Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ , ১ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৫-২০১৪

রাহুলে কতটা ভরসা ভারতের জনগণের?

রাহুলে কতটা ভরসা ভারতের জনগণের?

নয়াদিল্লী, ১৫ এপ্রিল- ভারতে গত দশ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস এবারের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেনি – তবে তারা আবারও ক্ষমতায় এলে সেই পদ যে রাহুল গান্ধীই পাবেন, তা একরকম অবধারিত। নির্বাচনী প্রচারেও এবার কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধীকে সরিয়ে দলের প্রধান মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন তাঁর ছেলে রাহুল গান্ধী – তবে সব জনমত জরিপেই দেখা যাচ্ছে তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস জোট প্রতিদ্বন্দ্বী এনডিএ-র তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।

তরুণ এই রাজনীতিকের অনভিজ্ঞতাই কি তার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে? না কি চিন্তাভাবনা বা কাজের পদ্ধতিতে একেবারে আলাদা ধাঁচের রাহুল গান্ধীকে ভারত এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না?

গ্রহণযোগ্যতার সমস্যা?
ভারত থেকে অনাহার চিরদিনের মতো দূর করার ছবি এঁকে চলেছেন রাহুল গান্ধী – দেশের তথাকথিত পলিটিক্যাল ফার্স্ট ফ্যামিলির নবীনতম প্রজন্ম। গরিবদের তিন টাকা কেজিতে চাল বা দুটাকা কেজিতে গম দেওয়াটা তার ড্রিম প্রোজেক্ট – হাজার অসুবিধা আর বিরোধিতা সত্ত্বেও কংগ্রেস সরকার রাহুল ও তার মা সোনিয়া গান্ধীর জেদেই চালু করেছে এই উদ্যোগ; নির্বাচনী জনসভাতেও এই প্রসঙ্গটায় তিনি খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

কিন্তু সমস্যা হল প্রায় চুয়াল্লিশ ছুঁই-ছুঁই রাহুল গান্ধী দেশের মানুষের কাছে এরপরও কতটা গ্রহণযোগ্য হতে পারছেন সে প্রশ্নটা রয়েই যাচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, রাহুলের কথাবার্তায় ভরসা রাখা যায় না – মনে হয় যেন তার দায়বদ্ধতায় খাদ আছে। আর যারা তার ওপর এখনই ভরসা হারাতে রাজি নন, তারাও বলছেন রাহুল গান্ধীর পরিণত হয়ে উঠতে বোধহয় আরও কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা দরকার হবে।

এই যে আস্থার সঙ্কট, সম্ভবত তার একটা বড় কারণ গত দশ বছর ধরে এমপি হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব দূরস্থান, কখনও সরকারে কোনও দায়িত্ব নিতে চাননি – দলের কাজেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্যকার প্রতাপভানু মেহতার তো বলতে দ্বিধা নেই, রাহুল গান্ধী তাকে হতাশ করেছেন। তিনি বলছেন, ‘অনেকগুলো ক্ষেত্রেই তার পারফরম্যান্স নিরাশাব্যঞ্জক। প্রথম কথা, তিনি করেন বা বলেন খুব অল্পই – আর যেটুকু করেন তাতেও দেশের বিরাট কোনও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।’

মেহতা আরও যোগ করছেন, ‘তা ছাড়া পার্লামেন্টে তার শরীরি ভাষাও খুব নিষ্প্রভ। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের কোনও বড় সঙ্কটে তাঁকে কিন্তু এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি!’

সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অবিচল
তবে এই রাহুল গান্ধীই আবার অনায়াসে উত্তরপ্রদেশে কোনও দলিত পরিবারের কুঁড়েতে অনায়াসে রাত কাটান, মহারাষ্ট্রে কলাবতী নামে এক গরিব কৃষকরমণীর সঙ্গে মোলাকাতের পর তাঁর অবর্ণনীয় দু:খের গল্প তুলে ধরেন পার্লামেন্টে।

বিরোধীরা এগুলোকে অবশ্য গিমিক বলেই বর্ণনা করেছেন, আর নেহরু-গান্ধী পরিবারে রূপোর চামচ মুখে নিয়ে জন্মানোর সূত্র ধরে তাঁকে চিরকালই 'শাহজাদে' বলে কটাক্ষ করে এসেছেন নরেন্দ্র মোদী।

তবে রাহুলের নিজের কথায় – তিনি নিজে একটা মিশনে নেমেছেন, ফলে কোনও কিছুতে ভয় পেলে বা আমল দিলে তার চলবে না। দুআড়াই মাস আগে তাঁর জীবনের প্রথম টিভি সাক্ষাৎকারে রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমার খুব স্পষ্ট একটা লক্ষ্য আছে – ভারতের রাজনীতিতে যা চলছে সেটা আমার পছন্দ নয়, সেটা বদলানোই আমার লক্ষ্য।’

‘মহাভারতে অর্জুনের পাখির চোখের মতো আমার ওই একটাই উদ্দেশ্য – এই দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা সিস্টেমটা বদলাতে হবে, বাকি সব কিছুতে চোখ বুজে থাকলেও হবে।’ঘটনা হল, সেই সাক্ষাৎকার নিয়েও ভারতে চায়ের আড্ডা বা সোশ্যাল মিডিয়াতে তাঁকে তুমুল ব্যঙ্গবিদ্রূপের শিকার হতে হয়েছে। আমেরিকার ধাঁচে প্রাইমারি করে কংগ্রেসের প্রার্থী বাছাই শুরু করতে চেয়েছিলেন, ভেস্তে গেছে সে চেষ্টাও।

‘অন্য নেতাদের মতো নন’
তবে তার পরও কাজেকর্মে ও চিন্তাভাবনায় রাহুল গান্ধী একদম অনন্য – বলছিলেন দলে ও পার্লামেন্টে তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখা তরুণ কংগ্রেস এমপি মৌসম বেনজির নূর। তাঁর কথায়, ‘যুব কংগ্রেসে ও পার্লামেন্টে তার সঙ্গে কাজ করার সুবাদে দেখেছি রাহুলজী অন্য নেতাদের চেয়ে একদম আলাদা। নতুনদের সুযোগ দেন তিনি, তার জন্যই পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যত্র কংগ্রেসের একেবারে ব্লক পর্যায়ের সাধারণ কর্মীরাও বিধানসভা নির্বাচনে দলের টিকিটে লড়ার সুযোগ পেয়েছেন।’

নবীন কংগ্রেস কর্মীদের কাছে রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তা আছে নিশ্চয় – কিন্তু দলের পরিধির বাইরে তাকে নিয়ে সন্দেহ আর প্রশ্নই বেশি। তাঁর প্রধান সমালোচকদের একজন, সুব্রহ্মণ্যম স্বামী তো প্রকাশ্যে তাঁকে নির্বোধ বলেও কসুর করেননি। ড: স্বামীর দাবি, হার্ভার্ড বা দিল্লি – কোথাওই কোনও ডিগ্রি শেষ করতে পারেননি রাহুল গান্ধী – অথচ সংবাদমাধ্যমই ফুলিয়েফাঁপিয়ে, তাঁর দারুণ শিক্ষিত একটা ইমেজ তৈরি করেছে।

দেশের সাধারণ মানুষ অবশ্য রাহুল গান্ধীর ডিগ্রি নিয়ে ভাবিত নয়, কিন্তু তিনি যেভাবে অনেক সময়ই লিখিত স্ক্রিপ্ট পড়ে ভাষণ দেন, তাতে অনেকেরই আপত্তি আছে। দিল্লির এক তরুণ যেমন বলছিলেন, ‘সোনিয়ার ছায়া থেকে বেরিয়ে ওর স্বাধীনভাবে কিছু করার ক্ষমতা কোথায়? কারও লিখে দেওয়া বক্তৃতা যেভাবে পড়েন, মনে হয় যেন পাঠ্যপুস্তক পড়ছেন। ওনার চোখেমুখে, কন্ঠস্বরে আস্থার তো কোনও চিহ্নই নেই।’

ফলে রাহুল গান্ধীর ভঙ্গিমা, আবেগ বা প্যাশন, অনভিজ্ঞতা – সব কিছুই বিতর্কের মালমশলা জোগায়। কিন্তু মানুষটির আন্তরিকতা, দূরদৃষ্টি নিয়ে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই, বলছিলেন সহযোগী মৌসম বেনজির নূর।

মিসেস নূরের ধারণা, ‘রাহুলজী সোজাসাপটা কথা বলেন, সিস্টেমটা বদলানোর কঠিন লক্ষ্য নিয়ে নেমেছেন – কিন্তু কূটনীতির ধাঁচে ঘুরিয়েপেঁচিয়ে কথা বলা তার স্বভাব নয়। এই জন্যই মনে হয় অনেকে তাঁকে ভুল বোঝেন।’

ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় রাহুল গান্ধী যে নরেন্দ্র মোদীর চেয়ে জনমত জরিপগুলোতে পিছিয়ে, পর্যবেক্ষকরা তাই তাতে আশ্চর্য নন। তবে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে মানুষ শুধু সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীকে দেখে ভোট দেন না, কংগ্রেসের ভরসার জায়গা সেখানেই!

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে