Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (33 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-০৪-২০১৪

নিষ্পত্তির অপেক্ষায় সাঈদীর আপিল আবেদন

মহিউদ্দিন মাহী


নিষ্পত্তির অপেক্ষায় সাঈদীর আপিল আবেদন

ঢাকা, ০৪ এপ্রিল- জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের সাজা পেয়েছেন ৪২ বছর পর ২০১৩ সালে। ফাঁসির দন্ড পেয়েছেন তিনি। চিহ্নিত এই অপরাধীর সাজা হয়েছে। এ নিয়ে দারুণ খুশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির। তবে এই রায় কার্যকর হবে কি না, আর হলে কখন হবে সে বিষয়ে জবাব এখনো জানা যায়নি।

তবে এসব প্রশ্নের জবাব অচিরেই জানা যাবে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার পর দুটি অভিযোগে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদন্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন সাঈদীর আইনজীবীরা। আর যে কয়টি অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়নি, সেগুলোতে সাজা চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন দন্ড হয়েছিল ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এরপর আপিল বিভাগ সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদন্ডের রায় প্রদান করে এবং গত ১২ ডিসেম্বর ফাঁসি কার্যকর হয় কাদের মোল্লার। ট্রাইব্যুনালে কাদের মোল্লার ২৩ দিন পর সাজা পান সাঈদী। কিন্তু তার আপিল আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি এখনো।

গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চলাকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে এক মাসের মধ্যে আপিল আবেদনের নিষ্পত্তির বিধান করে সরকার। কিন্তু এই এক মাসের মধ্যে কোনো একটি মামলার শুনানিও শুরু হয়নি আপিল বিভাগে। আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আপিল বিভাগে কতদিনে মামলার নিষ্পত্তি হবে, সেটা কেউ আইন করে নির্দিষ্ট করে দিতে পারে না। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আপিল বিভাগ যত দিন খুশি মামলা শুনবে। তাই এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই।

সাঈদীর আবেদনের নিষ্পত্তি কবে
ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির রায়ের বিপক্ষে সাঈদী আপিল বিভাগে আবেদন করেন ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ। কিন্তু কাদের মোল্লার আবেদনের শুনানির জন্য এই আবেদনের শুনানি শুরু করতেই সময় লেগে যায়। তবে এরই মধ্যে আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছে, এখন যুক্তি দিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল হক টুটুল।

রাষ্ট্রপক্ষ একদিন যুক্তি উপস্থাপনের পর সুপ্রিম কোর্টে বসন্তকালীন ছুটি শুরু হয়। ১ এপ্রিল আদালত খুললে আবার রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। ১২ মার্চ প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের বসন্তকালীন ছুটির পর ওই শুনানির পরবর্তী সময় নির্ধারণ করেন।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ঢাকা বলেন, ‘আদালত খোলার পর হয়ত আমাদের আর এক সপ্তাহ লাগবে। এর মধ্যেই আমরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করব। এরপর আসামিপক্ষ আবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।’ কবে নাগাদ রায় হতে পারে জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, ‘এটা বলা যায় না। এটা আদালতের বিষয়।’

গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এই মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। প্রথমে আসামিপক্ষ রায়, সাক্ষ্য ও জেরা উপস্থাপনের পর গত ২৯ জানুয়ারি থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে।

সাঈদীর আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, সাঈদীর পক্ষে এখন রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছে আদালতে। এরপর আমরা তাদের বক্তব্যের জবাব দেব। এরপরে রায়ের বিষয়টি জানাবেন আদালত।

অন্য যে মামলাগুলো আপিল বিভাগে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দন্ডিত ছয় জনের আপিলের মধ্যে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে সাঈদীর আবেদনই।

আপিল বিভাগে এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযম, বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও একই দলের সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমকে দেওয়া দন্ডের ব্যাপারে করা আপিল।

এদের মধ্যে গোলাম আযম ৯০ বছর এবং আবদুল আলীম আজীবন কারাদন্ড পেয়েছেন। বাকিরা পেয়েছেন মৃত্যুদন্ড।

এছাড়া জামায়াত নেতা আবদুস সুবহান, মীর কাসেম আলী, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন ও ফরিদপুরের নগরকান্দার পৌর মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন আর জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিচার এখনো চলছে ট্রাইব্যুনালে।

আইন-আদালত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে