Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-২৫-২০১৪

গণমাধ্যম ভূল করলে গণতন্ত্র শেষ হয়ে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যম ভূল করলে গণতন্ত্র শেষ হয়ে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ২৫ মার্চ- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আমরা ভূল করতে পারি। কিন্তু গণমাধ্যম ভূল করতে পারে না। গণমাধ্যম ভূল করলে গণতন্ত্র শেষ হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যবসা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য গণমাধ্যম কখনো খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়নি। হবেও না। গণমাধ্যম স্নেহশীল মাযের মতো ভূমিকা পালন করবে। আমরা দলবাজি করতে পরি। কিন্তু গণমাধ্যম দলবাজি করতে পারবে না। গণমাধ্যম কাউকে ঘায়েল করবে না। গণমাধ্যম কতিপয় ব্যবসায়ীদের হয়ে কাজ করবে না।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের পরিবহনের সমস্যা আছে, গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা আছে, শুল্ক করের সমস্যা আছে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য দিয়ে আপনাদের সহায়তা করতে পারে। আপনার ব্যবসা বাণিজ্য করেন। রাজনীতির দিকে নজর দিলে আপনারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এ সময় গণমাধ্যমকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, মুনাফা করা আর লুট করা এক জিনিস না। এ দুটির পার্থক্য গণমাধ্যমকে বুঝতে হবে।

তথ্য মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীটা যে পর্বে আছে তা হলে পরবর্তীদের উত্থান পর্ব। পরবর্তীদের তালিকায় যে দেশগুলো আছে তার ১১টির মধ্যে বাংলাদেশের নাম আছে।

প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবাহান চৌধুরী বলেন, একটি মিডিয়া তৈরি করতে অনেক পুঁজির প্রয়োজন। তাই ভালো মিডিয়া করতে হলে ভালো উদ্যোক্তা প্রয়োজন। মিডিয়ার দায়িত্বের কারণে সমাজের অনাচার, কালো দিকগুলো তুলে আনা সম্ভব হচ্ছে। আর এগুলো মিডিয়াতে তুলে ধরতে না পারলে অনাচার আরও অনেক বেড়ে যেতো।

কেউ আইনের উর্ধ্বে নয় উল্লেখ করে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা আছে বলেই কেউ যা খুশি লিখতে পারেন না। তাই কারও কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করতে পারেন। আমরা আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমাদের অযথা হয়রানি করবেন না।

মতিউর রহমান সেমিনারে উপস্থাপন করা প্রবন্ধের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, প্রবন্ধে সাংবাদিকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, স্বল্প বেতনের কথা বলা হয়েছে, এমনকি বলা হয়েছে সংবাদ মাধ্যমগুলো মালিকদের স্বার্থ দেখে। এ কথাগুলো কতোটা সত্য তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম ব্যবসা বিরোধী কাজ করে না। যা সঠিক তাই তুলে ধরে। দেশের সব থেকে বড় কলঙ্ক শেয়ারকেলেঙ্কারি। এর মাধ্যমে মোটা ‍অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যারা জড়িতো তাদের বিচার কখনো ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়নি। এমনকি ঋণখেলাপিদের বিষয়েও তারা কিছু বলেন না। তবে সংবাদ মাধ্যমগুলো এসব বিষয়ে লিখছে। ভবিষ্যতেও লিখবেন। এতে হয়তো কেউ কেউ মনোক্ষুন্ন হবেন।

ডিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান বলেন, দুর্নীতি যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। গণমাধ্যম সঠিক ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে সরকারি এবং বেসরকরি উভয় খাতের স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

দেশের অর্থনীতির সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের দেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট প্রধান অন্তরায় বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ সমস্য। তাজরীন গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনার পর গার্মেন্টসশিল্পের পাশাপাশি জাতি হিসেবে বাংলাদেশের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়েছে। দেশের হারানো ইমেজ ফিরিয়ে আনতে মিডিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের রিসার্চ ফেলো ড. আবুল বাশার ও ডিসিসিআই পাবলিকেশন অ্যান্ড পিআর স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এম. এস. সিদ্দিকী।

প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষানমাসিক মিলে নিবন্ধিত পত্রিকার সংখ্যা ৪৭৬টি। এরমধ্যে দৈনিক ৩১৪টি। যার ১১৬ টি ঢাকার এবং ১৯৮টি অন্য স্থানের। দেশে নিবন্ধিত টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ২৭টি এবং এফএম রেডিও ১৬টি।

এতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দৈনিক প্রত্রিকার দিক থেকে বাংলাদেশ বেশ ভালো অবস্থানে আছে। বাংলাদেশের প্রতি পাঁচ লাখ মানুষের জন্য একটি দৈনিক পত্রিকা রয়েছে। যেখানে ভারতে এক লাখ মানুষের জন্য একটি, পাকিস্তানের ছয় লাখ মানুষের জন্য, শ্রীলঙ্কার ১৭ লাখ মানুষের জন্য এবং ন্যাপালের প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য একটি করে জাতীয় দৈনিক রয়েছে।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ-যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জেনারেল ইকোনোমিক ডিভিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম প্রমুখ।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে