেকে ভয়ংকর খুনি

বগুড়া, ২৫ এপ্রিল- কিশোর বয়সেই পাশের গ্রামের এক মেয়ের প্রেমে পড়েন। কিন্তু রিকশাচালকের মেয়ে হওয়ায় তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নেননি তাঁর মা-বাবা। ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেন অন্য একজনের সঙ্গে। মা-বাবার পছন্দের মেয়েটি দেখতে সুশ্রী না হওয়ায় বিয়ের পরদিনই শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে আসেন তিনি। পাড়ি জমান ঢাকায়। ঢাকায় মাছ ও কাঁচামালের ব্যবসা শুরু করেন। অসৎ সঙ্গ পেয়ে ধীরে ধীরে মাদক ব্যবসা, সোনা চোরাচালান ও ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে নারী ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে হয়ে ওঠেন ঠান্ডা মাথার খুনি। তাঁর নাম আবদুল মোমেন ওরফে বাবু ওরফে পিচ্চি বাবু (৩৫)। বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে।


১৮ এপ্রিল নিপা আখতার নামের এক বান্ধবীকে খুন করতে ঢাকার উত্তরা থেকে শিবগঞ্জ উপজেলায় নির্জন স্থানে ডেকে আনেন আবদুল মোমেন। সঙ্গে আসা নিপার বোনের ছেলে সুজন মিয়াকে (১৬) খুন করেন। কিশোরটিকে খুনের পর নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বান্ধবীকে ফেলে রাজধানীতে পালিয়ে আসেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি তাঁর। বান্ধবীর কাছে রেখে আসা একটি ছবিই কাল হয়। ওই ছবির সূত্র ধরেই রাজধানীর উত্তরখান এলাকা থেকে গত মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আনা হয় বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে। নারী, শিশু, ব্যবসায়ী হত্যাসহ অসংখ্য অপরাধের সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গত বুধবার সন্ধ্যায় বগুড়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক আবদুল হামিদের কাছে জবানবন্দি দেন মোমেন।


পুলিশ জানায়, ১৪ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে প্রথম দিকে উত্তরবঙ্গ থেকে মাছ ও সবজি কিনে রাজধানীতে বিক্রি করতেন আবদুল মোমেন। থাকতেন গাজীপুরের সফিপুর-মৌচাক এলাকায়। অল্প দিনেই খারাপ সঙ্গ পেয়ে যান। মাত্র ৫০ হাজার টাকার লোভ সামলাতে না পেরে তরমুজ কিনতে ঠাকুরগাঁও মোকামে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় খুন করেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী আবদুস সামাদকে। সবজির আড়ালে উত্তরবঙ্গ থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা ও হেরোইনের মতো মাদক রাজধানীতে পাচার শুরু করেন। একপর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন চোরাচালানি চক্রের সঙ্গে। অল্প দিনেই প্রচুর টাকা হাতে আসতে থাকে। হোটেলে ফুর্তি আর নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়া তাঁর নেশায় পরিণত হয়। নারী ও মাদক ব্যবসা, বিদেশ থেকে সোনা চোরাচালান এবং ফ্ল্যাট ভাড়া করে নারীদের নিয়ে দেহব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। একসময় পেয়ে বসে বান্ধবীদের খুনের ভয়ংকর নেশা। বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে বান্ধবীদের বিক্রি করে দিতেন দালাল-খদ্দেরদের কাছে। বিয়ে করেছেন তিনজনকে। কোনো বান্ধবী অবাধ্য হলেই খুনের নেশা পেয়ে বসত তাঁকে।
গোয়েন্দা হেফাজতে থাকা মোমেন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বলেন, ১৬-১৭ বছরে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় অপরাধী রাজ্যের প্রভাবশালী একজন হয়ে ওঠেন তিনি। জড়িয়ে পড়েন আন্তর্জাতিক সোনা চোরাকারবারি চক্রের সঙ্গে। রাতারাতি গাড়ি-বাড়ির মালিক বনে যান।
আদালতে জবানবন্দিতে আবদুল মোমেন বলেন, ‘২০১৩ সালের মাঝামাঝিতে পরিচয় ঘটে শাপলা নামের এক বান্ধবীর সঙ্গে। গত বছর রাজধানীর মহাখালীর একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটানোর সময় আমার মুঠোফোনে অন্য এক বান্ধবীর ফোন আসে। সেই ফোনের সূত্র ধরে অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যায় শাপলা। প্রতিশোধ নিতে কয়েক দিনের মাথায় আমার মাদকের একটি চালান পুলিশকে ধরিয়ে দেয়। ওই ঘটনার পর গত বছরের নভেম্বর মাসে শাপলাকে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে ওড়নার সাহায্যে ফাঁস দিয়ে হত্যা করি। এ ছাড়া ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে লাকি আকতার (১৮) ও ২০১০ সালে সোনিয়া (২০) নামের দুই বান্ধবীকে রাজধানী ঢাকা থেকে বগুড়ার শিবগঞ্জে এনে হত্যা করি।’
বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, আবদুল মোমেনকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি একজন পেশাদার খুনি এবং ভয়ংকর অপরাধী। তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে