Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৯ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২১-২০১২

টাইম ম্যাগাজিনের রিপোর্ট, বাংলাদেশের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের নেপথ্যে সহিংসতার ইতিহাস

টাইম ম্যাগাজিনের রিপোর্ট, বাংলাদেশের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের নেপথ্যে সহিংসতার ইতিহাস
শনিবার, ২১ জানুয়ারী-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের তিন বছরের শাসনকালে তার দল ও ইসলামভাবাপন্ন বিএনপির মধ্যে যে ঝগড়া ও শত্রুতা সবসময় ছিল তা আগের অবস্থায়ই আছে। বিশ্ব রাজনীতিতে ঘৃণা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখানেই সবচেয়ে বেশি। বিরোধীরা এবং সমালোচকরা অভিযোগ করেন, সরকার ভিন্ন মতাবলম্বী ও ইসলামপন্থিদের দমন করছে। এ ইসলামপন্থিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সম্পর্ক অস্বাভাবিক পর্যায়ে। সারাবিশ্বে সুপরিচিত টাইম ম্যাগাজিনে ‘বিহাইন্ড বাংলাদেশজ ফেইল্ড কু প্লট: এ হিস্ট্রি অব ভায়োলেন্স’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছেন ইশান ঠারুর। এতে বাংলাদেশের সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মইন উ আহমেদ সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন। বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মতো নয়, তারা অধিক গণতান্ত্রিক বোধসম্পন্ন। ইশান ঠারুর লিখেছেন- বিস্ময়ের কিছু নেই যে, কিছু রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী জিহাদি গ্রুপ হিজবুত তাহরির বাংলাদেশের সর্বশেষ এ সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত। এ সুবিধা নিয়ে শেখ হাসিনা ও তার মিত্ররা অধিক ধর্মীয় বিরোধীদের দমন করতে পারেন। ইশান ঠারুর ওই প্রতিবেদনে লিখেছেন- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৯শে জানুয়ারি ঘোষণা করেছে, তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের একটি সামরিক অভ্যুত্থান পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র এ হীন প্রচেষ্টায় কট্টর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি আছে এমন মধ্যম-পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা জড়িত বলে জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে একই রকম স্বার্থবাদী বিদেশী একটি নেটওয়ার্কও কাজ করেছে বলে জানানো হয়েছে। এখনও এর বিস্তারিত বলা হয়নি। কিন্তু সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কমপক্ষে দু’কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় আরও এক ডজন ব্যক্তি জড়িত বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যম সারির একজন সেনা কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন। সন্দেহভাজন আরেক ষড়যন্ত্রকারী হংকং রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে সেনাবাহিনীর তদন্তে আরও দোষী ও সন্দেহভাজনের নাম বেরিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থান নতুন কোন বিষয় নয়। এখানে এ যাবৎ তিনটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছরে এখানে অনেকগুলো সামরিক বিদ্রোহ হয়েছে। দীর্ঘ সময় সেনাশাসন স্থায়ী ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সেনা শাসকগোষ্ঠী (ধ পধৎবঃধশবৎ সরষরঃধৎু ৎবমরসব) বাংলাদেশে সর্বশেষ হস্তক্ষেপ করে। বাংলাদেশে তাদের বিশৃঙ্খল (কেউ কেউ বলেন অকার্যকর) গণতান্ত্রিক শাসনের ২ বছর পর ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসেন। এর এক বছর আগে আমি বাংলাদেশের তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি যে রক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন তা নিয়ে সতর্কতামূলক একটি লেখাও লিখেছিলাম। তিনি মৃদুভাষী ও বিনয়ী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া- এ দু’জনের স্বভাবের নিন্দা জানালেন তিনি। এখনও দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে দু’টি দেশে যা এক সময় পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান ছিল- তাদের রয়েছে সামরিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে দীর্ঘ ইতিহাস। মনে করা হয়, ওইসব সামরিক ব্যক্তিত্ব জানেন, তাদের দেশবাসীর জন্য সবচেয়ে ভাল কি হতে পারে। তারপর আমি লিখেছিলাম-
গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে মইন বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন বাংলাদেশে কার্যকর নেতা বানানোর আলোচনায়। একই সঙ্গে তিনি দেশের বেশির ভাগ অশিক্ষিত সমাজকে শিখাতে থাকেন যে তাদের নিজেদের পা কেটে ফেলা উচিত নয়। কোন ব্যক্তি যদি তার দেশে নিজে ত্রাণকর্তা হতে চান তাহলে তার মুখে এমন কথা মানায়। তিনি আরও বলেছিলেন- একটি দেশের জনগণ যে ধরনের নেতা নির্বাচন করেন সেসব নেতার ধরন দেখে আপনি একটি জাতির বিচার করতে পারেন তারা কেমন। যখন সে সুযোগ পাবেন তখন বেশির ভাগ বাংলাদেশীই বিস্মিত হবেন।
হ্যাঁ, তারা সে সুযোগ পেয়েছিল এবং জেনারেল (অব.) মইনের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এ নির্বাচনের প্রশংসা করে একে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী একটি সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মতো নয়, তাদের চেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগই সাংবিধানিক রাজনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ, মধ্য-বামপন্থি দল। এই দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আদর্শ ধারক। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক সফলতায় আশা করা হয়েছিল দেশটি এবার শেষবারের মতো মতবিরোধ ও রক্তপাতের ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু সর্বশেষ যে খবর পাওয়া গেছে তাতে অতীতের ঐতিহাসিক বিষয়গুলোকে আর ভুলে যাওয়া অধ্যায়ে রাখা যাবে না। এতে আরও উদ্বেগ বাড়ছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাস পরেই ঢাকায় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর সদর দপ্তরে একটি বিদ্রোহ হয়। তাতে ৭০ জনের বেশি সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৮০০ ব্যক্তিত্বের (বর্তমানের বর্ডার গার্ডস অব বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের বা জওয়ানদের বোঝানো হয়েছে) বিচার চলছে। ওই বিদ্রোহের ঘটনায় বাংলাদেশের বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছিল। অধিকন্তু, শেখ হাসিনার সরকারের তিন বছরের শাসনকালে তার দল ও ইসলামভাবাপন্ন বিএনপির মধ্যে যে ঝগড়া ও শত্রুতা সবসময়ে ছিল তা আগের অবস্থায়ই আছে। বিশ্ব রাজনীতিতে ঘৃণা ও জিরো-সাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখানেই সবচেয়ে বেশি। বিরোধীরা এবং সমালোচকরা অভিযোগ করেন, ভিন্নমতাবলম্বী ও ইসলামপন্থিদের দমন করছে সরকার। এ ইসলামপন্থিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সম্পর্ক অস্বাভাবিক পর্যায়ে। ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানিদের দখলদারিত্ব থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে যে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল তাতে যে সব নৃশংসতা হয়েছে তার বিচারে মাইলফলক যুদ্ধ অপরাধ আদালত তদন্ত করছে। এতে শেখ হাসিনার প্রধান শত্রু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েক জন নেতার বিচার হচ্ছে। বিস্ময়ের কিছু নেই যে, কিছু রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী জিহাদি গ্রুপ হিজবুত তাহরির বাংলাদেশের সর্বশেষ এ সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত। এ সুবিধা নিয়ে শেখ হাসিনা ও তার মিত্ররা অধিক ধর্মীয় বিরোধীদের দমন করতে পারেন। অভ্যুত্থানের বিষয়ে সেনাবাহিনী টের পাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের কর্মকর্তারা প্রশংসা করেছেন। তারা বলেছেন, এটা পুরো দেশের বিজয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন- এ ষড়যন্ত্র চেষ্টার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। বাংলাদেশে তাদের জায়গা হবে না। আমাদের মতের অমিল থাকতে পারে কিন্তু গণতন্ত্রের বেলায় আমাদের কোন ভিন্নমত নেই। তাই সবারই দায়িত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষা করা। এটা শুধু সরকার একার কাজ নয়, সবারই দায়িত্ব দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করা। এ গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশের কোন ভবিষ্যত নেই।
যেহেতু তদন্ত চলছে এবং ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমাদের ধারণা নিবিড় হচ্ছে- আমরা আরও ভাল করে বুঝতে চেষ্টা করবো ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের গণতন্ত্রের প্রতি প্রকৃতপক্ষে কি ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছিল। কমপক্ষে শুধু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নন, অনেক বাংলাদেশীর কাছে সামপ্রতিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার স্মৃতি একেবারে তরতাজা। ১৯৭৫ সালে বিদ্রোহকারী সেনারা শেখ হাসিনরা পিতা তখনকার বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে হানা দেয় এবং ভোরের ক্ষীণ আলোতে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যা করে। পর্যটকরা এখনও তার সেই বাসভবন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন করেন বাড়িটির দেয়ালে বুলেটের গর্ত। শেখ মুজিব যেখানে নিহত হয়েছিলের তা একটি কাঁচ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এটা বাংলাদেশীদের কাছে আবেগের এক জাদুঘরে পরিণত হয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে