Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (26 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-০১-২০১৪

২১ স্থলবন্দরের মধ্যে ১৩টিই অকার্যকর

২১ স্থলবন্দরের মধ্যে ১৩টিই অকার্যকর

ঢাকা, ০১ এপ্রিল- ভারতের মেঘালয়, শিলং ও দাউকির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে এবং পণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে ২০০৩ সালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে মামলা জটিলতায় কেটে গেছে এক যুগ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে গত বছর ১৫ একর জমি পাওয়া গেছে। জমি পাওয়ার পর বছর পেরিয়ে গেলেও স্থলবন্দরের কাজ এখনো শুরু হয়নি। একই চিত্র ময়মনসিংহের গোবড়াকুড়া এবং কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরের।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৩টি স্থলবন্দর রয়েছে, যেগুলো এক প্রকার অকার্যকর ও স্থবির হয়ে পড়ে আছে। কাগজে-কলমে থাকলেও এসব স্থলবন্দর দিয়ে কোনো পণ্য আসা-যাওয়া করে না। এগুলো হলো সিলেটের তামাবিল, দিনাজপুরের বিরল, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা, কুমিল্লার বিবিরবাজার, ফেনীর বিলোনিয়া, ময়মনসিংহের গোবড়াকুড়া ও কড়ইতলী, শেরপুরের নাকুগাঁও, খাগড়াছড়ির রামগড়, কুড়িগ্রামের সোনাহাট, রাঙামাটির টেগামুখ, নীলফামারীর চিলাহাটি এবং চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোয়েজদ্দিন বলেন, 'স্থলবন্দরগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। এসব স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাওয়া গেছে মাত্র পাঁচ কোটি টাকা, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।'

সূত্রে জানা যায়, অকার্যকর ও স্থবির ১৩টির মধ্যে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা, কুমিল্লার বিবিরবাজার, ফেনীর বিলোনিয়া, দিনাজপুরের বিরল এবং ময়মনসিংহের কড়ইতলী- এই পাঁচটি স্থলবন্দর অনুমতি দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায়। ফেনীর বিলোনিয়ায় স্থলবন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে ভারতের সঙ্গে জটিলতা তৈরি হওয়ায় পিছু হটতে হয় সরকারকে। এখন অন্য জায়গায় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

দর্শনা এবং বিরল এই দুটি বন্দর রেলকেন্দ্রিক। এর আশপাশে কোনো রাস্তা নেই। অন্যান্য অবকাঠামোও নির্মাণ করা হয়নি। ফলে এই দুটি স্থলবন্দর নাজুক অবস্থায় পড়ে আছে। ময়মনসিংহের কড়ইতলী এবং গোবড়াকুড়া পাশাপাশি হওয়ায় কড়ইতলীকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গোবড়াকুড়া স্থলবন্দর প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ, নীলফামারীর চিলাহাটি, রাঙামাটির টেগামুখ, খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এদিকে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, তামাবিল, গোবড়াকুড়া এবং সোনাহাট স্থলবন্দর- এই তিনটি প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তামাবিল স্থলবন্দরে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া গোবড়াকুড়া স্থলবন্দর নির্মাণে ৩৪ কোটি এবং সোনাহাট স্থলবন্দর নির্মাণে ৪২ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্তমানে আটটি স্থলবন্দর কার্যকর রয়েছে। এগুলো হলো যশোরের বেনাপোল, লালমনিরহাটের বুড়িমারী, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ, দিনাজপুরের হিলি, পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা, কক্সবাজারের টেকনাফ এবং সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর। এর মধ্যে বেনাপোল, বুড়িমারী, আখাউড়া এবং ভোমরা স্থলবন্দর সরকারের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে চলছে। ফলে এই চারটি বন্দর থেকে ভালো রাজস্ব পাওয়া যাচ্ছে। তবে সোনামসজিদ, হিলি, বাংলাবান্ধা এবং টেকনাফ বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হওয়ায় সরকার এই চারটি বন্দর থেকে আশানুরূপ রাজস্ব পাচ্ছে না।

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে