Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-০২-২০১৪

ক্রিকেট ধারাভাষ্যে তাঁর কণ্ঠ

মো. সাইফুল্লাহ


ক্রিকেট ধারাভাষ্যে তাঁর কণ্ঠ

ঢাকা, ০২ এপ্রিল- ঢাকার আগারগাঁও তালতলা কলোনির মাঠে প্রতিদিনই জমত খেলা। ছেলেরা হইহুল্লোড় করে পাড়া জমিয়ে রাখত। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না, এই ছেলেদের ভিড়ে একটা মেয়েও আছে! পুরোদস্তুর ‘টম বয়’ সে, ডানপিটেও। ডাঙ্গুলি, গুলতি, মার্বেল খেলায় সবার আগে হাজির। কলোনির মেয়েরা পুতুল খেলা, হাঁড়ি-পাতিল খেলার সময় তাকে ডাকার সাহস পেত না। ডাকলেও এই কিশোরী বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে বলত, ‘ধুত্তরি! ওসব মেয়েলি খেলায় আমি নেই।’

সেদিনের সেই মেয়ে এখন ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার সুমনা। রেডিও ভূমিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট ম্যাচের ধারাভাষ্য যাঁরা শুনেছেন, তাঁদের কাছে সুমনার ধারাভাষ্য বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এই ধারাভাষ্যকারের পোশাকি নাম সারিয়া তানজিম। বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী তিনি।

‘খেলার সময় মাঠে কী হচ্ছে, শ্রোতাদের চোখে আমি তার একটা দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করি।’ বলেন সুমনা। শুধু কী দৃশ্য? কথা বলতে হয় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, ক্রিকেটের ইতিহাস, এমনকি খেলোয়াড়দের মনস্তত্ত্ব নিয়েও। কেমন করে ক্রিকেটের খুঁটিনাটি শিখলেন? সুমনা বললেন ‘আমি তখন মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটে পড়ি। কলেজের হয়ে হ্যান্ডবল খেলতাম। এরই মধ্যে পরিচয় হলো আলতাফ হোসেন স্যারের সঙ্গে।’ শুরু হলো স্যারের কাছে আমার ক্রিকেট প্রশিক্ষণ। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে স্যার আমাদের কয়েকজনকে খেলা শেখাতেন। ‘এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের জেলাভিত্তিক ক্রিকেট খেলেছি। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আমার খেলা হয়নি।’ বলছিলেন সুমনা। মিরপুর বাঙলা কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। চাকরির ব্যস্ততায় খেলায় আর সময় দিতে পারেননি।

ধারাভাষ্যকার হতে হলে শুধু খেলা জানলেই হয় না, কথা বলাটাও জানতে হয়। সুমনা জানালেন, মাইক্রোফোনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় সেই স্কুলজীবন থেকেই। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাই রেডিও ভূমি যখন ধারাভাষ্যকার হওয়ার প্রস্তাব করল, সুমনাকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি। ‘আমি পারব তো?’—এমন দ্বিধা খানিকটা জেগেছিল ঠিক, তা-ও উবে গেছে স্বামী মাহমুদুল ইসলামের দেওয়া সাহসে। বাবা মো. বদর উদ্দিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন, মা গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট সুমনার বিশ্বাস, মা-বাবার দেওয়া শিক্ষাই তাঁকে এত দূর নিয়ে এসেছে। বলছিলেন, ‘মা সব সময় বলেন, “আমার মেয়ের অনেক সাহস!”’

বাংলাদেশ দলের খারাপ সময়ে সাধারণ দর্শক অভিমান করে খেলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন, সুমনার সে সুযোগ নেই। ‘বাংলাদেশ দল হারতে থাকলেও আমাদের আশার বাণী শোনাতে হয়। আমি না হয় শ্রোতাদের সান্ত্বনা দিলাম, আমাকে সান্ত্বনা দেবে কে? মন খারাপ হয়ে গেলেও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে হয়, কথায় খেলার উত্তেজনাটা ধরে রাখতে হয়। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।’ সবশেষে ধারাভাষ্যকার সুমনা যোগ করলেন—স্বপ্ন দেখি, একদিন আমার কণ্ঠেই সারা দেশের মানুষ বাংলাদেশের বিশ্বজয়ের খবর শুনবে!

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে