Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৯ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.7/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-২৩-২০১৪

আন্দোলনের মুখে রাতারগুলের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের ঘোষণা বনবিভাগের!

আন্দোলনের মুখে রাতারগুলের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের ঘোষণা বনবিভাগের!

সিলেট, ২৩ এপ্রিল- পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আন্দোলনের মুখে অবশেষে জলা বন রাতারগুলে জাতীয় উদ্যান পরিকল্পনায় ওয়াচ টাওয়ারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প বন্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশের রাস্তায় তাদের আমরন অনশনের মুখে মঙ্গলবার রাতে প্রকল্প বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন সিলেটের সহকারী বন সংরক্ষক পরিমল চন্দ্র পাল।

অনশনরত পরিবেশ সংগঠনগুলোর দাবির মুখে তিনি মাইকে প্রকল্প বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলে প্রত্যাহার করা হয় অনশন।

সিলেটের সহকারী বন সংরক্ষক দাবির মুখে রাতারগুলে প্রকল্পকাজ বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য গঠিত ‘জলা বন সংরক্ষণ কমিটি’ সদস্য সচিব আবদুল করিম কিম বলেন, দাবি না মানলে আমরা আমরন অনশন করে দাবি আদায়ে বাধ্য করতাম।

দেরিতে হলেও বন বিভাগের বোধদয় হওয়ায় পরিবেশাবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে বন বিভাগকে ধন্যবাদ জানান তারা।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে অবস্থিত রাতারগুল বাংলাদেশের সমৃদ্ধ জলা বন (সোয়াম্প ফরেস্ট)। নদী ও হাওর বেষ্টিত ৫০৪ দশমিক ৫০ একর আয়াতনের পুরো এলাকা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পরিচিতি হয়ে উঠলে বন বিভাগ প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যান পরিকল্পনায় রাতারগুলে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, বিশ্রামাগার ও রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনা শুরু করে।

সংরক্ষিত বন এলাকায় অবকাঠামোগত স্থাপনা নির্মাণে বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে জানিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বন বিভাগের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপত্তি তোলে। পরিবেশবাদী ও নাগরিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘রাতারগুল জলা বন সংরক্ষণ কমিটি’।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বন বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রবেশ মুখের রাস্তায় বসে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অনশন শুরু করে।

‘বনকে বনের মতো থাকতে দাও’ এ আহ্বান সংবলিত সিলেটের পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি, পরিবেশবাদী সংগঠনসহ সামাজিক সংগঠনের নেতারাও একাত্ম হন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংগঠন ‘গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি’, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রাধিকার’, মুক্ত চিন্তার সংগঠন ‘নিনাই’ ও সিলেট কল্যাণ সংস্থার নেতারা অবস্থান কর্মসূচিতে একাত্ম হন।

টানা কর্মসূচি চলাকালে জলা বন সংরক্ষণ কমিটির পক্ষে মোহাম্মদ আশরাফুল কবীরের নেতৃত্বে রাতারগুল গ্রামবাসীর পক্ষে কয়েকজন প্রতিনিধি একাত্ম প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।

অবস্থান চলাকালে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন অবস্থানস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি অবস্থান গ্রহণকারীদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে আলোচনায় বসার আশ্বাস দিলেও এতে তারা সম্মত হননি।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পকাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া তার একার পক্ষে সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে তার ঢাকায় গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিহিত করা ছাড়া তার কিছুই করার নেই।

এ অবস্থায় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সদস্য সংখ্যা ক্রমে বেড়ে বিকেলে দিকে অনশনে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বেড়ে যায়। অনশনস্থলে মাইক ব্যবহার করে রাতব্যাপী অবস্থান করার প্রস্তুতি শুরু হলে সন্ধ্যার পর বন বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। পরে মাইকে বন বিভাগের পক্ষে সহকারী বন সংরক্ষক প্রকল্পকাজ বন্ধ করার ঘোষণা দেন।

প্রকল্প বন্ধের ঘোষণার পর পরিবেশবাদী সংগঠনের অনশনরতদের নিয়ে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষনিক বৈঠক হয়। বৈঠকে জলা বন সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক লোকমান আহমদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সহসভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট কল্যাণ সংস্থার সভাপতি এহসানুল হক বক্তব্য দেন।

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে