Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০ , ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (62 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৭-২০১৪

‘টেহা আইনা দিতে পারি নাই, তাই কোপাইছে’

‘টেহা আইনা দিতে পারি নাই, তাই কোপাইছে’

নেত্রকোনা, ০৭ এপ্রিল- ‘বাবার বাড়ি থেইক্যা টেহা আইন্যা দিতে পারি নাই দেইখ্যা স্বামী আমারে ছুরি দিয়া কোপাইছে। ভাশুর আমার গলা চাইপ্যা ধরছে। শাশুড়িও লগে ছিল। স্বামী ও ভাশুরের পা ধইরা জান ভিক্ষা চাইছি। কিন্তু তাঁদের মন গলে নাই। আমি তাগোর বিচার চাই।’

যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে এসব কথাই বলছিলেন গৃহবধূ ডালিয়া আক্তার (২২)। তিনি অভিযোগ করেছেন, যৌতুকের দাবিতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর মুখ, পিঠসহ দেহের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ডালিয়ার বাবার বাড়ির লোকজন গতকাল শনিবার তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আজ রোববার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডালিয়ার নাক, মুখ, হাত, পিঠসহ শরীরের আঘাতের চিহ্ন। জখমের এসব স্থানে ব্যান্ডেজ বাধা। নাক ও মুখে ব্যান্ডেজ থাকায় তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না।

আহত ডালিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সারা শরীলে ব্যাদনা। হাত নাড়াইতে পারি না। ঠিকমতো শুইতেও পারি না। কোনো কিছু খাইতেও কষ্ট লাগে।’

ডালিয়া ও তাঁর বাবার বাড়ির লোকজন জানান, প্রায় চার বছর আগে উপজেলার মোজাফফরপুর গ্রামের আবদুর রাশিদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের (৩০) সঙ্গে পাশের চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা গ্রামের জাহের উদ্দিনের মেয়ে ডালিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। ওই সময় বরকে যৌতুক হিসেবে নগদ ৪০ হাজার টাকাসহ প্রয়োজনীয় আসবাব দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে আরও টাকার জন্য স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ডালিয়ার ওপর নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এরপর কয়েক দফায় জাহাঙ্গীরকে আরও টাকা, একটি ষাঁড় ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি গাড়ি কিনে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ডালিয়ার ওপর নির্যাতন কমেনি।

কয়েক মাস আগে ডালিয়াকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলে যান তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর। সেখানে তিনি রিকশা চালাতেন। সেখানেও একই কারণে ডালিয়াকে মারধর করতেন তিনি। শুক্রবার জাহাঙ্গীর কৌশলে ডালিয়াকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি নিয়ে এসে আবারও বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দেন। তবে ডালিয়া টাকা আনতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই দিন রাতে স্বামী জাহাঙ্গীরসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ডালিয়ার ওপর নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর ধারালো ছুরি দিয়ে ডালিয়াকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। এ সময় ডালিয়া ও তাঁর দুই সন্তান—নূরে আলম (৩) ও হাফিজুরের (১) চিত্কার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাঁকে রক্ষা করে। পরে খবর পেয়ে ডালিয়ার বাবার বাড়ির লোকজন গতকাল সকালে তাঁকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ডালিয়ার মা সুলেমা খাতুন ও বাবা জাহের উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘মেয়ের সুখের লাইগ্যা জাহাঙ্গীররে কত কিছু দিছি। তবু শ্বশুরবাড়ির লোকজন ডালিয়াকে শুধু নির্যাতনই করছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা (আরএমও) মো.সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি নির্মম। ডালিয়াকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিরঞ্জন দেব বলেন, এ বিষয়ে ডালিয়াকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে ডালিয়ার স্বামী জাহাঙ্গীর পলাতক।

নেত্রকোনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে