Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯ , ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (60 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-২২-২০১৪

শুকিয়ে থাকা তিস্তায় হু-হু করে পানি বৃদ্ধি

শুকিয়ে থাকা তিস্তায় হু-হু করে পানি বৃদ্ধি

নীলফামারী, ২২ এপ্রিল- দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। শুকিয়ে থাকা তিস্তায় হু-হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নব যৌবনে ফিরে আসছে তিস্তা। নদীজুড়ে চলছে স্রোত ধারা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় তিস্তায় উজানের পানি প্রবাহের গড় ছিল ৩ হাজার ৬ কিউসেক। বেলা ৩টায় এটি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিউসেকে পৌঁছে। তিস্তার ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকায় কৃষকরা ভরপুর পানি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে দেখা যায় উজান থেকে তিস্তা নদী বাংলাদেশের প্রবেশ পথ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ জিরো পয়েন্টে দিয়ে স্রোতধারায় হু-হু করে পানি আসছে। যা দ্রুত প্রবাহে চলে যাচ্ছে ভাটির দিকে। গত কয়েক দিন আগেও নদীর বুকে যে ধু-ধু বালুচর দেখা গেছিল, তা যেন নিমিষেই নদীর পানিতে চাপা পড়ে যাচ্ছে। নদীর কুল কিনারা ভরে উঠছে ধীরে ধীরে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গত ২৫ দিনে তিস্তার পানি কমতে কমতে দাঁড়িয়েছিল ৫০০ থেকে ৩০০ কিউসেকে। অথচ এ নদীতে স্বাভাবিকভাবে গড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার কিউসেক পানি থাকা প্রয়োজন। গত ১৩ এপ্রিল থেকে ব্যারেজ পয়েন্টে পানি বাড়তে শুরু করে পানির পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার কিউসেক থেকে ১ হাজার ২শত কিউসেকে। এ অবস্থা চলে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর রবিবার পানি নেমে আসে ৬৮৮ কিউসেকে। সোমবার সেই পানি ১৪২ কিউসেক বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৮৩০ কিউসেকে। মঙ্গলবার তিস্তার পানি ২ হাজার ১৭৬ কিউসেক বৃদ্ধি পেয়ে দুপুর ১২টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলিক বিভাগ জানায় ৩ হাজার ৬ কিউসেক। বেলা ৩টায় সেই পানি আবার বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৩ হাজার কিউসেকে। ধারণা করা হচ্ছে তিস্তার পানি যে কোন সময় ৫ হাজার কিউসেকে এসে পৌঁছতে পারে। হঠাৎ করে তিস্তার পানি হু-হু করে বৃদ্ধির বিষয়টি অবাক করে দিয়েছে তিস্তাপাড়ের মানুষজনকে।

পূর্ব ছাতনাই গ্রামের হারুন-অর রশিদ জানায়, ২১ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ শুনতে পাই তিস্তা নদী থেকে ক্ষেতের শব্দ ভেসে আসছে। অবাক হয়ে ছুটে যাই নদীর পাড়ে। দেখতে পাই উজান থেকে তিস্তার পানি শোঁ-শোঁ শব্দে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

তিস্তাপাড়ের ভাষানীর চরের মাঝি মফিজার রহমান (৪২) বললেন, ভারত হয়তো তাদের গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেয়ায় পানির জোয়ার বেড়ে গেছে। তিস্তা সেচ ক্যানেলের ধারে নাউতরা গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন ( ৪৩) জানায়, হঠাৎ আজ তিস্তা সেচখাল পানিতে ভরে গেছে। পানি পেয়ে ধানের ক্ষেতগুলো তরতাজা হয়ে ফুটে উঠেছে। তিস্তার সেচে ফলন ভাল হয়।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান বলেন, তিস্তা নদীর পানি এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তিস্তায় পানি প্রবাহ ছিল ৩ হাজার ৬ কিউসেক। সেটি আবার বিকাল ৩টায় বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কিউসেকে। ধারনা করা হচ্ছে তিস্তা নদীতে যে হারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে পানি প্রবাহ ৫ হাজার কিউসেকে দাঁড়াতে পারে।

তিনি জানান এবার মৌসুমে ৬০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়। কিন্তু সেচ দেয়া যায় ৪০ হাজার ৫০০ হেক্টরে। তিনি বলেন গত ১৩ এপ্রিল থেকে তিস্তায় পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে দেড় হাজার কিউসেকের উপরে চলে যায়। আজ মঙ্গলবার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার কিউসেকের উপরে চলে যাওয়ায় সেচখাল গুলো ভরিয়ে দেয়া হয়েছে।

নীলফামারী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে