Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯ , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-২১-২০১৪

‘ইমরান খানকে দরকার নেই, দুই মেয়েই ভিড় টানবে’

‘ইমরান খানকে দরকার নেই, দুই মেয়েই ভিড় টানবে’

মা সুচিত্রা সেনের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সুচিত্রা তনয়া মুনমুন। এমনকী, শরীর এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে মুনমুনের দুই মেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে। সে সময় অভিভাবকের মত হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক প্রধান হয়ে নয়, দিদির মতই। শুধু সুচিত্রা সেনের শেষকৃত্য সম্পন্নই নয়, তার পরেও টেলিফোনে ও সশরীরের নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বর্মা পরিবারের সঙ্গে। সেই ‘দিদি’ যখন বাঁকুড়ায় তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে লোকসভা ভোটে দাঁড়াতে বললেন, তখন আর দ্বিতীয়বার ভাবেননি। ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছেন। মুনমুন সেন, যার আসল নাম প্রায় ভুলতেই বসেছিল বাঙালি, কমিশনের গেরোয় দেওয়াল লিখনে ফিরে এসেছেন শ্রীমতি দেব বর্মা হয়ে। বাঁকুড়ার গরমের সঙ্গে দিনভর লড়াইয়ের পর, স্বামী ভরত দেব বর্মা ও দুই মেয়ে রিয়া-রাইমা ও নিজের দুই রাজনৈতিক ‘গুরু’কে পাশে বসিয়ে কেন্দুয়াডিহির বাড়িতে বসে একান্তে কথার ঝুলি খুলে বসলেন এক প্রতিনিধির সঙ্গে।

মুনমুন: সরি সরি। অনেকটা দেরি করে ফেললাম। দেখছেন তো। কত মিডিয়া সারাদিন ধরে অপেক্ষা করে রয়েছে (গলার আওয়াজ একদম সিনেমায় যেরকম লাগে, ততটাই হাস্কি)। তাই একে একে সবার আবদারই রাখতে(মুখে সেই ট্রেডমার্ক দুষ্টুমির হাসি) হচ্ছে। আমার বাংলাটা কিন্তু খুব একটা সাবলীল নয়। একটু ভুলত্রুটি হলে শুধরে নেবেন প্লিজ। আর একটা কথা, ( এবার একটু কাছে ঘেঁষে এসে, কিশোরীর মত দু’হাত দিয়ে এই প্রতিনিধির হাত দুটো ধরে) আমি রাজনীতিতে একদম নতুন ভাই। সব কথা গুছিয়ে বলে পারি না। সব জানিও না ভাল করে। আপনারা একটু দেখবেন প্লিজ।

প্রতিনিধি: বাঁকুড়ার মত এলাকায় আপনার মত লরেটো কনভেন্টে পড়া ছাত্রী। এখানে সংখ্যালঘু মানুষ বেশি। মানিয়ে নিতে অসুবিধে হবে না?

মুনমুন: দেখুন আমি রাজনীতিতে নতুন হতে পারি। কিন্তু বাঁকুড়ায় আমি বহুবার এসেছি। মুকুটমনিপুরে আমি বাংলা সিনেমার শুটিং করেছি। গরম-রোদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে জানি।

প্রতিনিধি: সাংসদ হলে প্রথমেই কি করবেন?
মুনমুন: আমি এই জেলার পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। কত ভাল ভাল টুরিস্ট স্পট হতে পারত এখানে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি এতদিন।

প্রতিনিধি: বলেন কী? জানেন তো আপনার বিরোধী প্রার্থী বাসুদেব আচারিয়া গত ন’বারের বিজয়ী সাংসদ। এমনকী, ২০০৯ তে আপনার একসময়ের সহ অভিনেতা ও তৃণমূলের হেভিওয়েট সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মত রাজনীতিবিদকেও লক্ষাধিক ভোটে হারিয়েছেন?

মুনমুন: বাবাহ! ভালই হোমওয়ার্ক সেরে এসেছেন দেখছি(মুচকি হাসি)। হ্যাঁ, আমি জানি উনি(বাসুদেব আচারিয়া) পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ। কিন্তু আপনি তো এই এলাকারই ছেলে। বলুন তো, গত ন’বার জিতে উনি কি করেছেন? বাঁকুড়ায় জলের এত কষ্ট। দিদি ক্ষমতায় আসার পর ১১০০ কোটি টাকা খরচ করে এলাকার মানুষের জলকষ্ট মেটাতে প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু তাঁকে তো সময় দিতে হবে। মাত্র আড়াই বছর বয়স এই সরকারের।

প্রতিনিধি:  ইন্টারভিউ শুরুর সময় বললেন, আপনি নাকি রাজনীতিবিদ নন, আপনার কথাগুলো শুনলে কিন্তু মনে  হচ্ছে না আপনি প্রথম ভোটে দাঁড়ালেন।

মুনমুন: (এবার একগাল হেসে) আসলে এর পুরো ক্রেডিট আমার দুই স্যারের।(বলেই পাশে বসে থাকা বাঁকুড়া জেলার তৃণমূলের সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী ও জেলা সভাপতি অরূপ খাঁয়ের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন) ওঁরা দুজন আমাকে প্রচুর ক্লাস করাচ্ছেন। আমার গলার জোর হয়ত বেশি নেই। কিন্তু আমি কথা বলতে এসেছি মানুষের কাছে। (এবার দুই ‘স্যার’ কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, মুনমুন তাঁদের থামিয়ে) আমাকে বলতে দিন প্লিজ( আবদারের সুরে)। হ্যাঁ ভাই বলুন।

প্রতিনিধি: একটু ব্যক্তিগত প্রশ্নে আসি। ইমরান খানের সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতার কথা শোনা যায়। উনিও একজন আন্তর্জাতিক আইকন। নিজের ভোটের প্রচারে তাঁকে আসতে বললেন না কী?

মুনমুন: (এবার কি চোয়াল একটু শক্ত হল?) আমার দুই মেয়ে রিয়া-রাইমা যথেষ্ট ভিড় টানতে পারে। আমার দুই মেয়ে ও স্বামী পাশে থাকলে আমার আর কাউকে লাগবে না। রিয়া আর রাইমা আমার সঙ্গে সারাদিন ঘুরে যাচ্ছে একটানা। কী? বলো এবার।(দুই মেয়ের দিকে ইঙ্গিত করে)

প্রতিনিধি: ক্লিশে প্রশ্নটাই করি, কেমন লাগছে বাঁকুড়ার গরম?

রাইমা: দেখুন আমাদের মত ফিল্ম অ্যাক্টরদের রোদ-জল-লোহা-কাঠ-গরমের মধ্যে কাজ করতে হয়। গরম সহ্য করার অভ্যাস রয়েছে আমাদের। আর মাঠে যখন নেমেছি, তখন সব জেনেই নেমেছি।

রিয়া: (এতক্ষণ হাতের অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে ঘাঁটছিলেন, এবার হঠাৎ বলতে হবে বলে একটু থামলেন) মেজিয়া বলে একটা জায়গায় প্রচারে গিয়েছিলাম আমরা মায়ের সঙ্গে। উফ, কত লোক। সো মাচ পিপল গ্যাদারিং টুগেদর টু সি মম। আমাদের জিপের সামনে পিছনে শুধু মানুষের মাথা। সত্যিই বলতে কি,  আই অ্যাম সো এক্সাইটেড। এত লোক একসঙ্গে দেখিনি। কত ফুল পেলাম(নায়িকাসুলভ হাসি)।

প্রতিনিধি: সময় দিদার কথা মনে পড়ছিল?

রাইমা: সত্যি বলব? সেই সময় না আই অ্যাম জাস্ট আউট অফ মাই মাইন্ড, দিদার কথা মাথাতেই ছিল না।

মুনমুন: (বিতর্ক হতে পারে ভেবেই কী মেয়েকে থামিয়ে বললেন) আসলে সুচিত্রা সেন আমাদের সঙ্গে রয়েছেন সবসময়। মায়ের কথা বলেই আমি মানুষের কাছে যাব। ভোট চাইব।

প্রতিনিধি: ভোটে জিতলে মাকে কী আইডিয়া দেবে?

রাইমা: (এবার একটু সাবধানী) মাকে আইডিয়া দেওয়ার কিছু নেই। আমার মা যথেষ্ট প্রাজ্ঞ।

রিয়া: এখানকার মেয়েদের স্বনির্ভর করতে বলব। মেয়েদের হাতে তৈরি করা আচার-জেলি যদি শহরের কোনও কর্পোরেট কোম্পানির সঙ্গে টাই আপ করিয়ে বাজারে বিক্রি করা যায় তো খুব ভাল হয়।

ইন্টারভিউয়ের জন্য বরাদ্দ সময় শেষ। সামনে রাখা রেকর্ডার বন্ধ করলাম। চা খাওয়া চলছিল কথা বলার ফাঁকে ফাঁকেই। এবার আবার একটু কাছে সরে এলেন মুনমুন সেন। গলার আওয়াজে ফের সেই ‘হাস্কিনেস’। বললেন, যদি পরে কখনও কিছু জানতে চাই, বলবেন তো? আপনি তো এলাকার ছেলে। পরামর্শ চাইলে দেবেন তো? বলতেই হল, দেব। আপনার জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল, বললেন এই প্রতিবেদক।

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে