Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯ , ১২ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (56 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-১৪-২০১৪

সাত বছর সংসার করে সম্পর্কই অস্বীকার!

সাত বছর সংসার করে সম্পর্কই অস্বীকার!

বরিশাল, ১৪ এপ্রিল- হাসনাইন মাহমুদ আবির লেদার টেকনোলজি কলেজ থেকে অনার্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করে ২৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরে ২৯তম বিসিএসে সহকারী কর কমিশনার পদে নির্বাচিত হওয়ায় পুলিশের চাকরি ছেড়ে দেন। বরিশালের আবির বর্তমানে বেনাপোল কাস্টম হাউসে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ। প্রতারিত এক তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের নামে প্রতারণা করে সাত বছর সংসার করার পর এখন সব অস্বীকার করছেন আবির। শুধু তাই নয়, নির্যাতন করে বাসা থেকে বের করে দিয়ে এখন নানা হুমকিও দেওয়া হচ্ছে তরুণীকে। জানা যায়, দিশেহারা হয়ে তরুণীটি আশ্রয় নিয়েছেন একটি মানবাধিকার সংগঠনের। ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।

রাজধানীর আদাবর থানায় করা জিডি ও তরুণীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালে মোবাইল ফোনে হাসনাইন মাহমুদ আবিরের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। এরপর দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন আবির। সেই সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র ধারণ করে ফাঁদে ফেলেন তরুণীকে। এভাবে কয়েক বছর চলার পর চাপের মুখে বিয়ে করতে বাধ্য হন আবির। কিন্তু সেই বিয়েটিও ছিল আবিরের সাজানো। বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের কপি চাওয়ার পর আবির সব কিছু অস্বীকার করে বাসা থেকে বের করে দেন তরুণীকে। ততক্ষণে ওই তরুণী জানতে পারেন, তাঁর সঙ্গে কথিত বিয়ের পর আরো দুজনকেও প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছেন আবির।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাইন মাহমুদ আবির গতকাল রবিবার বলেন, ‘এ মেয়ের অভিযোগ মিথ্যা। আমি তাকে চিনতাম তবে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এ বিষয়ে আইনের সাহায্য নেব।’

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, টাঙ্গাইল সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে পড়তেন তিনি। সে অবস্থায় ২০০৭ সালের ৮ ডিসেম্বর তাঁকে আদাবর থানার শেখেরটেক এলাকার ৪ নম্বর রোডে ৪২ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলার চিলেকোঠায় ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন আবির। বাড়ির অন্যদের কাছে তাঁকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সেখানে বাস করছিলেন। ২০০৯ সালে তরুণীটি জানতে পারেন, ময়মনসিংহের ধনাঢ্য পরিবারের এক মেয়েকে গোপনে বিয়ে করেছেন আবির। তখন আবিরকে তালাক দেন প্রথম স্ত্রী। পরে আবির তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে আবার সংসার শুরু করেন। এমন কি প্রথম স্ত্রীর বাবার বাড়িতেও আবির একাধিকবার গেছেন। আবিরের বর্তমান কর্মস্থল বেনাপোলেও তাঁকে নিয়ে গেছেন। একপর্যায়ে তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন দেখতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে আবির জানান, তিনি কাউকে বিয়ে করেননি, কোনো রেজিস্ট্রেশনও নেই। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাঁর কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ এবং স্ত্রীর পরিবারের লোকজনকে দেখে নেবেন বলেও হুমকি দেন আবির। একপর্যায়ে আবিরের ফেসবুক স্ট্যাটাস ও ছবি থেকে জানা যায়, তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রীকেও বিয়ে করেছেন। এ বিয়েটি আবির পারিবারিকভাবেই করেছেন বলে জানান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রতারিত তরুণী বলেন, ‘আমি নিজের পড়াশোনার কথা চিন্তা না করে আবিরকে পড়াশোনায় সব ধরনের সহায়তা করেছি। বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বিসিএস পরীক্ষার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করত। এরপর একপর্যায়ে বিয়ে করে। আমি আমার বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সবার কাছে স্বামী হিসেবে আবিরকে হাজির করেছি। এখন সে আমাকে অস্বীকার করছে। আমাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য শেখেরটেকে একই রোডে নতুন বাসা ভাড়া নেয়। সেখানেও আমাকে নিয়ে আবার সংসার শুরু করে। আমাদের সংসারের কথা বাড়ির মালিক তুষার আঙ্কেল জানেন। কিন্তু আমাকে বাসায় রেখে নানা ধরনের ব্যবসার কথা বলে আবির বাইরে থাকত। সে নিয়েই আমাদের মধ্যে জটিলতা শুরু হয়। এখন তার তৃতীয় বিয়ের কথা জানার পর সে আমাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে। আমার এ বিয়ের সামাজিক স্বীকৃতি না পেলে আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।’

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির ম্যানেজার (লিগ্যাল সেল) অ্যাডভোকেট সোহেল রানা আকন্দ বলেন, ‘আমরা মেয়েটির কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে ঘটনার সত্যতার অনুসন্ধান শুরু করি। শেখেরটেকে আবিরের বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিক, দারোয়ান ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হই যে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়েই কয়েক বছর ধরে বসবাস করেছিলেন। একইভাবে মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতায় মেয়ের বাবার বাড়ি ও আবিরের কর্মস্থল যশোর বেনাপোলে গিয়েও তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর এবং গ্রিন লাইনের গাড়িতে ঢাকা ও যশোরে তাঁদের যাতায়াতের একাধিক প্রমাণ পাওয়া যায়।’

অ্যাডভোকেট সোহেল রানা আরো বলেন, ‘মেয়েটি আইনের আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে আবিরের পক্ষ থেকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি টাঙ্গাইলে মেয়ের বাবাকেও প্রশাসনের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

মেয়ের ছোট ভাই সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শেষ বর্ষের ছাত্র। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও থানায় অভিযোগ করার পর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয়ে শনিবার রাতে আমার মোবাইলে ফোন করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী পরিষদের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, ‘এ মেয়েটির ক্ষেত্রে আমরা সব ধরনের আইনি সহায়তা দেব।’

আদাবর থানার জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘তদন্ত করতে গিয়ে বাসার দারোয়ান নিশ্চিত করেছে তাঁরা ওই বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ছিল।’

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে