Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-২৭-২০১৪

যে কারণে বিদেশ সফরে সিইসি

গোলাম রাব্বানী


যে কারণে বিদেশ সফরে সিইসি

ঢাকা, ২৭ মার্চ- অভিমান নয়, উপজেলা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পারবেন না বলেই যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তবে দেশে ফিরে তিনি সিইসির দায়িত্ব পালন করবেন কি-না তা নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অপর চার নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে কিছুটা মৌন দ্বন্দ্বও রয়েছে। চার কমিশনার একদিকে, সিইসি আরেক দিকে। জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে সিইসি অপর কমিশনারের সঙ্গে একমত হতে পারছিলেন না। তারা অনেকটাই সরকারের পক্ষে কথা বলেছেন। এ জন্যও তিনি নির্বাচন কমিশনারদের ওপর নির্বাচন ছেড়ে দিয়ে সফরে গেছেন বলেও অনেকে মনে করছেন। আর সিইসি দেশে না থাকায় নির্বাচনে জাল ভোট, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

এদিকে সারা দেশে উপজেলা নির্বাচন চলছে, আর সিংহভাগ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন রেখে গত ৩ মার্চ সিইসির সফরে যাওয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে সিইসির দীর্ঘ সফর নিয়ে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেননা, সিইসি এমন একটি পদ, যে পদে কোনো ভারপ্রাপ্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। সিইসির দেশে না থাকা নিয়ে গত সোমবার এসএ টিভিতে লেট এডিশন শীর্ষক টকশোতে অংশ নিয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সা'দত হুসাইন বলেছেন, উপজেলা পরিষদের চতুর্থ দফা নির্বাচন ভালো হয়নি। সারা দেশেই দখল, সহিংসতা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এসব স্থানে সহিংসতা হতে পারে এটা কমিশন জানত। নির্বাচনে এক দিন আগে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কমিশন। কারণ, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রধান কমিশনারকে থাকতে হবে। অথচ তিনি দেশে নেই। ইসি সূত্র জানিয়েছে, সিইসি দেশে থাকাকালে প্রথম দুই ধাপের ভোট হয়। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের ভোটের সময় যুক্তরাষ্ট্র সফরে সিইসি। তবে ইতোমধ্যে তার অনুপস্থিতিতে তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, সিইসি সফরে যাওয়ার পরই উপজেলা নির্বাচনে ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোট ও সহিংসতা বেড়েছে। এ ছাড়া এ দুই ধাপের ভোটে কমিশনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল মাঠ প্রশাসন। কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে সরকারের কথামতো কাজ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সিইসির দীর্ঘ সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এমনকি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মুখে মুখে রয়েছে সিইসির সফর নিয়ে গুঞ্জন। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিইসি ক্লান্ত বলেই সফরে গেছেন। তবে এমন কথা মানতে রাজি নন ইসির কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, সিইসির ছুটিতে যাওয়া নিয়ে এমন ব্যাখ্যা ঠিক নয়। উপজেলা নির্বাচনের নানা অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারেননি বলে নিজের দায় এড়াতে তিনি ছুটিতে গেছেন।

যদিও ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ উপজেলা নির্বাচন নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে চিঠি (ই-মেইল) পাঠিয়েছেন। এরপরই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীকে গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়। চিঠিতে সিইসি মাঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ইতোমধ্যে ছোটখাটো ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বাকি নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু করতে কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করতে হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সিইসির চিঠিতেও কোনো কাজ হয়নি। চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে আরও ব্যাপক সহিংসতা, ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা নির্বাচন রেখে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ৩ মার্চ সিইসি দেড় মাসের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। টার্কিস এয়ারলাইনসের টিকে-৭১৩ নম্বর ফ্লাইটযোগে নিউইয়র্কের উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। মধ্য এপ্রিলে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সিইসি সফরে রয়েছেন। তবে এপ্রিলের শুরুতে প্রকল্পবিষয়ক যে প্রোগ্রাম রয়েছে সেখানে সিইসিও যোগ দেবেন। জানা গেছে, গত ২ মার্চ সফর নিয়ে সিইসির স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে '৩ মার্চ থেকে আমি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করব। আমি না ফেরা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।' তবে ওই অফিস আদেশে সিইসি কত দিনের সফরে গিয়েছেন বা কবে দেশে ফিরবেন তা উল্লেখ করা হয়নি। নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সারা দেশে যখন উপজেলা নির্বাচন চলছে, এমন সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিদেশ সফর জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করবে। এমনকি সিইসির অনুপস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানেও ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিইসির অনুপস্থিতিতে অন্য কাউকে তার দায়িত্ব এককভাবেই সিইসি দিতে পারেন না। এ জন্য কমিশনের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে হবে। সিইসির দেড় মাসের বিদেশ সফরে যাওয়া নিয়ে এর আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, এর আগে এ রকম হয়েছে বলে মনে তো পড়ে না। তবে প্রশ্ন আসবে যখন তার জায়গায় কে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে একটি মামলা হয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার একজন নির্বাচন কমিশনারকে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন। ওটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল তিনি এভাবে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারেন কি-না? তবে যতদূর মনে পড়ে কোর্ট বলেছিলেন- প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অনুপস্থিতিতে তিনি কাউকে এভাবে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারেন না।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে