Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ , ২ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (42 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৩-২০১১

বাংলাদেশকে তো ম্যাচ জেতায় বোলাররা!

বাংলাদেশকে তো ম্যাচ জেতায় বোলাররা!
বিশ্বের সব বোলারের মনেই চাপা ক্ষোভ থাকার কথা। ক্রিকেট যে বড় বেশি ব্যাটসম্যান-ঘেঁষা! বোলারের কীর্তি কেমন ম্লান হয়ে যায় ব্যাটসম্যানের কৃতিত্বে। ২০১০ সালে লর্ডসেই যেমন অনার বোর্ডে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নাম লেখানো শাহাদাত হোসেনের চেয়ে বহুগুণ বন্দনা হয় তামিম ইকবালের সেঞ্চুরির। বাংলাদেশের প্রতিটি বড় জয়ে স্মৃতিতে ভেসে ওঠে কোনো ব্যাটসম্যানের মুখাবয়ব। কিন্তু পরিসংখ্যান ভিন্ন কথা বলে। বাংলাদেশের বড় জয়ে ব্যাটসম্যানের চেয়ে বোলারদের কৃতিত্বই বেশি। অথচ ওয়ানডে নাকি জেতায় ব্যাটসম্যানরা!
কৃতিত্ব ব্যাটের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশি বোলারকুলেও কমবেশি ক্ষোভ আছে। সেদিন তাঁদেরই একজন বলছিলেন, 'ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত ২২০-২৩০ রান করে করুন, দেখবেন আমরা আশি ভাগ ম্যাচ জিতব।' এ ঘোষণায় অহমের সঙ্গে কিছুটা ক্ষোভ কি নেই? বক্তা ক্রিকেট ইতিহাসের একনিষ্ঠ পাঠক নন। তবে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি বড় জয়ই খুব কাছে থেকে দেখেছেন। বাংলাদেশের প্রথম বড় জয় ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে। সে ম্যাচে ২২৩ রানের পুঁজি নিয়েও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৬২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সবশেষে গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ২২৮ রানে বেঁধে ফেলে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন বোলাররাই। মাঝখানে বোলিং কৃতিত্বের উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত হয়ে আছে ২০১০ সালের নিউজিল্যান্ড সিরিজ। স্কোর বোর্ডে ১৭৪ রানকেও 'যথেষ্ট' প্রমাণ করেছিলেন বাংলাদেশি বোলাররা।
নাম আড়াল করা ওই বোলার খুব বাড়িয়ে বলেননি। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩০ থেকে ২৫০ রান করা ম্যাচে বাংলাদেশের হার-জিতের পাল্লা প্রায় সমান। এ রকম ৩৫টি ম্যাচের ১৬টি জয়ের বিপরীতে হার ১৯টিতে। তার মানে, লড়াইয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী রান স্কোর বোর্ডে থাকলে সেটি জিততে জানেন বোলাররা। ওয়ানডের মানদণ্ডে আগে ব্যাটিং করে এ রান করা বিশাল কোনো কৃতিত্বের ব্যাপার নয়। বরং প্রতিপক্ষকে এ রানে আটকে রাখতে পারার মাহাত্ম্য ঢের বেশি। প্রথমে ব্যাটিং করা প্রতিপক্ষকে ২৩০-২৫০ রানের বৃত্তে ৩৩ বার বন্দি করেছিলেন বাংলাদেশি বোলাররা। কিন্তু অতগুলো ম্যাচের মাত্র আটটিতে জেতাতে পেরেছেন ব্যাটসম্যানরা। আর ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার হয়েছে ২৪টিতে।
ব্যাটিং সাফল্যের ঘটনাও আছে। যেমন_২০০৫ সালে কার্ডিফে ২৫০ রান তাড়া করে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর কৃতিত্বে বিশেষ অবদান আছে ব্যাটসম্যানদের। ২০১০ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের ছুড়ে দেওয়া ৩১৩ রানের চ্যালেঞ্জ জেতানোর পুরো কৃতিত্ব ব্যাটসম্যানদের। ২০০৭ বিশ্বকাপের সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়টা নিশ্চিত করেছিলেন বোলাররাই। তবে সে পথ তৈরি করেছিল ব্যাটসম্যানদের গড়া ৮ উইকেটে ২৫১ রানের ইনিংস। সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও ওয়ানডে সিরিজ জয়ে ব্যাটসম্যানদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে ২০০৯ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা ২০১০ সালের জিম্বাবুয়ে তো আর সে অর্থে বড় দলের পর্যায়ে পড়ে না। তাই বড় জয়ে ব্যাটিং কৃতিত্বের সাক্ষী হাতে গোনা কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়া কিংবা গায়ানায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর ঘটনাই।
তবে বোলিং সাফল্যের রয়েছে বিস্তর উদাহরণ। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তান কিংবা ঘরের মাঠের আসরে ইংল্যান্ডকে হারানোর কথা আগেই মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরো আছে। ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ে এগিয়ে বোলারদের ভূমিকা। সে ম্যাচ যে মাত্র ২২৯ রান করেও জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০০৬ সালে বগুড়ায় শ্রীলঙ্কা-বধ ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের জন্য মাত্র ২১৩ রানের টার্গেট তৈরি করেছিলেন বোলাররা। ২০০৭ বিশ্বকাপ থেকে ভারতে ছিটকে ফেলা ম্যাচে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের তাড়া করতে হয়েছিল মাত্র ১৯২ রানের টার্গেট। পরের বছর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ২০১ রানে আটকে দিয়ে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন বোলাররা। ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে হারানো ম্যাচের টার্গেট ছিল বাংলাদেশের জন্য সর্বনিম্ন, মাত্র ১৪৯ রান! ২০১০ সালে ব্রিস্টলের ব্যাটিং উইকেটেও ইংল্যান্ডকে ব্যাটসম্যানদের গড়া ২৩৬ রানের ইনিংস টপকাতে দেননি বোলাররা। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ৪-০-তে হোয়াইট ওয়াশের সিংহ ভাগ কৃতিত্ব বোলারদের। যে সিরিজে ১৭৪ করেও ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ!
তবে এটা নিয়মিত হয় না। আগে রান করতে হবে, জিম্বাবুয়ে সিরিজের মাঝপথ থেকেই এ স্লোগানটা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশ দলে। প্রথম দুই ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮৪ এবং ১৮৮ অল আউট বাংলাদেশ! তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ২৫০ রানের ইনিংস বাংলাদেশ প্রায় ছুঁয়েই ফেলেছিল মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে। শেষ দুই ম্যাচে আবার স্বরূপে বাংলাদেশ। সেগুলোও বোলিং সাফল্যেরই গল্প। অজেয় হয়ে ওঠা জিম্বাবুয়ের সে দুইটি ইনিংস যথাক্রমে ১৯৯ এবং ১৬০ রানে নেমে আসাটা বোলিং সাফল্যেরই ইঙ্গিত।
তাই বোলারদের সামর্থ্য নেই, এটা ভ্রান্ত ধারণা। উল্টো মোটামুটি একটা স্কোর থাকলে বাংলাদেশি বোলারদের প্রতিক্রিয়াটা হয় বিশ্বমানের। নাম আড়াল করা সেই ক্রিকেটারেরই দাবি, 'আমি তো মনে করি আমাদের শফিউল-রুবেলরা জহির খানের চেয়ে ভালো পেসার। কারণ জহির বোলিং করে স্কোর বোর্ডে তিন শ রান নিয়ে। আর রুবেলরা ২২০-২৩০ রান নিয়েই যুদ্ধ করে জেতে।' সেই রুবেল-শফিউলদের ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আছেন ঘরের উইকেটে আরো দুর্ধর্ষ স্পিনাররা। তাই সেই স্লোগানটা আরো জোরালো, রান করুন ব্যাটসম্যানরা!

ফুটবল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে