Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২২-২০১২

বিপজ্জনক খেলা থেকে বিরত থাকুন, সরকারকে বিএনপি

বিপজ্জনক খেলা থেকে বিরত থাকুন, সরকারকে বিএনপি
ঢাকা, জানুয়ারি ২২- সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানচেষ্টার ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করে তা প্রকাশের দাবি জানিয়ে বিএনপি বলেছে, এখন পারস্পরিক দোষারোপ করে বক্তব্য দিলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে।

এ নিয়ে বিএনপির দিকে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগের আঙুল তোলার পরদিন রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এই বক্তব্য তুলে ধরেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, “তদন্তাধীন বিষয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাষায় অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে সরকার বিষয়টির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষের আগে সরকার চলমান পরিস্থিতিতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের হীন উদ্দেশ্যে একটি স্পর্শকাতর ঘটনাকে ব্যবহার করতে চাচ্ছে।”

“সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে তারা ঘটনার বিবরণের সঙ্গে বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত করার নির্দেশনা দিয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, অভ্যুত্থান নিয়ে সেনা সদরের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ক্ষমতাসীন দলের চিন্তারই প্রতিফলন।

ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের তদন্ত আদালত কাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে তা জানানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি ফখরুল বলেন, “কিছু যোগাযোগের তথ্য ছাড়া অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার বিশদ কোনো বিবরণও দেওয়া হয়নি। আমরা আশা করবো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সবকিছু পরিষ্কারভাবে জানানো হবে।”

তিনি বলেন, “সংবাদ মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তাকে লগ এরিয়ায় অ্যাটাচমেন্ট করার খবর এসেছে। কিন্তু ওই সংবাদ সম্মেলনে কেবল মাঝ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টায় জড়িত বলে জানানো হয়।”

ফখরুল বলেন, বিএনপি সবসময়েই সাংবিধানিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।

“আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন ও জনগণের শক্তি ও সমর্থনের ওপর ভর করে সরকার গঠনের নীতিতে আস্থাশীল,” বলেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী জানায়, তারা সরকার উৎখাতে ধর্মান্ধ কতিপয় সেনা কর্মকর্তার একটি অভ্যুত্থান পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছেন।

এরপর সরকারি দলের বিভিন্ন নেতা এতে বিএনপি সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিলেও সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ‘শুকরিয়া’ আদায় করে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন।

তিনি বলেন, “ওই ঘটনার সংবাদ প্রচারের পর দেশবাসীর সঙ্গে বিএনপিও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই যে তার অপার অনুগ্রহে রক্তপাত ও সংঘাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং অসামরিক শাসন ও সাংবিধানিক ধারা বজায় রয়েছে।”

গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানোর পর বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “সেনা বাহিনীতে অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার খবর অশনি সঙ্কেত। সেনাবাহিনী যাতে বড় কোনো নীলনকশা ও ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত না হয়, আমরা সেই কামনা করি।”

সেনাঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ভারত- কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজারের এই প্রতিবেদনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “ভারতীয় প্রচার মাধ্যমে বিভিন্ন মতলবি প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে।

“আমাদের আহ্বান, বিভেদ, বিভাজন নয়, ঐক্য ও শৃঙ্খলা এখন সময়ের দাবি। পারস্পরিক দোষারোপ ও ব্লেম গেম আমাদের কাউকেই কোনো সাফল্য এনে দেবে না, বরং পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ওসমান ফারুক, মীর মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, সহসভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী ও খালেদা জিয়ার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান ছিলেন।

‘সেনাবাহিনীকে আওয়ামী লীগই দুর্বল করেছে’

মির্জা ফখরুল তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, “স্বাধীনতার পর রক্ষীবাহিনী গঠন করে সশস্ত্র বাহিনীকে অবহেলার শিকার ও দুর্বল করা হয়েছিল।”

আওয়ামী লীগ সেনা শৃঙ্খলা লংঘনকে বারবার উৎসাহিত করেছে, হীন দলীয় স্বার্থে সশস্ত্র বাহিনীতে বিভেদ-বিভাজন উস্কে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপিকে সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় সমর্থক উল্লেখ করে দলটির মুখপাত্র বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক এই প্রতিরক্ষা বাহিনী দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয়-ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”

সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সব স্তরের প্রতিটি সদস্যের প্রতি তাই আমাদের উদাত্ব আহ্বান, আপনারা যে কোনো মূল্যে ঐক্য, সংহতি, শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।”

তাদের ‘সতর্ক, সচেতন ও সজাগ’ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনো উস্কানির মুখে হঠকারিতা পরিহার করুন। জাতীয় ইতিহাসের এক চরম সন্ধিক্ষণে আমরা উপনীত হয়েছি। কোনো পাতা ফাঁদে পা দেওয়া চলবে না।”

প্রশ্নোত্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টায় বিএনপির সম্পৃক্তার ইঙ্গিতকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, “ঘটনাটি প্রকাশের পর থেকে খোদ প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরাসহ শাসক দলের বিভিন্ন ব্যক্তি এবং ভারতীয় প্রচার-মাধ্যম যেভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অসত্য, বিভ্রান্তিকর, দায়িত্বজ্ঞানহীন, উস্কানিমূলক, আক্রমণাত্মক একতরফা মন্তব্য করে চলেছেন তার জবাব দেওয়া একান্তই প্রয়োজন বলে আমরা এই সংবাদ সম্মেলন করছি।

“একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তদন্তাধীন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি,” যোগ করেন তিনি।

এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের সম্পৃক্ততা আছে কি না জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, “বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাই এরকম নিষিদ্ধ দলের সঙ্গে বিএনপির সর্ম্পক থাকার প্রশ্নই ওঠে না।”

২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার সঙ্গে সেনা অভ্যুত্থানের কোনো সম্পর্ক আছে কি না জানতে চান সাংবাদিকরা। এর জবাবে তিনি বলেন, “দুইটি ঘটনাই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।”

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে