Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১১ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (32 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-০২-২০১৪

বছরে হাজার কোটি টাকা বাঁচাবে কংক্রিটের সড়ক

বছরে হাজার কোটি টাকা বাঁচাবে কংক্রিটের সড়ক

ঢাকা, ০২ এপ্রিল- বিটুমিন ব্যবহার বাদ দিয়ে কংক্রিটে সড়ক নির্মাণ করলে শুধু সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরেই বছরে হাজার কোটি টাকার খরচ কমে যাবে। বছরের পর বছর গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে প্রকৌশলীরা দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষার জন্য কংক্রিটের রাস্তা তৈরির সুপারিশ করছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর এবার শুরু হয়েছে তোড়জোড়।

সওজ অধিদপ্তর জানায়, দেশে অধিদপ্তরের প্রায় ২১ হাজার কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের মধ্যে ১৮ হাজারই বিটুমিনের আস্তরণে নির্মিত। এর মধ্যে বছরে নিয়মিত প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। আর তাতে কম হলেও এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। বর্তমান অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ আছে এক হাজার ২২৮ কোটি টাকা। তারপরও সব সড়ক চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে বিটুমিনের সড়কের স্থায়িত্বকাল ২০ বছর বলা হলেও অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচলের কারণে বেশির ভাগ সড়কই পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ের গবেষক সওজ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সন্তোষ কুমার রায় বলেন, কংক্রিটের সড়ক কমপক্ষে ২৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। পাকিস্তান আমলে ও বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দেশে কংক্রিট ব্যবহার করে রিজিড পেভমেন্ট প্রযুক্তির সড়ক নির্মাণ করা হতো। সিমেন্টের সঙ্গে পাথর বা ইট দিয়ে তৈরি কংক্রিট ব্যবহার করা হয় বলে এ পেভমেন্ট দীর্ঘস্থায়ী হয়। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের সড়ক নির্মাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কংক্রিটের রাস্তা নির্মাণ বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে এই অভিজ্ঞ প্রকৌশলী বলেন, ‘২০০৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় সহকর্মী প্রকৌশলী সাব্বির হাসান খানকে নিয়ে এক সপ্তাহের সফরকালে দেখেছি- সেখানে ৬৫ ভাগ সড়কই কংক্রিটের তৈরি। এখন এই হার আরো বেড়েছে। তার আগে এই দেশের সব সড়ক বিটুমিনের প্রলেপে তৈরি হতো। আমাদের দেশে সিমেন্টের দাম কম। এ কারণে সাশ্রয়ী কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ১৫ বছর ধরে আমি এ বিষয়ে কথা বলে আসছি। বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে বিশেষভাবে আগ্রহী।’

দেশে বর্তমানে ২০০ কোটি টন সিমেন্ট উৎপাদন হয়। দেশের চাহিদা দেড় শ কোটি টন। অতিরিক্ত সিমেন্ট বিদেশে রপ্তানি হয়। এ সিমেন্ট ব্যবহার করেই কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা তিন-চার দিন পানি জমে থাকলে বিটুমিনের প্রলেপ উঠে যায়। অথচ পাথর, বালি ও সিমেন্টের কংক্রিট দিয়ে রাস্তা তৈরি করলে তা বেশি দিন টেকে। তাঁরা আরো বলেন, আগে বাংলাদেশে সিমেন্ট আসত ইন্দোনেশিয়া থেকে। ফলে কংক্রিটের সড়ক নির্মাণ করাও ছিল বেশ ব্যয়সাধ্য। সিমেন্ট সংকট ও পশ্চিমা দাতাদের চাপে বাধ্য হয়েই এ দেশের সড়কে বিটুমিন ব্যবহার শুরু হয়।

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে