Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৯ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-২৯-২০১৪

‘জান, কেমন আছো’ শোনার পরই খুনের সিদ্ধান্ত নেই

‘জান, কেমন আছো’ শোনার পরই খুনের সিদ্ধান্ত নেই

চট্টগ্রাম, ২৯ মার্চ- “আমি নাজনীনকে মোবাইল ফোনের একটি সিম দিয়েছিলাম। এই সিম দিয়ে আমরা কথা বলতাম। একপর্যায়ে সে আমার থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। তাই আমি কিছুদিন আগে নাজনীনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমটি ব্লক করে একই নম্বরের নতুন সিম তুলি। এটি চালু করতেই একটি ফোনকল আসে। ও প্রান্ত থেকে বলে, ‘জান, কেমন আছো?’ এ কথা শুনেই সিদ্ধান্ত  নেই- নাজনীনকে আমি ছাড়া অন্য কেউ পেতে পারে না।”

‘জান, কেমন আছো’ শোনার পরই খুনের সিদ্ধান্ত নেই
চট্টগ্রামে মা-মেয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আবু রায়হান (২৪) গতকাল বৃহস্পতিবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছে। সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয় এবং বিকেলে মহানগর হাকিম আদালতে রায়হানের সঙ্গে তার সহযোগী শহিদও জবানবন্দি দেয়। মহানগর হাকিম নূরে আলম ভুঁঞার আদালতে জবানবন্দি শেষে দুই আসামিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

দুই আসামির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য সাংবাদিকদের জানান সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত কমিশনার (অর্থ, প্রশাসন ও ট্রাফিক) এ কে এম শহীদুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বনজ কুমার মজুমদার, গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার কুসুম দেওয়ান, অতিরিক্ত উপকমিশনার বাবুল আক্তারসহ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রায়হানের বাবা পুলিশের হাবিলদার আবুল বশর। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনের আরআরএফ শাখায় কর্মরত। রায়হান মা-বাবার সঙ্গে নগরের ডবলমুরিং থানার শান্তিবাগ এলাকায় থাকত। তার বন্ধু ও ভাড়াটে খুনি শহীদ (২৬) চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাবুল মিয়ার ছেলে।

জবানবন্দিতে রায়হান বলে, ‘প্রথমে নাজনীনকে তুলে আনার পরিকল্পনা করি। পরে হত্যার সিদ্ধান্ত নেই। হত্যা করতে অস্ত্রের সন্ধান শুরু করি। শেষে একজনকে ৩৪ হাজার টাকা দেই অস্ত্রের জন্য। কিন্তু ওই অস্ত্র বিক্রেতা টাকাগুলো আত্মসাৎ করে। শেষে ছুরি দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করি।’

রায়হান জানায়, নাজনীনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির পর একাধিকবার সে নাজনীনদের বাসায় গেছে। নাজনীনের মা-ও সম্পর্কের কথা কিছুটা জানতেন। পরবর্তী সময়ে নাজনীন রায়হানকে এড়িয়ে যাওয়ার কারণে গত ১৯ মার্চ রায়হান ঢাকায় যাওয়ার নাম করে বাসা থেকে বের হয়। এই সময় মায়ের কাছ থেকে নেয় তিন হাজার টাকা। এ ছাড়া মায়ের রক্ষিত ৪০ হাজার টাকার একটি চেক চুরি করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়। ঢাকায় না গিয়ে সে খুলশী এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে থেকে যায়।

এরপর ক্রাউন রেসিডেন্সি গেস্ট হাউসে গিয়ে পূর্বপরিচিত আতিকের সঙ্গে কথা বলে। তার মাধ্যমে পরিচিত হয় শহীদের সঙ্গে। পরে শহীদ তার খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে রাজি হয়। চুক্তি হয়, সহযোগিতা করলে শহীদ পাবে ১০ হাজার টাকা। আর নাজনীনদের বাসায় মূল্যবান কিছু পাওয়া গেলে তাও শহীদ পাবে। এই সিদ্ধান্তের পর ২২ মার্চ কর্নেল হাটের একটি কামারের দোকান থেকে ৫০০ টাকায় ছুরি এবং ২৫০ টাকায় মাছ মারার কোঁচা কিনে আনে। ২৪ মার্চ সকালে শহীদ তার মালিকের বাচ্চাদের বাসায় নামিয়ে দিয়ে পূর্বপরিচিত একটি অটোরিকশা নিয়ে আগ্রাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে অপেক্ষা করতে থাকে। পৌনে ১০টায় নাজনীনের বাবা ও ভাই গাড়ি নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বাসায় প্রবেশ করে রায়হান ও শহীদ।  বাসায় প্রবেশ করেই নাজনীনকে বের করে নিতে টানাটানি শুরু করে রায়হান। কিন্তু নাজনীন বের হচ্ছিল না। দুজনে ধস্তাধস্তির সময় রায়হানের কাঁধের ব্যাগ পড়ে যায়। শহীদ ব্যাগ নিয়ে সোফায় রাখার সময় নাজনীনের মা চলে আসেন। পরক্ষণেই শহীদ ব্যাগ থেকে ছুরি নিয়ে নাজনীনের মাকে আঘাত করে। তিনি মেঝেতে পড়ে যান। নাজনীন রায়হানের হাতের আঙুলে জোরে কামড় দেয়। তখন শহীদ নাজনীনকে ছুরিকাঘাত করে। এরপর রায়হান শহীদকে বলে, ‘তুই কেন নাজনীনকে মারবি, আমি মারব।’ এই বলে রায়হান নিজেই নাজনীনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।

বাসা থেকে দুজন বেরিয়ে আসার সময় শহীদ বলে, ‘ওরা মরেনি, আমাদের চিনে ফেলেছে।’ তখন শহীদ ছুরি নিয়ে মা-মেয়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং পালিয়ে যায়।

রায়হান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলে, “মোবাইল ফোনে অন্যজনের কণ্ঠে ‘জান’ শব্দটা শুনেই বুঝে যাই যে নাজনীন অন্যের হয়ে গেছে। তাই খুনের সিদ্ধান্ত নিই। তবে আন্টিকে খুনের পরিকল্পনা ছিল না। তিনি বাধা দেওয়ায় খুন হয়েছেন।”

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে