Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৮ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-০৫-২০১৪

চাঙ্গা হচ্ছে অর্থনীতি: ৬ শতাংশের ওপরে দাঁড়াবে জিডিপি

চাঙ্গা হচ্ছে অর্থনীতি: ৬ শতাংশের ওপরে দাঁড়াবে জিডিপি

ঢাকা, ০৫ এপ্রিল- রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাওয়ায় চাঙ্গা হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। মূল্যস্ফীতি, রেমিটেন্স প্রবাহ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি-রফতানি পরিস্থিতি, বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্যসহ সব সূচকেরই উন্নতি হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতাও কমে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের ফলে অর্থনীতির সূচকগুলো ইতিবাচক ধারায় ফিরছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে জিডিপি অনুপাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অবকাঠামো খাতের বিনিয়োগে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশ করতে হলে বাংলাদেশকে অবকাঠামো খাত উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও একটি মাইলফলক অতিক্রম করতে যাচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যে এই রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

মার্চ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ১২৭ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, যা এ যাবতকালে দেশে আসা তৃতীয় সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারি মাসে ১১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছিল। গত বছরের মার্চে এসেছিল ১২২ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেমিটেন্স সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে, ১৪৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছিল ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে, ১৩২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। তবে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম রেমিটেন্স এসেছে।

চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৯৮২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই দশমিক ১৭ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ১৩ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া শুধু ফেব্রুয়ারিতে ২৩৮ কোটি ডলারের বেশি পণ্য রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে পোশাক খাতে আয় হয়েছে এক হাজার ৬১৩ কোটি ডলার। এ খাতে ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পোশাক শিল্পে বড় বড় দুর্ঘটনার পরও ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত এক হাজার ৬১৩ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি (নিট এবং ওভেন) হয়েছে। এর মধ্যে ওভেন পোশাক থেকে সর্বোচ্চ ৮২২ কোটি ও নিট পোশাক খাত থেকে ৭৯১ কোটি ডলার রফতানি আয় হয়েছে। এই আয় আলোচ্য সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। পোশাকশিল্পে এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি। অবশ্য চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ দশমিক ৭২। মোট রফতানি আয়ের ৮১ দশমিক ৩৮ শতাংশ এসেছে তেরি পোশাক খাত থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং নিষ্পত্তির হার বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে মোট দুই হাজার ৫৭৮ কোটি ৯১ লাখ ডলারের সমপরিমাণ পণ্যের ঋণপত্র খোলা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে খোলা হয়েছিল দুই হাজার ৩০৭ কোটি ১১ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের আট মাস শেষে ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি আমদানি ঋণপত্র খোলা হয়েছে। এ সময় ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে দুই হাজার ৪০৬ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল দুই হাজার ১২৩ কোটি ১৮ ডলার। এতে করে ঋণপত্র নিষ্পত্তি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

মার্চ মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশে। যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং জানুয়ারি মাসে ছিল ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং জানুয়ারি মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, ২০১৪ সালে গড় মূল্যস্ফীতি বর্তমানের ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে। সরকারী-বেসরকারী বেতন বৃদ্ধি ও বিদ্যুত এবং জ্বালানির মূল্য বাড়ার কারণেই ২০১৪ সালে গড় মূল্যস্ফীতি বাড়বে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) সঞ্চয়পত্রে ছয় হাজার ২৪৫ কোটি টাকা নিট বিনিয়োগ এসেছে। এর মধ্যে কেবল ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছে এক হাজার ২৬২ কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের পুরো সময়ে জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পগুলো থেকে চার হাজার ৯৭১ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল সরকার। গত জানুয়ারি মাসেই এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। জানুয়ারি মাস পর্যন্ত জাতীয় সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছিল চার হাজার ৯৮৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এর সঙ্গে যোগ হয় আরও এক হাজার ২৬২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে দিয়ে অর্থবছরের প্রথম আট মাসের নিট বিনিয়োগ দাঁড়ায় ছয় হাজার ২৪৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। যেখানে গত ২০১২-১৩ অর্থবছরের পুরো সময়ে এসেছিল মাত্র ৭৭২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সঞ্চয় প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র থেকে। এই খাতে গত আট মাসে নিট বিনিয়োগ এসেছে চার হাজার ৪৫৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

গত বছরের রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে সাড়ে ৩৭ শতাংশ। ২০১৩ সাল শেষে এফডিআইএর পরিমাণ ১৭৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে বিনিয়োগ বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। তবে এর আগের বছরের তুলনায় স্থানীয় বিনিয়োগ কমেছে ৭ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।

সরকারের ব্যাংক ঋণ নেয়ার প্রবণতা কমছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাস ১২ দিনে (১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়েছে ১৩ হাজার ২১১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। তবে এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোন ঋণ করেনি সরকার। উল্টো আগের নেয়া ঋণের ৯ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা শোধ করেছে। এ কারণে সরকারের নিট ঋণ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৬১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৪২৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

অর্থনীতির বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে উন্নয়ন সহযোগীরা বলছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশের ওপর অর্জিত হবে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের সঙ্গে তুলনা করে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিকেও বাংলাদেশের জন্য ‘স্বাস্থ্যকর’ বলছেন তাঁরা।

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে