Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৬-২০১২

ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে রাজধানীতে

ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে রাজধানীতে
ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, লেইন অমান্য, অকার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাথ দখল, পুলিশের দায়িত্ব অবহেলা ও পথচারীদের যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের  কারণে রাজধানী জুড়ে যানজট লেগেই আছে। গতকাল সরজমিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক বিশৃঙ্খলার এমন নানা চিত্র দেখা গেছে। বছরখানেক আগে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যেসব কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল এখন তার সবই প্রায় অকার্যকর। এরমধ্যে আলোচিত ছিল লেইন সিস্টেম চালুকরণ। কিন্তু গতকাল কোন সড়কেই ওই লেন মার্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। চালকদেরও তা অনুসরণ করতে দেখা যায়নি। রাস্তায় ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্যকারীদের শনাক্তকরণের জন্য রাজধানীর ৬৯ পয়েন্টে বসানো হয়েছিল ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। এগুলোর বেশির ভাগ এখন অকার্যকর। ঘড়ির কাঁটা  ও স্কুলের সময়সীমার বদল করেও যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হয়েছিল। এসব প্রসঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পথচারীদের আইন না মানার প্রবণতার কারণেই যানজট নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার না করে তারা যত্রতত্রভাবে রাস্তা পার হয়। এতে প্রধান সড়কে যানবাহনের গতি থেমে যায়। তৈরি হয় দীর্ঘ যানজটের। ইউবিএল ক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট জামিউল বলেন, ৬ কারণে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এরমধ্যে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে রেল ক্রসিং, ব্যস্ত সড়কে রিকশা চলাচল,  পথচারীদের বেপরোয়া রাস্তা পারাপার ও রাস্তার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় যানজটের কবলে সবাইকে নাকাল হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পথচারীদের জন্য একবার সিগন্যাল দিলে প্রায় দু’শ গজের জ্যাম সৃষ্টি হয়। এভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিট পর পর সিগন্যাল ফেললে এমনিতেই গাড়ির গতি কমে যায়।  দুপুর ১২টার দিকে হোটেল রূপসী বাংলার সামনে দিয়ে ব্যস্ত সড়ক পার হচ্ছিলেন কাপড় বিক্রেতা নুরুল ইসলাম। ফুটওভার ব্রিজ বাদ দিয়ে রাস্তা পারাপারের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওভারব্রিজের নিচে  ও ওপরে খারাপ লোকজনের আড্ডা। মালামাল ও টাকা পয়সা হারানোর ভয়ে তিনি ওভারব্রিজ ব্যবহার করেন না। এদিকে  রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যানজট  ছাড়ছে না। হঠাৎ করেই দিনে-দুপুরে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হওয়ায় যানজটে নাকাল হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। এরমধ্যে হোটেল রূপসী বাংলা সংলগ্ন সড়ক, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, পল্টন ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ট্রাফিক পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. একরামুল হাবিব বলেন, শীতকালে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বেশি হয়। একারণে নগরীতে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া, বিভিন্ন সড়কে দায়িত্ব অবহেলার কারণে বেশ কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সমপ্রতি ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় মামলার সংখ্যাও বেড়েছে। ওদিকে বাংলামোটর থেকে মগবাজার, শাহবাগ, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, ফার্মগেইট, সায়েন্সল্যাব, পান্থপথ, শিশুপার্কের সামনে, মতিঝিল প্রধান সড়ক, দিলখুশা, পল্টন ও  বেইলী রোডের বিভিন্ন  ফুটপাথে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, নগরীর বিভিন্ন সড়কের ফুটপাথ হকারদের দখলে থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, শাহবাগ মোড় থেকে শহীদ জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত, সায়েদাবাদ, জিপিও মোড়, প্রেসক্লাব, যাত্রাবাড়ী এলাকার রাস্তায় প্রায় সবসময় যানজট থাকে। এর পেছনে যাত্রীবাহী বাসগুলো দায়ী। তারা যত্রতত্রভাবে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলায় অন্যান্য যানবাহনের ভোগান্তির কারণ হয়। এদিকে প্রধান সড়কের বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শাখা সড়কেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সময় থেকেই যানজট লেগে থাকে। এরমধ্যে মিরপুর গোলচক্কর,  মনিপুর স্কুলের আশেপাশের সবক’টি রাস্তা, দারুস সালাম, মোহাম্মদপুর মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের খালপাড় থেকে শুরু করে রিং রোড পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক, পুরান ঢাকার জনসন রোড, নর্থ সাউথ রোড, মিটফোর্ড রোড ও সদরঘাট এলাকার প্রায় সবগুলো সড়কই অবৈধ ব্যবসায়ীদের দখলে। ইট, রড, সিমেন্টসহ নানা নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখার কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। আদাবর ও রিং রোডের অধিবাসীরা জানান, ম্যানহোল ও বক্স কালভার্ট নির্মাণের কারণে রাস্তা কাটা ছেঁড়া হচ্ছে। কোথাও ৫ ফুট কোথাও ১০ ফুট গভীর করে গর্ত করা হয়েছে। এসব গর্তের মাটি রাস্তার মধ্যে যত্রতত্রভাবে ফেলে রেখে পথচারীদের চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে