Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ , ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (83 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৮-২০১২

আসিফ নজরুলকে চিনতে পড়ুন শাহরিয়ার কবিরের "জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি" (১৯৯৫)-লিখেছেন: স্বপ্নমগ্ন(ব্লগ নেম) - আমার ব্লগ

আসিফ নজরুলকে চিনতে পড়ুন শাহরিয়ার কবিরের



গত কিছুদিন ধরে আসিফ নজরুল বিষয়ে অনেক পড়লাম, ছাগুদের তার জন্য মায়াকান্না তো বোধগম্য, তবে নব্য সুশীলদের কিছু মন্তব্য দেখে স্তম্ভিত হয়েছি। আসিফ নজরুল সাইদীকে যুদ্ধাপরাধী নয় দাবী করার পরেও তার কোন দোষ এরা দেখতে পায়না।

আমার এক বন্ধুর ফেসবুকে একজন লিখেছে-

আসিফ নজরুলের দোষটা কি সেটা জানতে পারলে ভাল হত। আমার জানা মতে উনি খারাপ কিছু করেন নাই


উত্তরে বললাম-

আপনি যদি জামাত ঘরানার লোক হন তাহলে আমার উত্তরের পরবর্তী অংশ না পড়লেও চলবে আর যদি তা না হন এবং এত কিছুর পরেও আসিফ নজরুল কি করেছে তা না জানাটা যদি আপনার নির্দোষ অজ্ঞতা হয় তাহলে পড়ুতে থাকুন।

আসিফ নজরুলের ইতিহাসটা অনেক পুরনো- ইনি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিতে থেকেই গোপনে জামাতের দালালি করতেন- করতেন তথ্য ও দলিল পাচার জামাতের কাছে। তার সেই বিশ্বাস ঘাতকতার কারণে জাহানারা ইমাম তার ক্যানসারের চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে ইউ এস এ থেকে দেশে ফিরে যান এবং অল্প কিছুদিন পরেই মৃত্যুবরণ করেন- এই জাতির জন্য ঐ সময়ে আম্মার মৃত্যুটা অনেক বড় একটা ক্ষতি ছিল।

যাই হোক চিপ নজরুলের ইতিহাস জানতে চাইলে পড়ুন নিচের লেখাগুলো_

http://ukbdnews.com/opencomments/48702-2012-01-03-02-05-20.html

http://www.sachalayatan.com/hasan_murshed/34172

http://unmochon.net/node/1288



তার উত্তরে ঐ লোক বলেছে-

আমি কোন ঘরানার মানুষ সেটা আপনি আমার আশ পাশের কারো কাছ থেকে জেনে নেবেন।
তবে আমি আপনার লিংকগুলো পড়েছি। কনভিন্সড হতে পারিনি। একপেশে লেখা মনে হয়েছে।
আর ওয়েব লিংক পড়ে কারো সম্বন্ধে ধারণা নেয়াটা মনে হয় ঠিক হবে না।
আমি দেশেই থাকি-ঢাবি আমার খুবি কাছে-যদি ভুল জেনে থাকি তাহলে নিজেকে শুধরে নেব।
ধন্যবাদ।

ও আচ্ছা...
আপনি কোন ঘরানার মানুষ? একটু বললে ভাল হত।



আমার আর উত্তর দেয়ার রুচি হয়নি।


অমি রহমান পিয়াল ভাই তার ফেসবুকে লিখেছিলেন-

আসিফ নজরুল ইস্যুতে আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে সে যা বলছে একই কথা নিজামী,মুজাহিদ,জামাত এমনকি খালেদাও বলছে। উল্লিখিত লোকজন প্রো-পাকিস্তানী এবং স্বাধীনতার চেতনার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। এটা প্রমাণিত সত্য। কিন্তু যে লোকটা ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির মতো সংগঠনে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মিছিল করছে আমাদের পাশে, সে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের মতো প্রতিষ্ঠানকে সাইনবোর্ড বানিয়ে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মতো ঘৃণ্য একজনকে নিরপরাধ বলে সনদ দেয়- সেটা বিশ্বাসঘাতকতা। সুহৃদ সেজে পিঠে ছুরি মারা সবসময়ই ঘৃণ্য অপরাধ এবং এটা তো সত্যি প্রতিবিপ্লবীদের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াটাও সবসময় চরম। আসিফের রুম পোড়ানো, দরজায় তালা কিংবা বহিষ্কারের দাবিটা সে তূলনায় যথেষ্টই মৃদূ প্রতিবাদ। এর বিরুদ্ধে যারা ইনিয়েবিনিয়ে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা কিংবা গণতন্ত্র ও আইনী অধিকার জাতীয় ফাকিং বুলশিট জুড়ে দেন, তারা বেসিকালি গোলাম আযমের গ্রেফতারও সহ্য করতে পারেন না একই মানসিকতায়। শুধু মুখে বলতে পারেন না সুশীল মুখোশটা জুতোপেটায় খুলে যাবে বলে। যার প্রেক্ষিতে এত কিছু সেই মুক্তিযুদ্ধটা কোনো অহিংস প্রতিবাদ ছিলো না। ভায়োলেন্সের চরমসব উদাহরণ যার পরতে পরতে, হত্যা-ধর্ষণ-লাশ দিয়ে যে ইতিহাসের প্রতিটি বর্ণ লেখা হয়েছে, তার পক্ষে গলা উচালে সেটা মিনমিনে শোনানোর কথা নয়।তাই এসব মাদারফাকারদের বলি- চুপ। একদম চুপ।...............



অসাধারণ বিশ্লেষণ করেছিলেন নিঝুম মজুমদারও। এই সুশীলদের অনেকেই হয়তো সেগুলো পড়েছেন। না পড়ে থাকলে উপরের লিঙ্কগুলোতে গিয়ে পড়ে নেবেন আর ওই ভদ্রলোকের মত তারপরেও বলতে পারেন যে কনভিন্সড হতে পারলাম না। কেউ কেউ এরপরও উটপাখি হবেন আমি জানি।


এত কিছু শুনেও, পড়েও মন ভরছে না সুশীলদের তাই আমি অপেক্ষায় ছিলাম একটা বইয়ের কিছু অংশের। আজই পেয়ে গেলাম হাতে। অবশ্য এর পরেও কোন কোন দুর্জনের ছলের অভাব হবেনা।


আসিফ নজরুলের আসল চেহারাটা বের হয়ে আসবে শাহরিয়ার কবির ভাইয়ের "জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি"র (১৯৯৫) অংশ বিশেষ পড়লে- যেখানে তিনি বিশদ লিখেছেন কিভাবে জাহানারা ইমাম এবং ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিল আসিফ নজরুল এবং কিভাবে সেই কারণে ডাক্তারের কঠিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি চিকিৎসার মাঝ পথে দেশে ফিরে আসেন মৃত্যুকে বরণ করে নিতে। কিভাবে তাঁকে ভেঙ্গে দিয়েছিল এই চিপ নজরুল।






পড়তে ও ডাউনলোড করতে পারেন এই লিঙ্ক থেকে-


জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি অধ্যায় ৭


পুরো বইটি অনলাইনে পাওয়া যাবে এখানে।



বইয়ের অধ্যায়টি পড়তে পড়তে কেঁদে ফেলেছিলাম। জাহানারা ইমাম হয়ত আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতেন- যদি চিকিৎসা ফেলে ঐভাবে ঐ বেঈমান লোকটার জন্য ফিরে না আসতেন দেশে। এই লোকটা আম্মাকে কাঁদিয়েছিল। নিজের স্বার্থের জন্য ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতে নিয়েও সে তা করেনি এবং সময়মত কাউকে জানায়নি যে সে ঐ কাজ করতে পারবেনা।





বইয়ের কিছু অংশ তুলে দিলাম নিচে-


"আসিফ লিখেছে, ওর মা ওর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের কথা ভেবে ওকে এসব কাজে জড়াতে নিষেধ করেছেন। গণ আদালতের পর ও না কি বাবা মাকে বলেছিল, এসব কাজ আর করবে না। জাহানারা ইমামের চিঠি ওর মার হাতে পড়েছে। মা ওকে কসম খাইয়েছেন এ কাজ না করতে। মা'র কাছে দেয়া কসমের জন্য ও এ কাজ করতে পারবে না।"



"ও বলল, 'আমার কমনওয়েলথ স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ডিপার্টম্যান্টের চেয়ারম্যান বলেছেন, এসব কাজের সাথে যুক্ত থাকলে আমি স্কলারশিপ পাবো না। "



"ওকে বললাম, 'তুমি মিথ্যে কথা কেন বলেছিলে? আম্মা কখনও তোমাকে এসব কাগজ আমাকে দেখাতে বারণ করেননি। আর আম্মাকে এরকম চিঠি লেখাও উচিৎ হয়নি।।'

আসিফ বলল, 'শাহরিয়ার ভাই, আপনার মত সাহস আমার নেই। আমি ক্যারিয়ারের কথা ভাবি। আপনাকে তখন এগুলো দেখালে আপনি রাগ করতেন। আপনার কথা আমি ফেলতে পারতাম না। আমি ভয় পেয়েছিলাম। এবার স্কলারশিপ হাতছাড়া হলে আবার কবে পাব তার কোন ঠিক নেই। আমি আম্মার কাছে ক্ষমা চাইবো।"



"জাহানারা ইমামকে বললাম, 'আসিফ আপনার কাছে মাপ চাইতে আসবে।'
তিনি ক্ষুব্ধ গলায় বললেন, 'ওর মতো ছেলের মুখ আমি দেখতে চাই না। ওকে বারণ করে দিবি আমার বাসায় যেন না আসে।"



এবার আসি আসিফ নজরুলের সাইদী কে নিয়ে বাংলাভিশনে বক্তব্য প্রসঙ্গে। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছেন যে সাইদী যুদ্ধাপরাধে জড়িত নন। যখন এটা নিয়ে প্রতিবাদে মুখর মানুষ তখন তিনি আবার পত্রিকাতে বলছেন যে তিনি কখনও ঐ কথা বলেন নি। ঐটা নাকি রঙ চড়িয়ে বলেছে সংবাদপত্রওয়ালারা।


দেখুন তাহলে নীচের এই ভিডিওতে কি বলছেন তিনি-









তিনি বলছেন- "ঐ সময় যে আপনার বিভিন্ন বাহিনী গঠন করা হয়েছিল সেটার সাথে জামাতের শীর্ষস্থানীয় কিছু লিডার জড়িত ছিল। এখন অনেক তরুণ লিডার আছে যারা ঐ সময় আপনার অবশ্যই জড়িত ছিল না। কিন্তু যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে (যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য) তাদের সম্পর্কে তো আপনার একমাত্র দেলওয়ার হোসেন সাইদী ছাড়া আমার জানামতে আর কি, বাকী সবারই আপনার যতটুকু আমি পড়াশুনা করেছি, ইনভল্ভম্যান্ট ছিল (যুদ্ধাপরাধে)।"

তাছাড়া কালেরকন্ঠের রিপোর্ট মোতাবেক গ্রেফতারকৃত জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকানোর পরিকল্পনা সংবলিত নথি অনুসারে আমরা জানি-

জামায়াতের 'নিজস্ব' বিশিষ্টজনদের তালিকায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল।



এছাড়াও পড়তে পারেন এই লেখাটি- ভাব্বার বিষয় নয় কি এটা?
Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে