Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২১-২০১২

সংসদে না গেলে পদ হারাবেন বিএনপির এমপিরা

সাজিদুল হক সাজু


সংসদে না গেলে পদ হারাবেন বিএনপির এমপিরা
সংসদ সদস্য পদ টিকিয়ে রাখতে হলে এবার অধিবেশনে যোগ দিতেই হবে বিএনপিকে। আগামী ২৫ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের ১২তম অধিবেশনে যোগ না দিলে চারদলীয় জোটের এমপিরা তো বটেই, খোদ বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়াও চরম বিপাকে পড়বেন।

শীতকালীন এ অধিবেশন ৩৭ কার্যদিবস চললেই সংসদ সদস্য পদ টিকিয়ে রাখা না রাখার প্রশ্নে কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়তে হবে তাদের।

এর আগে ২০১১ সালের প্রথম অর্থাৎ চলতি নবম জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশন ৩৩ কার্যদিবস চলেছিলো।

এদিকে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়া নিয়ে এখনো সরাসরি কিছু না বললেও বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে দলের পক্ষ থেকে দলীয় সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির হিসাব তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য চিঠিও পাঠানো হবে।
 
অবশ্য এ বিষয়ে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা এখনও সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেইনি। আগের সিদ্ধান্তই এখনও বহাল রয়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের বিল আনা হলে বিএনপি সংসদে যাবে।’

এদিকে দলের এক সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে জানান, সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অধিবেশনের মেয়াদের ওপর নির্ভর করছে। মেয়াদ বেশি হলে বিএনপিকে সংসদে যেতে হবে। এদিকে অপর এক দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অধিবেশনের মেয়াদ ৩০ দিনের কম হলেও বিএনপি এ ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেবে না।

সংবিধানের ৭৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বছরের এ উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। তার ভাষণের ওপর দীর্ঘ আলোচনা হবে।

হিসেব কষে দেখা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (ফেনী-১) টানা ৫৩ কার্যবিদস সংসদে অনুপস্থিত রয়েছেন। নবম জাতীয় সংসদে মাত্র ছয় কার্যদিবস উপস্থিত ছিলেন তিনি।

নবম জাতীয় সংসদের সর্বশেষ একাদশ অধিবেশন পর্যন্ত কার্যদিবস ছিল ২৫৪টি। এর মধ্যে ৪০ কার্যদিবসও উপস্থিত ছিলেন না বিরোধী দলের অন্তত ২৫ জন সংসদ সদস্য। বিএনপিদলীয় এসব সদস্য আর ৩৭ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে সদস্য পদ হারাবেন।

গত ২৪ মার্চ অষ্টম অধিবেশনের শেষ কার্যদিবসে চারদলীয় জোটের অধিকাংশ সদস্য সংসদে গিয়েছিলেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মতোই ৫৩ কার্যবিদস সংসদে অনুপস্থিত রয়েছেন কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদ (কুমিল্লা-৩) ও মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন (ফেনী-৩)।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ৯০ কার্যদিবসেরও বেশি সংসদে অনুপস্থিত রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে তিনি কারাগারে থাকায় স্পিকারের কাছে আগেই বিষয়টি জানিয়ে আবেদন করেন। সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের অনুমতি ছাড়া টানা ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ চলে যাওয়ার বিধান রয়েছে।

এদিকে বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংসদে গেছেন আবুল খায়ের ভূঁইয়া (লক্ষ্মীপুর-২)।

খালেদা জিয়ার পর (৬ কার্যদিবস) পর শেখ সুজাত আলী মিয়া (হবিগঞ্জ-১) সাত কার্যদিবস সংসদে উপস্থিত ছিলেন। কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ উপস্থিত ছিলেন ১১ কার্যদিবস। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-২), বরকত উল্লাহ বুলু (নোয়াখালী-৩) ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন (ফেনী-৩) ১৮ কার্যদিবস সংসদে গেছেন।

এ ছাড়া মোস্তফা কামাল পাশা (চট্টগ্রাম-১৬) ২১, সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার (বগুড়া-৬) ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ (বগুড়া-৭) প্রত্যেকে ২৪ কার্যদিবস সংসদে গেছেন।

মুজিবর রহমান সরোয়ার (বরিশাল-৫) ২৫, মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ (বরিশাল-৪) ২৬, একেএম হাফিজুর রহমান (বগুড়া-২) ৩২, আবদুল মোমিন তালুকদার (বগুড়া-৩) ৩৩ ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু (খুলনা-২) ৩৪ কার্যদিবস সংসদে অংশগ্রহণ করেন।

লুৎফুর রহমান (কক্সাজার-৩) ৩৫ কার্যদিবস সংসদে গেছেন। হারুনুর রশিদ (চাঁদপুর-৪) ও আমজাদ হোসেন (মেহেরপুর-২) প্রত্যেকে ৩৭, গোলাম মোস্তফা (জয়পুরহাট-২), জেড আই এম মোস্তফা আলী (বগুড়া-৪), এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (লক্ষ্মীপুর-৪) প্রত্যেকে গেছেন ৩৮ কার্যদিবস। হাসিনা আহমেদ (কক্সবাজার-১) ৩৯, রোমানা মাহমুদ (সিরাজগঞ্জ-২) ৪০, মোজাহার আলী প্রধান (জয়পুরহাট-১) ও নাজিমউদ্দিন আহমেদ (লক্ষ্মীপুর- ১) প্রত্যেকে ৪১ ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন (নোয়াখালী-১) ৪২ কার্যদিবস উপস্থিত ছিলেন।

এম কে আনোয়ার (কুমিল্লা-২), বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২) ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী  (লক্ষ্মীপুর-৩) প্রত্যেকে ৪৪ কার্যদিবস সংসদে গেছেন।

জয়নুল আবদিন (ফেনী-২) ৪৭ ও জাফরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫) সংসদে উপস্থিত ছিলেন ৪৮ কার্যদিবস।

এছাড়া সংরক্ষিত আসনের নিলোফার চৌধুরী মনি ও রেহানা আক্তার রানু ৩৬, শাম্মী আক্তার ৩৫, সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া ৩২, রাশেদা বেগম হীরা ৩১ কার্যদিবস সংসদে গেছেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে