Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৯-২০১২

বিএসএফের বর্বরতার চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন হাবিবুর

বিএসএফের বর্বরতার চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন হাবিবুর
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি সেই যুবকের নাম হাবিবুর রহমান ওরফে হাবু। তাঁর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আটরশিয়া গ্রামে। তাঁর সাইদুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে হাবু। প্রায় দেড়মাস পরও বিএসএফের বর্বরতার চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। ভারতসহ দেশীয় গণমাধ্যমে গতকাল বুধবার সংবাদ প্রকাশের পর এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় ওই গ্রামে। হাবিবুর রহমানকে দুই দফা ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে তার কাছে ঘটনার বর্ণনা শোনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে হাবিবুর রহমানের গ্রামে গিয়ে দেখা যায় তার বাড়ির সামনে লোকজনের জটলা। সেখানে হাবিবুরের খোঁজ করতেই জানা গেল, তিনি বিজিবি’র মনাকষা ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। কিছুক্ষণ আগে ক্যাম্প থেকে ফোন করে ডাকা হলে স্থানীয় এক চাচার সঙ্গে তিনি সেখানে যান।
সন্ধ্যার সময় ক্যাম্প থেকে ফিরে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে ওইদিনের বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ৯ ডিসেম্বর রাতে তিনি বিএসএফ’র হাতে ধরা পড়েন। ওই সময় বিএসএফ তার কাছে দুই হাজার টাকা, পাঁচটি টর্চ লাইট ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করে। কিন্তু সেগুলো দিতে না পারার কারণে তাকে বিএসএফ সদস্যরা তাদের একটি চৌকিতে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর সারা রাত বেঁধে রাখে। পরদিন ভোর সাড়ে চারটার সময় আবারো নির্যাতন চালানো হয়। এসময় বিএসএফ সদস্যরা বিবস্ত্র করে অকথ্য নির্যাতন চালায়। ওই নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজই প্রচারিত হয়েছে গণমাধ্যমে।
হাবিবুর বলেন, আমার পরনের লুঙ্গি খুলে নিয়ে ছিড়ে দুইভাগ করে লাঠির সঙ্গে হাত বেঁধে দ্বিতীয় দফার তারা মারধর শুরু করে। বিএসএফ’র সাতজন আমাকে রাইফেলে বাট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। এতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। মরে গেছে ভেবে তারা আমাকে বাঁধা অবস্থাতেই একটি সরিষাক্ষেতে ফেলে রাখে। মার খাওয়ার সময় মনে হয়েছিল জীবনে আর বেঁচে ফিরতে পারব না। বাবু, স্যার, মামা বলে কত কাকুতি মিনতি করেছি, বলেছি জীবনে আর আসব না। কিন্তু তাদের হাত থেকে রেহাই পাইনি। তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছে বিএসএফ জওয়ানরা মাতাল অবস্থায় ছিল। না হলেও এভাবে মানুষ মানুষকে মারতে পারে?
নির্যাতনের প্রায় দেড় মাস পরও হাবিবুর রহমানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালচে দাগ আছে। তিনি হাটেনও খুড়িয়ে খুড়িয়ে। সেই বিভিষীকা সময়ের কথা তিনি মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারেন না। হাবিবুর রহমান জানান, সরিষা ক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখে বাংলাদেশি অন্য রাখালরা তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে অর্থাত্ রাজশাহীর খানপুর গরুর বিট এলাকায় নিয়ে এসে কাঠের আগুন জ্বালিয়ে তাপ দেয়। পরে সেখানকার একজন চিকিত্সকের কাছে চিকিত্সা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে বাড়িতে খবর দেয়া হয়। বাড়ির লোকজন ১১ ডিসেম্বর খানপুরে গিয়ে তাকে নিয়ে আসে। হাবিবুর রহমান তার উপর নির্যাতনের জন্য দায়ী বিএসএফ জওয়ানদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে