Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯ , ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-২৮-২০১৪

ওবামার কাছে সৌদি বাদশাহর সাবেক পত্নীর আর্তি

ওবামার কাছে সৌদি বাদশাহর সাবেক পত্নীর আর্তি

ওয়াশিংটন, ২৮ মার্চ- বাদশা আব্দুল্লাহর তালাকপ্রাপ্ত এক স্ত্রী তার চার তরুণী কন্যাকে রাজপ্রাসাদের বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার ওবামার কাছে এমন আবেদন করেছেন।
 
আলানুদ আল ফায়েজ (৫৭) নামে ওই নারী বাদশাহকে ২০০৩ সালে ডিভোর্স (তালাক) দেন। এরপর থেকেই তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন। ১৩ বছর আগে প্রাসাদে যে চার মেয়েকে রেখে এসেছেন তারা সবাই এখন পূর্ণবয়স্ক। কিন্তু তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে ফায়েজের অভিযোগ। এখন তিনি সৌদি আরবে গিয়ে সাবেক স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে চান।
 
ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইল জানায়, বাদশা আব্দুল্লাহর সঙ্গে ফায়েজ দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। আর এই দ্বিতীয় সাক্ষাতের একদিন আগে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি ওবামার প্রতি খোলা চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়ের প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে সে ব্যাপারটি মিস্টার ওবামার অবশ্যই গ্রাহ্য করা উচিৎ।’
 
আল ফায়েজ বার্তাসংস্থা এএফপির কাছে অভিযোগ করেন, খাবার এবং ওষুধপত্র কেনার জন্য তাদের খুব কমই বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। আর তাদের প্রতি কোনো স্নেহ মমতা দেখানো হচ্ছে না।

তিনি  বলেন, ‘১৩ বছর ধরে আমার মেয়ে সাহার, মাহা, হালা এবং জাওয়াহারকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তাদের বাঁচানো দরকার এবং এজন্য এখনই ওই প্রাসাদ থেকে মুক্ত করা জরুরি।’
 
আফ ফায়েজ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকেও চিঠি লিখেছেন। তাতে তিনি বলেন, তার মেয়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয়েছে। তারা বাইরের বিশ্বে থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
 
এদিকে সাহার ও জাওয়াহার আরেক পত্রিকা সানডে টাইমসকে ইমেইলে বলেছেন, তাদের একলা বাড়িতে রাখা হয়েছে। এ বাড়ির দরজা বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে। তাদের দেখাশুনা করার কেউ নেই। বাসার কাজ করে দেয়ারও কোনো লোক নেই।
 
তবে তারা কীভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেলেন সে বিষয়টি জানাননি।
 
সাহার (৪২) এএফপিকে ইমেইলে লেখেন, ‘আমাদের কোনো পাসপোর্টও নেই আইডিও নেই। আমাদের গৃহবন্দি করা হয়েছে। আমাদের এবং আমাদের পোষা প্রাণীগুলোর জন্য খুব সামান্যই খাবার দেয়া হয়।’
 
তিনি আরো লেখেন, ‘গত বুধবার থেকেই তারা আক্ষরিত অর্থেই আমাদের অভুক্ত রেখেছে। আমরা দিনে একবার খেয়ে থাকি। বাকি খাবার আমাদের পোষা প্রাণীর জন্য রেখে দেই। আমরা এখানে কোনোরকমে বেঁচে আছি।’
 
উল্লেখ্য, যুবরাজ আব্দুল্লাহ ২০০৫ সালে সৌদি আরবের বাদশাহ হন। তেলসমৃদ্ধ ধনী এ দেশ মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। এদেশের শাসক পরিবারের সদস্য সংখ্যা বিপুল। আর এরা সবাই ব্যাপক বিলাসী জীবনযাপন করেন। বর্তমান বাদশাহ বিশ্বের সেরা ধনীদের একজন।
 
এই বাদশাহর সঙ্গে আল ফায়েজের বিয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে। বিয়ের এক দশক পরেই তিনি আব্দুল্লাহকে ডিভোর্স দেন।
 
বাদশাহ আব্দুল্লাহর কয়েকজন স্ত্রী আর সন্তান সংখ্যা ৩৮ জন। ফায়েজের গর্ভজাত মেয়ে সাহারের ভাষ্যমতে, মা আল ফায়েজের সঙ্গে তাদের চার বোনকে বাদশাহ তাদের তিন সৎভাইয়ের তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন।
 
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী কোনো মেয়ের পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া এবং একজন নিকটাত্মীয়কে সঙ্গে না নিয়ে কোনো কাজে বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ।

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে