Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (29 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২১-২০১২

ভিন্ন পথে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ: প্রধানমন্ত্রী

ভিন্ন পথে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা, ২১ জানুয়ারি: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, “ভিন্ন পথ খুঁজে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রক্রিয়া বাংলাদেশে আর হবে না।”
তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া বলেছিলেন ডিসেম্বরের পর সরকার আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এখন এর অর্থ বোঝা গেল। সেই লক্ষণই এখন দেখা যাচ্ছে।”
জনগণ তাকে (খালেদা জিয়া) ভোট দেবে না বুঝতে পেরেই তিনি এসব করছেন বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তাদের এ আলটিমেটাম আর সেনাবাহিনীতে ব্যর্থ ষড়যন্ত্র বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, তারা কি করতে চেয়েছিলেন।

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডিসেম্বর মাস আমাদের বিজয়ের মাস। সে আমাদের নির্বাচিত সরকার পতনের সময় বেধে দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে বাঁচাতে তিনি আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন। পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছেন। যে কারণেই তার আল্টিমেটাম।’’

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায়  রাখতে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি দেন। পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে যা বলার সংসদে এসে বলুন।”

সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করায় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সময়মতো ষড়যন্ত্র ধরতে পেরে সেনাবাহিনী তারাও বেঁচে গেছে,  দেশও বেঁচে গেছে। কোনো কিছু হলে সেনাবাহিনীই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মন্তব্য করেন তিনি। ৭৫ এর পর যতগুলো ঘটনা ঘটেছে তার প্রত্যকেটাতেই সামরিক বাহিনীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। সেনাবাহিনীর কাঁধে বন্দুক রেখে যারা ক্ষমতায় এসেছে নিজেকে রাষ্ট্রপতি পরিচয় দিয়েছে, তারাই বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে গিয়ে হত্যা, অভ্যুত্থান করে সেনাবাহিনীর ক্ষতি করেছে। তিনি বিভিন্ন জনকে ফাঁসি দিয়েছেন। ফাঁসির আদেশে সই না করলে জিয়া সকালে নাস্তাও করতে না বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, “হত্যার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছিলেন। এ সময় তিনি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, যদিও তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিন্তু ক্ষমতা গিয়ে তিনি কারাবন্দি ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধীকে মুক্তি দেন। স্বাধীনতার চেতনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য নষ্ট করে একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের মন্ত্রিসভার সদস্য বানান। তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও যখন রাজনীতিতে আসেন তখন তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের মন্ত্রী বানিয়েছেন। স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করাই তাদের আদর্শ ও নীতি বিশ্বাস।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস আওয়ামী লীগের উপর আছে। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। জনগণের সম্পদ লুটে নিয়ে নিজেদের আখের আওয়ামী লীগ গোছায় না।  বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে নির্দেশ প্রদান করেন।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করেছি। এ কারণে বর্তমান সরকারের আমলে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উপ-নির্বাচনসহ যতগুলো নির্বাচন করেছে সবই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা নির্বাচনে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করিনি। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করেছে। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের নির্বাচনী নীতি ছিল ‘দশটা হুন্ডা, বিশটা গুন্ডা আর নির্বাচন ঠাণ্ডা’। বাংলাদেশে এখন তা আর চলবে না। ভোটের মালিক জনগণ। জনগণের ভোটাধিকার আমরা নিশ্চিত করেছি। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ঢাকা উপনির্বাচনে যেসব কান্ড হয়েছিল জনগণ তা ভুলে যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের গত তিন বছরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের মানুষ কিছু পায়। বিশ্বমন্দার পরেও আমরা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করেছি। আর বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে দেশের মানুষকে লুটেপুটে খেতে, দুর্নীতি করে বিদেশে অর্থ পাচার করতে। দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, বোমাবাজী, জঙ্গিবাদ, শোষণ আর দেশের মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতন এটাই তিন ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নীতি। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে তারা দেশের মানুষের জন্য কিছু করেনি। সরকারি কাজ হলো জনগণের সেবা করা-এটা আমরা নিশ্চিত করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে আরো ২০/২৫ বছর আগেই দেশ সমৃদ্ধ হতো, থাকতো না কোনো দারিদ্র্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে মডেল হতো বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর পবিত্র সংবিধানকে সঙ্গীনের খোচায় ক্ষত-বিক্ষত করে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে