Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯ , ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.1/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৯-২০১৪

মাতৃত্ববোধের কাছে অসহায় ন্যায়বিচার

মাতৃত্ববোধের কাছে অসহায় ন্যায়বিচার

তেহরান, ১৯ এপ্রিল- সময় তখন থেমে আছে। নিঃশ্বাস আটকে থমকে দাঁড়িয়ে আছে চারপাশের মানুষ। পায়ের নিচ থেকে চেয়ার সরিয়ে দেয়া মাত্র মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত খুনি চলে যাবে সবুজ পৃথিবী ছেড়ে। রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। এই তো বুঝি সরে যাচ্ছে চেয়ারটি!

পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ‘মা’। আর সহ্য করতে পারলেন না তিনি। দৌঁড়ে গিয়ে ছেলের খুনির গালে একটি চড় দিয়ে ক্ষমা করে দিলেন খুনিকে। ‘বাবা’ খুলে দিলেন খুনির গলায় পেঁচানো দড়ি। তারপর দুজনেই হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। মায়ের মাতৃত্ববোধের কাছে হেরে গেলো বিচার।

ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় মাজানদারান প্রদেশের রায়ান শহরে ক্ষমার এমন বিরল দৃষ্টান্ত দেখালেন এই ‘মা’। স্থানীয় আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় এই কাণ্ড ঘটান তিনি।

ঘটনার শুরু সাত বছর আগে। তুচ্ছ ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী আবদুল্লাহ হোসেইনজাদেহকে ছুরিকাঘাত করে খুন করে তারই বন্ধু ২০ বছর বয়সী বেলাল। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ছয় বছর ধরে বিচার চলার পর সম্প্রতি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।

ইসলামি শরিয়া আইন অনুযায়ী, খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নিহতের বাবা-মা উপস্থিত থেকে পায়ের নিচ থেকে চেয়ার সরানোর কথা তাদের।

কিন্তু এরপরই ঘটলো একেবারেই বিরল ঘটনা। শেষ মুহূর্তে ছেলের খুনিকে শুধুমাত্র চড় মেরে ক্ষমা করে দিলেন মা। আর বাবা খুলে দিলেন ফাঁসির দড়ি।

ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, বেলালের গলা থেকে ফাঁসির দড়ি খোলার পর হাউমাউ করে কাঁদছেন আবদুল্লাহর মা। আর দৌঁড়ে গিয়ে বেলালকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন বেলালের মা। একজন কাঁদছিলেন ছেলে হারানোর শোকে, আরেকজন ছেলের প্রাণ বেঁচে যাওয়ার আনন্দে!

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে