Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ , ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (31 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-০৩-২০১৪

নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন ভুল স্বীকার করেছে

আদিত্য আরাফাত


২০১০ সালে এভারেস্ট চূড়া থেকে নামার আগেই মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্টজয় নিয়ে বিরোধিতা শুরু করে দিলেন কয়েকজন। পরে মুসা দেশে এসে প্রমাণ দেখালেন। কিন্তু তাতেও বিরোধিতাকারীরা দমে যাননি। সম্প্রতি আবারও বিতর্ক উঠেছে প্রথম এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশি মুসা ইব্রাহীমকে নিয়ে। নতুন বিতর্ক হচ্ছে, নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশনা ‘নেপাল পর্বত’-এর তালিকায় এভারেস্টজয়ী হিসেবে মুসার নাম নেই। এ নিয়ে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায়।

নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন ভুল স্বীকার করেছে

বাংলাদেশ থেকে আরও যারা এভারেস্ট চূড়ায় উঠেছেন তাদের কেউ এমন সমালোচনার মুখে পড়েননি।

তবে মুসার জয় নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে তার সবকিছুর সোজাসাপটা উত্তর দিলেন অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কোসিয়াসকো জয় করতে যাওয়া বাংলাদেশের এ এভারেস্ট জয়ী। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত মুসা ইব্রাহীম-এর সঙ্গে অনলাইনে মুখোমুখি হয়েছেন বাংলানিউজের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আদিত্য আরাফাত।

এ সাক্ষাৎকারে নতুন তথ্য দিলেন এ এভারেস্ট জয়ী। জানালেন, অবশেষে নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং ভুল স্বীকার করেছে।

আপনার এভারেস্ট জয় নিয়ে আবারও বিতর্ক উঠেছে। এ জয়ের সঙ্গে ভিন্নমত করছেন বাংলাদেশের অন্য এভারেস্ট জয়ীরাও। তাদের অন্যতম যুক্তি হচ্ছে, এভারেস্টজয়ীদের নিয়ে প্রকাশিত নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশনা ‘নেপাল পর্বত’ এ আপনার নাম নেই। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?

মুসা ইব্রাহীম: নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন কিন্তু শুধুমাত্র ৩৩টি পর্বত নিয়ে কাজ করে, ৭ হাজার মিটারের অধিক উঁচু সব পর্বত কিন্তু নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের অধীনে। একইভাবে এভারেস্ট পর্বত আরোহণ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় দেখভাল করে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড।

আর নেপাল পর্বত?

মুসা ইব্রাহীম: ‘নেপাল পর্বত’ একটি নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রকাশনা। নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কখনোই নয়। আর নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন একটি এনজিও যা তাদের ওয়েবসাইটেই উল্লেখ আছে (http://www.nepalmountaineering.org)। যদি তারা এভারেস্টজয়ীদের সম্মান জানাতেই এটা করে থাকে, তাহলে সেখানে এভারেস্টজয়ী প্রথম মহিলা জুনকো তাবেই- এর নাম নেই কেন, যিনি ১৯৭৫ সালে ৩৮তম পর্বতারোহী ছিলেন এভারেস্ট জয়ের ক্ষেত্রে? বাংলাদেশ থেকে প্রথম যেদিন এভারেস্ট জয় হলো, সেই ২০১০ সালের ২৩ মে'তে মন্টেনেগ্রোর তিন পর্বতারোহী ব্লেকা, স্ল্যাগি এবং জোকো তাদের দেশে থেকে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন। প্রকাশনাটিতে তাদেরও নাম নেই কেন?

সবচেয়ে বড় কথা, এভারেস্ট জয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে তো এই এনজিও'র কোনো উচ্চবাচ্য ছিল না। হঠাৎ এভারেস্ট জয়ের ৬০ বছর পূর্তিতে তারা এমন একটা প্রকাশনা বের করল কেনো, যা এমন ভুলে ভরা?

আর সবকিছুই যদি মেনে নেই, যদি ধরেই নেই যে, এমএ মুহিত ‘বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী’, আমরা সবাই জানি যিনি ২০১১ সালের ২১ মে এভারেস্ট জয় করেছিলেন, তাহলে তার এভারেস্ট জয়ের নাম সেই প্রকাশনায় কেন ২০১২ সালের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হলো? সুতরাং, এমন একটা প্রকাশনায় আমার নাম বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হলো কি না, এটা কি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে? - এটা আমার প্রশ্ন।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, ‘নেপাল পর্বত’ প্রকাশিত হয়েছে ২০১৩ সালের মে মাসে। সেখানে যে মুসা ইব্রাহীমের নাম নেই, এটা অভিযোগকারীদের বলতে ১১ মাস সময় লেগে গেল?

এভারেস্টজয়ীদের তালিকা লিপিবদ্ধ করা হয় যে সর্বজনস্বীকৃত আন্তর্জাতিক সাইটে, সেই (http://www.himalayandatabase.com/2010%20Season%20Lists/2010%20Spring%20A4.html) সাইটে কিন্তু ঠিকই এই তালিকাটা আছে যে কে কোন দেশ থেকে কবে এভারেস্ট জয় করেছেন। এখন তাহলে এই ‘নেপাল পর্বত'কে কতোটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত?

তারপরও বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে দেখে গতকাল (২ এপ্রিল, ২০১৪) নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি আং শেরিং শেরপার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, ‘চায়না-তিব্বত দিয়ে যারা এভারেস্ট জয় করেছেন, তাদের নাম নেপালের তালিকায় রাখা হয় না বা থাকে না’।

নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জিম্বা জাংবু শেরপার সঙ্গে এ প্রসঙ্গে  যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ প্রকাশনায় কিছু ভুল হয়ে গেছে। তা আমরা সংশোধনের উদ্যোগ নেবো’।

তার মানে তাদের যে ভুল হয়েছে এখন তা স্বীকার করছে?

মুসা ইব্রাহীম: হ্যাঁ তাই…নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন তাদের ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করে নিচ্ছে।

আপনার কৃতিত্ব নিয়ে কেন এত প্রশ্ন আসছে? বাংলাদেশ আরও যে কয়েকজন এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন তাদের অভিযান নিয়ে অভিযোগ আসছে না। ঘুরে-ফিরে আপনার বিষয়টি আসছে...কেন?

মুসা ইব্রাহীম: বললে হয়তো অহঙ্কারী শোনাবে। কিন্তু আমি বিনীতভাবে বলতে চাই, এখানে যে প্রথমবারের মতো এভারেস্ট জয় করেছে, তাকেই ঈর্ষা করে এই বিতর্কটা তোলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যাপারটা খুবই সহজ যে যারা দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো এভারেস্ট জয় করছেন, তাদের ক্ষেত্রে ঈর্ষার জায়গাটা থাকে না বলে তাদের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ উঠছে না।

আর ২০১০ সালের ২৩ মে এভারেস্টে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশকে ৬৭তম এভারেস্টজয়ী দেশ হিসাবে পরিণত করার পর থেকেই তারা এই কাজটি করছেন। কয়েকজন পর্বতারোহী ও তাদের ঘনিষ্টজন এবং কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এখন দেশের এই অর্জনটাকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। সেবারে যারা কুশীলব ছিলেন, তারা সেবার অনলাইনে, ইন্টারনেট, ব্লগে এসব করেছিলেন। কিন্তু তারা সেবার সেই অভিযোগ প্রমাণ করতে না পেরে ব্লগে অবশেষে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন যে, ‘মুসা ইব্রাহীম এভারেস্ট জয় করেছে’।

আবারও ২০১৪ সালে এসে তারা একই কাজ করলেন। এবারও কি কোনো লাভ হলো? উল্টো অস্ট্রেলিয়া, নেপাল, মন্টেনেগ্রো, সার্বিয়াসহ অন্য দেশের পর্বতারোহীদের কাছে দেশকে ছোটো করা হলো না? যারা এতো অভিযোগ করছেন, তারা কি একবারও প্রমাণ করেছেন যে, আমার এভারেস্ট জয়টা মিথ্যা?

আমি এই অভিযোগকারীদেরকে বলতে চাই, যদি আপনাদের হাতে কোনো প্রমাণ থাকে যে, ২০১০ সালের ২৩ মে বাংলাদেশের পতাকা এভারেস্টের চূড়ায় ওড়েনি, তাহলে এই ব্যাপারে সরাসরি একটা সংবাদ সম্মেলন করুন, প্রমাণ হাতে নিয়ে। তা না করে বারবারই এমনভাবে বাংলাদেশের অর্জনটাকে খাটো করার কোনো অধিকার আপনাদের নেই।

আর আপনাদের যদি সবকিছুতেই ‘প্রথম’ হতে হয়, তাহলে আরও অনেক বিষয় আছে যেখানে আপনারা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে প্রথম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। যদি আমরা ভালো কাজের প্রতিযোগিতাটা বেশি বেশি করে করি, তাহলে এর চেয়েও সহজে মানুষের কাছাকাছি আসা যায়। আমি ছাড়া আরও যে কয়েকজন এভারেস্ট জয় করেছেন, তাদেরকেও কিন্তু দেশের মানুষ সম্মানের চোখেই দেখে। তাই আসুন আরও অনেক ভালো কাজ আছে, যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম হতে সহযোগিতা করি।

সেই সঙ্গে অন্যের অর্জনটাকে, অন্যদের ব্যাপারটাকে এভারেস্টজয়ী প্রথম সংগঠন নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশ সবসময় শ্রদ্ধার চোখেই দেখে- বিশেষ করে এই পর্বতারোহনটাকে। সে কারণে এই সংগঠন অন্যদের যেকোনো সাফল্যে, এভারেস্ট জয়ের পর সবাইকে সব সময়ই অভিনন্দিত করেছে।

নেপাল মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জিম্বা জাংবু শেরপা একাত্তর টেলিভিশনে বলেছেন, ‘এভারেস্ট জয় করা নিয়ে মুসা যে ছবিটি দেখিয়েছেন, সেটি চূড়ার নয়। কারণ, চূড়ার ছবি এমন হয় না। এটি সাত হাজার ফুট নিচে তোলা ছবি’। এভারেস্টজয়ী আরেকজন থেম্বু শেরপাও এ ছবিটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?

মুসা ইব্রাহীম: আমি শুধু তাদের অদক্ষতায় বিস্মিত হচ্ছি। কারণ www.himalayandatabase.com বলি আর http://www.8000ers.com ওয়েবসাইটটির কথাই বলি, এই দু'টি আন্তর্জাতিক সংগঠন কিন্তু এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহীদের ছবির ভিত্তিতেই তাদের ডেটাবেজে এভারেস্টজয়ীদের তথ্য সংরক্ষণ করে।

বিশ্বব্যাপী পর্বতারোহীদের কাছে এটাই সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য একটা ডেটাবেজ। আর আমার এভারেস্ট জয়ের ছবি বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ইমেজ ফরেনসিকের এক্সপার্টদের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো হয়েছিল। ইউরোপ, সিঙ্গাপুর, জাপানসহ সব ইমেজ ফরেনসিকের এক্সপার্টদের পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, এভারেস্ট চূড়ার ওপর যে ক’টি ছবি আমি তুলেছি, তা এভারেস্টের চূড়া থেকেই তোলা এবং এতে কোনো টেম্পারিং করা হয়নি। তাহলে আমার এভারেস্ট জয়ের ছবি নিয়ে তাদের সন্দেহ করার কোনো কারণ আছে কি?

বাংলাদেশের এভারেস্ট জয়ী এমএ মুহিতও ওই সংবাদভিত্তিক চ্যানেলকে বলেন, ‘প্রথম আলোতে এভারেস্ট জয় করা নিয়ে মুসা ধারাবাহিকভাবে যে গল্পটি বলেছেন, তাতে বেস ক্যাম্প ১ থেকে চূড়া পর্যন্ত অনেক কিছুরই বর্ণনা নেই’। আপনার ওয়েবসাইটে এভারেস্ট জয় করা নিয়ে তোলা ছবিটির বিষয়ে মুহিত দাবি করেছেন, এটি বেস ক্যাম্প-১ এ তোলা।  এ অভিযোগের বিষয়ে এখন কি বলবেন?

 মুসা ইব্রাহীম: একজন পর্বতারোহী হিসাবে জানা উচিত যে, বেস ক্যাম্প ওয়ান বলে এভারেস্ট অভিযানে কিছু নেই। ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় আছে বেস ক্যাম্প এবং ২৩ হাজার ফুট উঁচুতে আছে ক্যাম্প ওয়ান। ধরে নিচ্ছি, যে এমএ মুহিত ক্যাম্প ওয়ান প্রসঙ্গে কথা বলছেন।

তাহলে এমএ মুহিতকে আমি বলবো, বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত আমার ‘পাহাড়চূড়ার হাতছানি: কেওক্রাডং থেকে এভারেস্ট’ বইটি পড়ে নিতে। তাতে তার যে আক্ষেপ – ‘মুসার এভারেস্ট অভিযানের ক্যাম্প ওয়ান থেকে চূড়া পর্যন্ত অনেক কিছুর বর্ণনা নেই’, তার সেই আক্ষেপ মিটে যাবে।

আর আমার ওয়েবসাইটে এভারেস্ট জয় করা নিয়ে তোলা ছবির বিষয়ে মুহিত দাবি করেছেন যে, সেটি ক্যাম্প ওয়ান থেকে তোলা। তার এ দাবি আমি বিনীতভাবেই প্রত্যাখ্যান করছি। এর আমার ছবিগুলো যে এভারেস্ট চূড়া থেকেই তোলা, এটা প্রমাণ করতে খুব বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই। দয়া করে গুগল থেকে অন্য আরও এভারেস্টজয়ীদের ছবি দেখে নিতে পারেন যে, আমার ছবির সঙ্গে তাদের কোনো মৌলিক পার্থক্য আছে কি না।

এভারেস্ট চূড়া থেকে এবার অন্যদিকে যাই। নেপালের লাংসিসা-রি পর্বতশৃঙ্গ জয় না করেই সনদ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ওই অভিযানে আপনার আরেক সহযাত্রী পর্বতারোহী মীর শামসুল আলম বাবু। এ অভিযোগের বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?

মুসা ইব্রাহীম: লাংসিসা-রি অভিযানে আমরা পর্বতশৃঙ্গ জয় না করেই যদি সনদ নিয়ে থাকি, তাহলে সেটা বুঝতে মীর শামসুল আলমের এতোদিন সময় লাগল? তিনি যে সামিট আর উচ্চতা নিয়ে যে বিতর্ক করতে চাইছেন, এই সমস্যা শুরু হয়েছিল যখন নর্থ আলপাইন ক্লাবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পরবর্তী পর্বত অভিযানগুলো থেকে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তখন থেকে। আর তিনি নিজেও যে এই পর্বত জয় করলেন, এটার চূড়ায় পৌঁছালেন- তার নিজের ভিডিও ফুটেজেও কিন্তু সেই কথাই তিনি বলেছেন।

সম্প্রতি চন্দ্রাবতী একাডেমী থেকে প্রকাশিত ‘সকাল বেলার পাখি’ সংকলন গ্রন্থে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইনাম আল হক এক নিবন্ধে মুহিতকে বাংলাদেশি প্রথম এভারেস্টজয়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন...

মুসা ইব্রাহীম: বাংলাদেশের সুনামহানি করার, বাংলাদেশের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ব্যাপারে তাদের এটা একটা প্রয়াস বা চাতুর্য। এমন কাজ যাতে তারা আর করতে না পারেন, এজন্য আদালতে একটা মামলা করেছি। তার প্রেক্ষিতে মহামান্য আদালত এই মামলার ব্যাপারে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চন্দ্রাবতী একাডেমী থেকে প্রকাশিত ‘সকাল বেলার পাখি’র প্রকাশনা ও বাজারজাতকরণের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

এভারেস্টজয়ী অন্য বাংলাদেশি এবং অারেকটি অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের সদস্যরা এখন আপনার বিরোধিতা করছেন। এদের সঙ্গেতো আপনার একসময় সুসম্পর্ক ছিলো…

মুসা ইব্রাহীম: হ্যাঁ, সুসম্পর্ক ছিল এবং থাকবে। দু’টো ক্লাবের প্রতিযোগিতা ছিল যে, কারা আগে বাংলাদেশের পতাকা এভারেস্টের চূড়ায় নিয়ে যাবে। সেই প্রতিযোগিতায় নর্থ আলপাইন ক্লাব, বাংলাদেশ সফল হয়েছিল। এ সাফল্যের পরই বিএমটিসি’র তৎকালীন সভাপতি ইনাম আল হক আমাকে অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন।

আপনিতো এখন অস্ট্রেলিয়া...দেশে ফিরছেন কবে?

মুসা ইব্রাহীম: আমি অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি, এই অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কোসিয়াসকো জয় করতে, সেভেন সামিটের অংশ হিসাবে। সেই সঙ্গে আমার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। আমার স্ত্রী এখানে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণা করছেন। আমার ছেলেও রয়েছে এখানে। এখন তাদেরকে সময় দিচ্ছি।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

মুসা ইব্রাহীম: বাংলানিউজ এবং তার পাঠকদেরকেও ধন্যবাদ।

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে