Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০ , ১৭ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-১৯-২০১৪

হোমনার বাঁশির সুরে মুখর দেশ

হোমনার বাঁশির সুরে মুখর দেশ

কুমিল্লা, ১৯ এপ্রিল- বাঁশি! এশিয়া উপমহাদেশের সংগীতের ইতিহাস জুড়ে মিশে রয়েছে ঐহিত্যবাহী এই বাদ্য উপকরণ।

বাঁশির মোহনীয় সুরে মাতোয়ারা কিংবা আনমনা হয়ে ওঠেন না এমন নারী-পুরুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

চৈত্রের পড়ন্ত বেলায় কিংবা উদাস দুপুরে রাখালের বাঁশির সুর আবহমান বাংলার এক কিংবদন্তী।

আর বাংলা পঞ্জিকায় নববর্ষ এলে বাঁশিময় হয়ে সারা বাংলা। এসময় শিশু থেকে শুরু সব বয়সীদের হাতে থাকে বাহারি বাঁশি।

চিরায়ত এ ঐহিত্য সংরক্ষণে কুমিল্লার হোমনার শ্রীমদ্দি এলাকার পরিচিতি রয়েছে দেশের গণ্ডী ছাড়িয়ে বিদেশেও। হোমনায় খ্যাতনামা কোনো বাঁশরিয়া না থাকলেও রয়েছেন অসংখ্য বাঁশির কারিগর। যাদের হাতে তৈরি বাঁশিতে সুর তুলে খ্যাতিমান হয়েছেন অনেকে।

যুগের পর যুগ বাঁশি তৈরি করে আসছে হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের চণ্ডালকান্দি এলাকার কারিগররা। তাদের নিপুণ হাতে তৈরি বাঁশের বাঁশির কদর রয়েছে দেশ-বিদেশে। বৈশাখ এলে এই বাঁশির কদর বেড়ে যায় বহুগুণ।

বৈশাখ আসার আগেই বসন্তের শুরুতে ফাগুনের কোকিল ডাকা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি কর্মব্যস্ত সময় পার করেন চণ্ডালকান্দির বাঁশির কারিগররা।

গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত থাকেন বাঁশ কাটা, চাঁচা-ছোলা, রোদে শুকানো, নকশা করা, আগুনে পুড়ানো, রং করার কাজে। এসব কাজ শেষে পাইকারি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বাঁশি বিক্রি ও পাঠানোতেও লম্বা সময় ব্যয় হয় তাদের।

বৈশাখের কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত অবধি আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা কারোরই ফুসরত মেলে না ঠিকমতো নাওয়া-খাওয়ার। বৈশাখ উপলক্ষে মাস জুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেলার চাহিদা অনুযায়ী বীণ বাঁশি, মোহন বাঁশি, মুখ বাঁশিসহ হরেক রকম বাঁশি তৈরি ও সরবারহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। ভরা বাঁশির মৌসুম হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে এখন অনেক কারিগরকেই বাড়তি লোক নিয়োগ করতে হচ্ছে।

শ্রীমদ্দির বাঁশি যায় ঢাকার রমনার বটমূলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বৈশাখী মেলায়। ইতোমধ্যে শ্রীমদ্দি বাঁশি পল্লী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে পুরো জেলায়। ওই গ্রামের প্রায় ২০টিরও বেশি পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত। সারা বছর সংসারের অন্যান্য কাজ-কর্মের পাশাপাশি বাঁশি তৈরি করলেও বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাস বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাঁশি তৈরি করেন তারা।

ওই গ্রামের চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস ও যতিন্দ্র বিশ্বাস নামে দুই ভাই পৈত্রিক পেশা হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছে বাঁশি তৈরির কাজ। তাদের বাবা ভগবান বিশ্বাস প্রায় ৫০ বছর পূর্বে বাঁশি তৈরি কাজ শুরু করেন এ গ্রামে। তার মৃত্যুর পর ছেলেরা এ পেশা ধরে রাখায় তাদের দেখাদেখি আরো গোটা বিশেক পরিবার এ পেশায় এসেছে।

বাঁশি তৈরি কারিগর চিত্তরঞ্জন বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার স্ত্রী রীনা বিশ্বাস কয়েকজন কারিগর ও শ্রমিক বাঁশি তৈরিতে ব্যস্ত। চিত্তরঞ্জন মাল সরবরাহ করতে (বাঁশি নিয়ে) চাঁদপুরের মতলব উপজেরায় লেংটার মেলায় গেছেন।

তার স্ত্রী রীনা বলেন, সারা বছরই আমরা বাঁশি তৈরি করি। আমাদের তৈরি বাঁশি দেশের বিভিন্ন জেলার এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হয়। তবে বৈশাখী মেলায় ব্যাপক চাহিদার কারণে আমাদের একার পক্ষে অর্ডার মতো বাঁশি তৈরি করা সম্ভব হয়না। তাই এ মৌসুমে আমরা দৈনিক মজুরি হিসেবে অতিরিক্ত কারিগর ও শ্রমিক নিয়োগ দেই।

তিনি জানান, বাঁশি তৈরির জন্য চট্টগ্রাম থেকে ট্রাক ভর্তি কাঁচা মুলি বাঁশ এনে অর্ডার অনুযায়ী সাইড করে কেটে আগুনে পুড়ে ছিদ্র করার পর তাকে নকশা করা হয়। এছাড়া বিদেশে রপ্তানি করার জন্য তৈরি বাঁশিতে বিভিন্ন প্রকার রং ও বার্নিশ করা হয়।

রীনা আরো জানান, এ গ্রামে বাঁশি তৈরিতে পুরুষের পাশাপাশি তার  মতো অনেক নারী নিয়োজিত থাকায় নারীদের একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

কুমিল্লা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে