Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (41 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-০১-২০১৪

বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে

বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে

ঢাকা, ০১ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সীমিত রপ্তানির তুলনায় বিশাল আমদানি বাণিজ্যের কারণে এই বৈষম্য তৈরি হয়েছে। দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্যব্যবস্থা চালু থাকার পরও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। সার্কসহ ১৬টি দেশের সঙ্গে এক তুলনামূলক চিত্রে এই বিশাল ঘাটতির অঙ্ক উঠে এসেছে।

সোমবার সংসদ সদস্য শওকত হোসেনের এক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি জানান, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সার্কভুক্ত দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১৫ হাজার ৪১১ দশমিক শূন্য ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে।

এ সময় বিশ্বের ১৬ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য করেছে। গত অর্থবছরে গড়ে ৮০ টাকায় এক ডলার হিসাবে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ১৮ হাজার ৩২৮ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকার পণ্য। বিপরীতে রপ্তানি করেছে ২ হাজার ৯২৭ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৩ হাজার ৪২০ কোটি ৩২ লাখ টাকার পণ্য। আমদানি-রপ্তানির এই বাণিজ্য ঘাটতি ১৫ হাজার ৪১১ দশমিক শূন্য ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১ লাখ ২৩ হাজার ২৮৮ কোটি টাকার কিছু বেশি।

সার্কভুক্ত ও পর্যবেক্ষক দেশগুলোর মধ্যে শুধু মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বাণিজ্য ঘাটতি নেই। বরং ওই দুটি দেশে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি দেড়গুণ বেড়েছে।
তুলনামূলক চিত্রে বাংলাদেশ চীন থেকে আমদানি করে ৬৩০৭ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে রপ্তানি হয় ৪৫৮ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৫৮৪৯ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন ডলার।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৪২৩৮ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছর ভারতে রপ্তানি হয়েছে ৫৬৩ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আমদানি হয়েছে ৪৭৭৫ দশমিক শূন্য ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।

মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ১০০ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। আর আমদানি করা হয়েছে ১৪৯৬ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঘাটতি ১৩৯৬ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ২৫০ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। আমদানি হয়েছে ১২৯৬ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। ঘাটতি ১০৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ১০০২ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই দেশে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৫০ দশমিক ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে আমদানি করেছে ১০৫৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্যসামগ্রী।

সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করা হয় ১০৭৫ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য । এই দেশে রপ্তানি হয় মাত্র ১৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৯১৯ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জাপান থেকে আমদানি হয় ১১৮০ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে রপ্তানি হয় ৭৫০ দশমিক ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৪৩০ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
পাকিস্তানের সঙ্গেও রয়েছে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি। পাকিস্তানে রপ্তানি হয় ৬৮ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অন্যদিকে আমদানি হয়েছে ৪৮৯ দশমিক শূন্য ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বাণিজ্য ঘাটতি ৪২০ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি হয় ৪৭০ দশমিক ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে রপ্তানি হয় ৪৬১ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।
আফগানিস্তানে রপ্তানি হয় ৩ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশ আমদানি করে মাত্র ২ দশমিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বাণিজ্য ঘাটতি নেই। বড় রপ্তানি বাণিজ্য প্রতিবছর বাড়ছে।

একই সঙ্গে মালদ্বীপের সঙ্গেও বাড়ছে রপ্তানি। বাংলাদেশ মালদ্বীপে রপ্তানি করেছে ১ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অন্যদিকে আমদানি করেছে শূন্য দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।
ফিলিপাইনে বাংলাদেশ রপ্তানি করে ২০ দশমিক ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বাংলাদেশ ওই দেশ থেকে আমদানি করে ২০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। ঘাটতি শূন্য দশমিক ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ভুটানের সঙ্গেও ঘাটতির পরিমাণ ২২ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই দেশ থেকে যেখানে আমদানি করা হয় ২৪ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য, সেখানে রপ্তানি হয় মাত্র ১ দশমিক ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।

প্রতিবেশী দেশ নেপালের থেকে আমদানি করা হয় ৩০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অন্যদিকে রপ্তানি করা হয় ২৬ দশমিক ৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৫৩ দশমিক ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই দেশ থেকে আমদানি করা হয় ৯৪ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অন্যদিকে রপ্তানি হয় ৪০ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।

সার্কের অন্যতম দেশ শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ৩৯ দশমিক ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে রপ্তানি হয় ২৩ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ১৬ দশমিক ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অপরাপর দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করছে সরকার ।

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে