Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১১ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-১৩-২০১৪

রায়ের দিন আসামির মেয়েকে তলব, ঘুষ ‘খেয়েছেন’ বিচারক

প্রিয়লাল সাহা


রায়ের দিন আসামির মেয়েকে তলব, ঘুষ ‘খেয়েছেন’ বিচারক

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল- চাঞ্চল্যকর হারুন হত্যা মামলার রায়ের দিনে রায় প্রদান না করে আসামির মেয়েকে সাক্ষ্যদানের জন্য তলব করায় ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন বাদী ও নিহতের ভাই।

রোববার ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম সাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ করেন বাদী ও নিহতের ভাই মো. সেলিম হাওলাদার।

এদিন ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় হত্যাকাণ্ডের চারবছর পর রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু এজলাসে আসন গ্রহণ করে বিচারক রায় ঘোষণা না দিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আসামির মেয়েসহ তিনজনকে সাক্ষ্যদানের জন্য তলব করেছেন। বিচারকের এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান লিখিত আবেদনের মাধ্যমে বিরোধিতা করেন।

বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের ওই আবেদন নামঞ্জুর করে আসামির মেয়ে কনিকা হালদার, গৃহকর্মী রিনা বেগম এবং প্রতিবেশী সোমা বেগমকে সাক্ষ্যদানের জন্য আদালতে তলব করেন।

বিচারকের এমন উদ্যোগে হতবাক হন নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মো. সেলিম হাওলাদার, তার চাচা হাজী মো. দুলাল হাওলাদারসহ আদালতে আসা অন্যান্য আত্মীয়স্বজন।

মামলার বাদী ও তার চাচা বলেন, ‘এই মামলার আসামির মেয়ে, তার গৃহকর্মী ও প্রতিবেশী আসামিদের পক্ষেই কথা বলবে এটা জানার পরও বিচারক সদুদ্দেশ্যে এ আদেশ দিয়েছেন তা আমরা বিশ্বাস করতে পারিনা।’

বাদী, তার চাচা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন বিচারকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ারও অভিযোগ করেন। তারা আরও বলেন, ‘ঘুষ নিয়েছেন বলেই তিনি (বিচারক) রায়ের দিনে রায় ঘোষণা না করে রাষ্ট্রপক্ষের কথা অগ্রাহ্য করে আসামিপক্ষের আত্মীয়স্বজনকে ডেকেছেন।’

এছাড়াও বাদী ও তার পক্ষের লোকজন সাংবাদিকদের বলেন, গতকালই (শনিবার) আসামির বাবা এলাকায় গিয়ে জোর গলায় বলে বেড়াচ্ছেন যে বিচারকের সঙ্গে তাদের কথা হয়ে গেছে, আসামিরা সবাই বেকসুর খালাস পাচ্ছে। আমরা একথা বিশ্বাস করিনি। কিন্তু আজ বিচারকের এ কাজের মধ্য দিয়ে আসামিদের কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

বাদীপক্ষ বিচারকের এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে ওই আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তিনি (বিচারক) স্ব-উদ্যোগে এটা করেছেন। আমরা প্রয়োজনীয় সাক্ষির সাক্ষ্যগ্রহণ করেছি। বিচারকের এমন আদেশের বিরোধিতা করে দরখাস্ত করেছি। কিন্তু বিচারক দরখাস্ত নামঞ্জুর করে দেন।’ তিনি বিচারকের স্ব-উদ্যোগের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাবেন বলেও জানান।

মামলার বিষয়ে ওই আদালতের স্পেশাল পিপির সরবরাহ করা সারমর্ম থেকে জানা যায়, গত ২০০৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় বাদী নিহত হারুনুর রশিদের ডাক চিৎকার শুনে তার কাছে ছুটে যান। গিয়ে দেখেন ভিকটিম রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। এসময় ২নং আসামি মাসুদ রানাকে (ভিকটিমের খালাত ভাই) দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন বাদী। এরপর বাদী রক্তাক্ত ভিকটিমকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. সেলিম হাওলাদার বাদী হয়ে কদমতলী থানায় ভিকটিমের স্ত্রীসহ দুজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. ওমর ফারুক পাঁচজনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- ভিকটিমের স্ত্রী রুমা আক্তার, মাসুদ রানা (ভিকটিমের খালাত ভাই), মো. ইসমাইল মিয়া ওরফে সোহেল, রাশেদুজ্জামান ওরফে পারভেজ, শফিকুল ইসলাম ওরফে দিপু। এদের মধ্যে রাশেদুজ্জামান ওরফে পারভেজ, শফিকুল ইসলাম ওরফে দিপু পলাতক।

গতবছরের ২৬ জুন এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় ২৯ জনকে সাক্ষির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। আসামিপক্ষেও তিনজন সাক্ষি সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

বাদী জানান. ভিকটিম দীর্ঘ পাঁচ বছর জাপানে চাকরি করেছেন। তার পাঠানো টাকা দিয়ে তার স্ত্রী নিহতের খালাত ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরে এসব টাকা পয়সা আত্মসাত করার জন্যই এ খুন সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল চাঞ্চল্যকর মিলন হত্যা মামলায় এই বিচারকই আসামিদেরকে দশ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করলে বাদীপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিচারকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন।

আইন-আদালত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে