Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ , ৬ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (123 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৬-২০১২

স্যানোরাতাসরীনা শিখা

স্যানোরাতাসরীনা শিখা
শ্রাবন মাসের রাত। বাইরে ঝুম বৃষ্টি । আমির আলীর টুটা ফুটা বেড়ার ঘরে বাতাস ঢুকে  কুপের আলোটা নিবু নিবু হয়ে আমার জ¦লে উঠছে। সেই বর্ষার রাতে আমির আলীর ঘরে জন্ম নিল একটি নবজাত শিশু। ফুলির মা ঘোষনা দিল,“ আবারো মাইয়া হইছে”। আমীর আলী মাথায় হাত দিয়ে কেঁদে উঠলো, হায় আল্লাহ্ তিন মাইয়া নিয়া আমি কি করুম, আমারে একটা পোলার মুখও দেখাইলা না?

জন্মের কয়েকদিন পর আমীর আলীর স্ত্রী  নবজাত মেয়েটির হাত পা ভাল করে নেড়ে চেড়ে দেখছিল,কি হলো পা দুটো সোজা করা যাচ্ছে না কেন? কেমন অদ্ভুত আকৃতির পাদুটো । ফসল কাটার কাস্তের মত বাঁকা। আমীর আলীর স্ত্রীর হাত পা ঠান্ডাা হয়ে আসলো ভয়ে। আমীর আলীর স্ত্রী চিৎকার করে কেঁদে উঠলো, Ñহে আল্লাহ্ তুমি এইডা কি করলা , আমি এই লেংড়া মাইয়া নিয়া কি করুম। আমীর আলী তার কন্যা শিশুটিকে নিয়ে গ্রামের ডাক্তারের কাছে ছুটা ছুটি করলো কিছুদিন সবার একই  জবাব জন্মগত সমস্যা, এর কেন চিকিৎসা নাই। গরীব  বাবা মার কোন ভাবেই তিনটি কন্যা সন্তান কাম্য নয়, তারপর যদি হয় পঙ্গু কন্যা । আমীর আলী পঙ্গু কন্যাটির নাম রাখার ব্যপারে কোন আগ্রহ প্রকাশ করলো না, কিন্তু মানব সন্তান নাম তো একটা রাখতেই হয়। আমীর আলী  মেয়েটির নাম রাখলো ‘স্যানোরা’। এই নামের মানে আমীর আলী জানে না, কোথায় কবে এ নামটি শুনেছিল তাও আমীর আলীর মনে নেই। আমীর আলীর স্ত্রী চোখ বড় করে জিজ্ঞেস করলো আমীর আলীকে,

এই নামের মানে কিগো?

মানে দিয়া কি করবা মাইয়া যখন অন্য রকম হইছে নামটাও অন্য রকমই থাক ।

আমীর আলী ও তার স্ত্রী  ধরেই নিল  স্যানোরা  কোন দিনই হাঁটতে পারবে না। যতদিন বাঁচে স্যানোরা পঙ্গু হয়ে বিছানায় পড়ে থাকবে।্ কিন্তু না, স্যানোরা স্বাভাবিক সময় মত উঠে দাঁড়ালো, সময় মত হাঁটতেও শুরু করলো। স্যানোরার পাদুটি  ফসল কাটার কাস্তের মত বাঁকা হলেও পায়ের পাতা দুটো ছিল স্বাভাবিক্। অদ্ভুত ভঙ্গিতে দুলে দুলে স্যানোরা ঘুরে বেড়াতে লাগলো। সময়ের সাথে সাথে স্বাভাবিক নিয়মেই স্যানোরা বেড়ে ইঠলো, কিন্তু অস্বাবভাবিক পায়ের জন্য দৈঘ্যে যতটা বাড়া উচিত ছিল স্যানোরা ততটুকু বাড়লো না । স্যানোরা তার বোনদের সাথে, খেলার সাথীদের সাথে ঘুরে বেড়ায় খেলাধুলা করে । মায়ের সাথে সংসারের কাজে সাহায্য করে। সময় পেরিয়ে যায় সময়ের নিয়মে। স্যানোরাও পার করে দেয় তার জীবনের বারটি বছর। আমীর আলী  মেয়ের দিকে তাকায় আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে, কি এই মেয়ের ভবিষ্যত? নিজের সন্তান গলা টিপেতো আর মেরে ফেলতে পারে না। কিন্তু আল্লাহ্র এ কেমন অবিচার আমীর আলী ভেবে পায় না।

আমীর আলীর বোন আসে ঢাকা শহর থেকে বেড়াতে গ্রামে। বোন ঢাকা শহরে গার্মেন্টস্ ফ্যাকটরীতে শ্রমিকের কাজ করে। আমীর আলী বোনকে চেপে ধরে, বইন আমার মাইডার একটা ব্যবস্থা কর । এই লেংড়া মাইয়া কি কইরা খাইবো? ঢাকা শহরে তো কত ব্যবস্থা আছে, একটা কাম শিখনের ব্যবস্থা কইরা দে মাইয়াটার। আমীর আলীর পিড়াপিড়িতে আমীর আলীর বোন আশ্বাস দিল ভাইকে স্যানোরাকে নিয়ে যাবে ঢাকায় ব্যবস্থা করবে কোন একটা কাজের প্রশিক্ষন নেবার। আমীর আলীর স্ত্রীর বুক কেঁপে উঠে, কি কও স্যানোরার বাপ মাইয়ারে আমি কেমনে পাঠামু ঢাকা শহরে, আমার মাইয়া আমার কাছেই থাকবো। আমীর আলী খেঁকিয়ে উঠে স্ত্রীর কথায়,

চুপ করো বেকুপ মেয়ে মানুষ, আমরা কি সারা জি›্দগিী বাঁইচা থাকুম, মাইয়ার তো কিছু  একটা কইরা খাইতে হইবো ।

স্যানোরার  রাজধানী যাত্রার দিন এলো, স্যানোরা মাকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করে কাঁদলো, বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলো, বোনদের জড়িয়ে ধরে কাঁদলো, সবাইকে কেঁদে বললো,আমি যাইতে চাই না ঢাকা শহর, আমি তোমাদের ছাইরা থাকতে পারুম না। স্যানোরার মা বিলাপ করে কাঁদলো মেয়ের জন্য। আমীর আলী গামছায় চোখ মুছলো, স্যানোরার বোনরাও অনেক কান্না কাঁটি করলো । কিন্তু কেউ তাকে ধরে রাখতে চাইলো না ।

স্যানোরা ফুপুর সাথে ঢাকা বাসী হলো । শুরু হলো স্যানোরার অন্য জীবন। স্যানোরা তিন চার দিন ফুপুর সাথে তার বস্তির ঘরে থাকলো। তারপর  ফুপু বলে কয়ে স্যানোরার গুনাবলী বর্ণনা করে পরিচিত একটি বাড়ীতে কাজের মেয়ের প্রশিক্ষন লাভের জন্য স্যানোরাকে ভর্তি করে দিল। স্যানোরা ফুপুর আঁচল ধরে চোখের জলে বুক ভাসালো।

ফুপু আমি মাইনসের বাড়িত কাম করুম না । তুমি আমারে বাপ মার কাছে দিয়া আইয়ো। ফুপু স্যানোরাকে সান্তনা দিল, দুই এক মাস কাম কর তারপর তোরে আমি গার্মেন্টস্র কাম শিখানীতে লাগাইয়া দেমু । তোরে তোর বাড়ীতও লইয়া যামু। স্যানোরার শুরু হয় কাজের মেয়ের জীবন। সারাদিন কাজ করে রাতে বিছানায় শুয়ে হু হু করে কাঁদে স্যানোরা। মনে পড়ে বাবা মা, বোনদের কথা, খেলার সাথীদের কথা, পুকুর পার,পুকুর পারের কুল গাছটির কথা। স্যানোরার ফুপু আসে কয়েক দিন পর পরই তাকে দেখতে,্ প্রতি বারই স্যানোরা ফুপুর আঁচল ধরে কান্না কাটি করে বাড়ী যাবার জন্য । প্রতিবারই ফুপু সান্তনা দেয়, আর কটা দিন সবুর কর, তোরে তাড়াতাড়িই আমি লইয়া যামু। এভাবে কেটে যায় তিন মাস। হঠাৎ করেই ফুপুর আসা বন্ধ হয়ে যায় । দুই মাস কেটে যায় ফুপু আর আসে না। স্যানোরা জানালা ধরে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে এই বুঝি ফুপু আসলো। কিন্তু না ফুপু আর এলো না।স্যানোরার গৃহকত্রী কুহিনূর চৌধুরী দয়ালু মানুষ তিনিও চেষ্টা করেন স্যানোরার ফুপুকে খুঁজে বের করতে কিন্তু কেউ সঠিক খবর দিতে পারে না । ঢাকা শহরের বিশাল জন¯্রােতে স্যানোরার ফুপু কোন দূর্ঘটনায় হারিয়ে গেছে কেউ তার হদিস পেল না। স্যানোরা থেকে গেল এই বাড়ীতে ঠিকানা বিহীন লাওয়ারিস মেয়ে হিসাবে। এবাড়ীটিতে  অতিথীর যেন অভাব নেই, সন্ধ্যার পর থেকেই কত রকম আতœীয় স্বজন যে আসতে থাকে। স্যানোরার কাজ তাদের  চা নাস্তা  পরিবেশন করা। দুপুরে থাকে বাড়ীটি নিঝঝুম। সাহেব, বেগম সাহেব, ছেলে মেয়ে কেউই বাড়ীতে থাকে না। এই দুপুর সময়টি স্যানোরার একান্ত নিজস্ব। তখন স্যানোরা বসে সৃষ্টিকর্তাকে অনুযোগ অভিযোগ করতে।

খোদা তুমি কেন আমারে দুনিয়াতে  পাঠাইলা? যদি পাঠাইলাই তাইলে আমার বইনদের মত সোজা পাও দিয়া পাঠাইলা না কেন? তাইলে তো বাপ মা আমারে ঢাকা শহরে পাঠাইতো না। আমার মাইনষের বাড়ী কাম করা লাগতো না। আমার ফুপু হারাইয়া যাইতো ্না। আল্লাহ্ তুমি কেন আমার বাপ মারে এত নিষ্ঠুর বানইিলা? স্যানোরা আকাশের দিকে তাঁকায়ে কুকু করে কাঁদে।

সময় পেরিয়ে যায় দ্রুত গতিতে।  স্যানোরার দুই বছর পার হয়ে যায়  কুহিনূর চৌধুরীর বাড়ীতে। স্যানোরারও স্মৃতির কষ্ট গুলি ধীরে ধীরে  হালকা হয়ে আসে। একদিন কুহিনূর চৌধুরী স্যানোরার চলাফেরায় কেমন যেন একটা শীথিলতা লক্ষ্য করেন । কেমন যেন ক্লান্ত  খাওয়া দাওয়া করতে পারছে না ঠিক মত। কুহিনূর বেগম চিন্তিত হয়ে পরেন, কি হলো মেয়েটার ? কোন কঠিন অসুখ নাতো? স্যানোরাকে অনেকক্ষন জিজ্ঞাসাবাদের পর  স্যনোরা ফুফিয়ে কেঁদে যে ঘটনার বর্ণনা দিল সেটা শুনে কুহিনূর চৌধুরী দিশেহারা। তার বাড়ীতে তার যে ভাইটি খুব ঘন ঘন আসে,  একদিন নির্জন দপুুরে  বাসায় এসেছিল ভ্ইাটি। স্যানোরাকে একা পেয়ে কুহিনূর চৌধুরীর সে ভাইটি  তাকে র্ধষন করে। সংবাদ জায়গা মত পৌঁছে যায়। কুহিনূর চৌধুরীর ভাত্রীবধু স্বরোষে ছুটে আসে, চিৎকার  করতে করতে ঘরে ঢুকে, স্যানোরা ছিনাল মাগী এদিকে আয়, তোর এত বড় কলিজা? শেষ কিনা আমার স্বামীর ঘারে দোষ চাপিয়েছিস্? মহিলা নিজের পায়ের সেন্ডেল খুলে ততক্ষন  র্পযšত স্যানোরাকে প্রহার করলো  যতক্ষন না নিজে ঘেমে চুপচুপ হয়ে হাঁপিয়ে গেল্। নিজের স্বামীর উপর আক্রোশ যেন স্যানোরাকে প্রহার করে মিটালো। যেতে যেতে বলে গেল, আপা এই হারামজাদীকে ঘর থেকে বের করেন, নাহলে দেখবেন একদিন আপনার ঘরের মানুষের ঘাড়ে এসে দোষ পড়বে।

স্যানোরা অজ্ঞানের মত পরে থাকলো দিন তিনেক। কুহিনূর চৌধুরী নিজের হাতে স্যানোরার যতœ করে তাকে কিছুটা সুস্থ করে তুললেন। তারপর পরিচিত ডাক্তারের কাছে নিয়ে ঝামেলা মুক্ত করে আনলেন স্যানোরাকে। কিন্তু তিনি স্যানোরাকে তার বাড়ীতে রাখার সাহস পেলেন না। সিদ্ধান্ত নিলেন কুহিনূর চৌধুরীর  মা থাকেন ঢাকার বাইরে, সেখানে পাঠিয়ে দেয়া হবে স্যানোরাকে। মা বয়স্ক মানুষ, তাছাড়া মাতো বেশীর ভাগ সময় ঘরেই থাকেন । স্যানোরা সেখানে কাজ করবে মার যতœ নেবে।

স্যানোরার আবার স্থান পরিবর্তন । নতুন পরিবেশ নতুন কাজ। কুহিনুর চৌধুরীর  মা  রাহেলা বেগমকে স্যানোরা  নানী বলে ডাকলো। নানী তাকে রান্ন্া বান্ন্া শেখান অবসর সময় টুকটাক সেলাইর কাজকর্মও শেখান । স্যানোরার নিঃস্বঙ্গ  জীবন কেটে যায় । রাহেলা বেগম স্যানোরার দিকে  তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবেন কি মিষ্টি চেহারা কি সুন্দর চোখ,নাক , যখন মেয়েটি বসে থাকে  কে বুঝবে মেয়েটির এত বড় একটা সমস্যা। সময়ের সাথে সাথে স্যানোরার মনে ফুটে নানা রংয়ের ফুল। প্রতিদিন  বসন্তের হাওয়া  অনুভব করে হৃদয়ে। চুলার উপর কাজলদানী ধরে কাজল তুলে চোখে কাজল দেয়,  কাচের চুড়ি হাতে পড়ে, পরি পাটি করে শাড়ী পড়ে, চুল আচড়ায় । উদাস ভাবে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে । আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজে নিজে বিরবির করে-

আমিতো জানি আমার কোন দিন বিয়া হইবো না ,আমারে কোন দিন কেউ ভালোবাসবো না। মাইনসের বাড়ীত কাম করতে করতেই একদিন মইরা যামু। আমি মইরা গেলে কেউ কোনদিন  কানবোও না। স্যানোরার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি ঝরে।

রাহেলা  বেগম   অস্থির হয়ে এদিক সেদিক লোক লাগিয়ে খুঁজতে থাকেন স্যানোরার জন্য একটা পাত্রের। বিয়ে দিতে না পারলে কবে আবার কি অঘটন ঘটে যায় কে জানে? কিন্তু কোন পাত্র খুঁজে পাওয়া গেল না স্যানোরার জন্য তার পায়ের ও আয়তনের জন্য। কেউ এগোলো না স্যানোরাকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহন করতে। রাহেলা বেগমের গ্রামের বাড়ী থেকে পাঠানো কিছু জিনিষ পত্র নিয়ে পালান নামের লোকটি আসে ।এই মানুষটির নাম পালান না হয়ে পালোয়ান হলে ভালো মানাতো। ছয় ফুট লম্বা , পেটানো শরীর, মাথায় বাবরী চুল। যখন ধুপ ধুপ করে হাটে মনে হয় মাটি পালানের ভয়ে কাঁপছে। পালান থেকে যায় এ বাড়ীতে দিন সাতেক। শহরে এসেছে ঘুরবে ফিরবে বাজার হাট করবে সে উদ্দেশ্য ।্ রাহেলা বেগমের মাথায় আসে স্যানোরার সাথে পালানের বিয়ে দিলে কেমন হয়?  রাহেলা বেগম বাড়ীর অন্যান্য কাজের লোকদের লাগিয়ে  দেয় পালানকে বিয়েতে রাজী করাবার জন্য । কাজের লোকজন সক্রিয় ভাবে তাদের দায়িত্ব পালনে নেমে যায়। পালান অট্রহাসিতে ভেঙ্গে পরে, বলে কি এরা? ওর নাহয় আগে  দুটো বিয়ে হয়েছিল, দুটো বউই মরে গেছে । কিন্তু তিন নাম্বার বিয়ে বলে কি এই লেংরা খোঁড়া মেয়েকে বিয়ে করতে হবে? পালান বিয়েতে রাজী হয় না। সবই মিলে নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে পালানকে  রাজী করে বিয়েতে। রাতের বেলা ঘুমাতে গিয়ে স্যানোরাকে তার স্ত্রী চিন্তা করে ঘেমে নেয়ে উঠে পালান। রাতের অন্ধকারে পালান পালিয়ে যাবার জন্য বেড়িয়ে আসে ঘর থেকে । কিন্তু ধরা পড়ে যায় বাড়ীর দাড়োয়ানের হাতেÑ

এত রাইতে কাই যান পালান মিয়া ? যান ঘরে যাইয়া ঘুমাইয়া থাকেন। পালান গুঠি গুটি পায়ে আবার এসে শুয়ে পরে। বিয়ে হয়ে যায় পালানের সাথে স্যানোরার। কিছুদিন পালান মনমরা হয়ে থাকলেও ধীরে ধীরে ভালোবেসে ফেলে স্যনোরাকে। মাঝে মধ্যে গ্রামে যেয়ে নিজের ঘরদোড় দেখে আসে পালান কিন্তু থেকে যায় স্যানোরার সাথে রাহেলা বেগমের বাড়ীতে। স্যানেরার আর পালানের একটি মেয়ে জন্ম নেয়।  স্যানোরা প্রথমেই মেয়ের পাদুটি দেখে ,হে আল্লাহ্ আমার মাইয়ার  পা দুইটা ঠিক  দিছোতো? নাহ্ স্যানোরার মেয়ে সুস্থ পা নিয়েই জন্ম গ্রহন করে। রাহেলা বেগম মেয়ের নাম রাখলেন জরিনা। সাথে সাথে স্যানোরাকে সাবধান করলেন ,একটি সন্তানই যেন যথেষ্ট হয় । সারা বাড়ী জুড়ে বাচ্চাকাচ্চার কিল বিল তিনি সেটা দেখতে চান না।

আবার সময় আসে  স্যানোরার ভাগ্য পরিবর্তনের । রাহেলা বেগম হঠাৎ করেই কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে তিন মাসের মধ্যে ইহলোক ত্যাগ করেন। রাহেলা বেগমের ছেলে মেয়েরা কাজের লোকজন সব বিদায় দিয়ে বাড়ী খালি করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়  স্যানোরাও সেটা থেকে বাদ পরে না। স্যানোরা মাথায় হাত দিয়ে বসে পরে ,কি হইবো জরিনার বাপ?

Ñকি আবার হইবো আমার মাইয়া আমার ঘরেই বড় হইবো  মাইনষের বাড়ীর কামের মাইয়া থাকবো কেন আমার মইয়া?

পালান স্যানোরা আর ছয় মাসের শিশু কন্যা জরিনাকে নিয়ে যখন গ্রামে পৌঁছে তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। আকশে পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে। চাঁদের আলো বিলের পানি ও বাশঝাড়ের মাথা ছাড়িয়ে উঠে ঝলমল করছে , চারদিক নিঝঝুম। বিল থেকে ভেসে আসা মৃদু বাতাস গাছ পালায় হালকা  হাওয়া দিচ্ছে। স্যানোরা এসে দাাঁড়ায়  বিলের কোল ঘেসা  পালানের ঘরটির সামনে।  একটি ঘর পাশে এক চালের রান্নার ঘর ছোট একটি উঠান । উঠানে কয়েকটি কলা গাছ । স্যানোরার চোখ দিয়ে অঝড়ে  অশ্রু ঝড়তে থাকে। স্যানোরা যেন ফিরে যায় তার ফেলে আসা গ্রামটিতে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে