Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ , ১১ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.2/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৬-২০১২

প্রধানমন্ত্রীর সই ছাড়া বাছাই কমিটি হবে না

প্রধানমন্ত্রীর সই ছাড়া বাছাই কমিটি হবে না
প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের বাছাই কমিটি রাজনীতিতে কোন চমক বয়ে আনেনি। যদিও সরকারি দল বিরাট অর্জন হিসেবে দেখাতে চাইছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, সংলাপের একমাত্র ফসল যদি বাছাই কমিটি হয়, তাহলে সেটার প্রচার বেশি চালালে তারা লাভবান হবে না। কারণ সাংবিধানিক কোন পদের জন্য বাছাই কমিটি গঠন এবারই প্রথম নয়।
বাছাই কমিটি গঠনের এই উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে গঠিত সুপ্রিম জুডিসিয়াল কমিশন অধ্যাদেশকেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ওই অধ্যাদেশে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারক, আইনমন্ত্রী, এটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি প্রমুখ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রেসিডেন্টের উদ্ভাবিত বাছাই কমিটি জরুরি অবস্থায় গঠিত ওই বাছাই কমিটির চেয়ে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য মনে করার কারণ নেই। ওই বাছাই কমিটিও অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল। এবারেও অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাছাই কমিটি গঠনের কথা উঠেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, প্রেসিডেন্ট চাইলে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আওতায় যে বাছাই কমিটি করা যায়, তা অধ্যাদেশের মাধ্যমেও হতে পারে।
লক্ষ্যণীয় যে, কবরস্থানে ফাতেহা পাঠের ক্ষমতাধর হিসেবে যে প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের মানুষ এতদিন জেনে এসেছে, তাঁকে হঠাৎ করেই ‘স্বাধীন’ হয়ে উঠতে দেখা গেছে। অথচ সংবিধান বিশেষজ্ঞরা একমত যে, প্রেসিডেন্টের একক ইচ্ছা অনুযায়ী কমিটি হতে হলে সংবিধান সংশোধন লাগবে। কারণ ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করতে বাধ্য। রুলস অব বিজনেসেও এটা লেখা আছে। সংবিধানের আওতায় প্রণীত এই বিধিতে বলা আছে, প্রধান কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠাতে হবে।
এখন প্রেসিডেন্ট যদি অধ্যাদেশ জারি করেন তাহলেও সেই অধ্যাদেশে ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠাতে হবে বলেও রুলস অব বিজনেসে লেখা আছে।
সচেতন মহল লক্ষ্য করছেন, সরকারি দল হঠাৎ করেই প্রেসিডেন্টকে অভিভাবক হিসেবে এবং তার একটা স্বাধীন ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠেছেন। বিচারতি সাহাবুদ্দীন আহমদ বিতর্কিত জননিরাপত্তা বিল পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রিসভায় ফেরত পাঠিয়েছিলেন। সেই স্বাধীনতার খেসারত তিনি আজও দিয়ে যাচ্ছেন। জনজীবন থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে গেছেন।
উল্লেখ্য যে, বাছাই কমিটি দিয়ে কোন কমিশন গঠন বা পুনর্গঠন করলেই যে তা শক্তিশালী হতে পারে না- তার তিনটি জ্বলন্ত নজির বর্তমান সরকারের আমলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাছাই কমিটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই তিনটি কমিশনের ক্ষেত্রেই বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্তদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সেদিক থেকে আওয়ামী লীগ সরকার বাছাই কমিটির মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো আরেকটি কমিশন পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে। তবে দুদক, তথ্য ও মানবাধিকার কমিশন সাংবিধানিক না হলেও নির্বাচন কমিশনারের মতো সাংবিধানিক পদধারীদের সঙ্গে একটি মিল রয়েছে। সেটি হলো- এই চারটি কমিশনের সদস্যদের অপসারণের পথ হচ্ছে অভিন্ন। সেটি হলো- সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল। এই কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া বৈঠকে বসতে পারে না। প্রত্যেকেরই প্রবেশে প্রধানমন্ত্রী। প্রস্থানেও প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, শপথ নেয়ার প্রাক্কালে এটিএন নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল্লুর রহমান বলেছিলেন, ‘তাঁর নেত্রী (শেখ হাসিনা) কোন ভুল করতে পারেন না। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার সভানেত্রী ভুল করলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনি তা কিভাবে মোকাবিলা করবেন?

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে