Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯ , ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২২-২০১৪

ইরান হকি দলের ‘বাঙালি’ ম্যানেজার

বদিউজ্জামান


ইরান হকি দলের ‘বাঙালি’ ম্যানেজার

ঢাকা, ২২ মার্চ- গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হেরে মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইরানের কোচ রজব নূরানি। ভাঙা ভাঙা ইংরেজি জানেন বলে অনুবাদকের ভূমিকা নিতে হলো দলের ম্যানেজার হাদি সারিয়াতি সারাভিকে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে বাংলায় বললেন, ‘আমি ভালো আছি। আপনারা কেমন আছেন?’

ইরানি ভদ্রলোকের মুখে স্পষ্ট বাংলা উচ্চারণ শুনে সবাই অবাক। এত সুন্দর করে বাংলায় কথা বলাটা শিখলেন কোথায়? রহস্যটা খুলে বললেন সারিয়াতি, ‘আমার জন্ম এই দেশেই। ইস্কাটনের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে, ১৯৫৭ সালের ৭ ডিসেম্বর।’

বাবার চাকরির সুবাদে সারিয়াতির পরিবার দেশ ভাগের অনেক আগেই ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁর বাবা ছিলেন ইস্পাহানি গ্রুপের চা বিশেষজ্ঞ। সারিয়াতির শৈশবের অনেকটা জায়গাজুড়ে আছে ঢাকা শহর। মগবাজার ইস্পাহানি কলোনিতে থাকতেন। আদমজি স্কুলে পড়েছেন স্কুল জীবনের পুরোটা সময়ই। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা ছেড়ে ইরান চলে যায় তাঁদের পরিবার। এরপর মাঝে একবার ঢাকায় এসেছিলেন ১৯৭৮ সালে। ৩৬ বছর পর আবারও ঢাকায় পা রেখেছেন এশিয়ান গেমস হকির বাছাই পর্বের সুবাদে। এবার এসেছেন ইরান জাতীয় হকি দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব নিয়ে।

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে ইরানের খেলোয়াড়দের রেখে নিজে ঘুরে এসেছেন শৈশবের স্মৃতি জড়ানো প্রিয় জায়গাগুলোতে। গিয়েছিলেন ইস্পাহানি কলোনিতে। মতিঝিলে ইস্পাহানি গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে। আদমজি ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গেও দেখা করে এসেছেন। এক ফাঁকে নিজের ক্লাসরুমের বেঞ্চে বসে ছিলেন খানিকক্ষণ। মন যেন ফিরে গিয়েছিল সেই দুরন্ত কৈশোরে। তা এবার এসে কোনো বন্ধুকে খুঁজে পেয়েছেন? হতাশার সুরে বললেন, ‘আমার কোনো বন্ধুকে এখনো পাইনি। তবে আমার বড় ভাইয়ের এক বন্ধুর সঙ্গে টিম হোটেলে দেখা হয়ে গেল। উনি সেন্ট যোশেফে আমার ভাইয়ের সঙ্গে পড়তেন। এখন উনি ওই হোটেলের কর্মকর্তা। দেখে কী যে ভালো লাগল আমার!’
ইরানে গিয়েও বাংলাদেশের জন্য সারাক্ষণ মন পুড়ত সারিয়াতির। দাবি করলেন, এই দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, ‘আমি মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলাম। এটা যে স্বাধীনতার মাস, ২৬ মার্চ যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, সেটা আমার ভালোই জানা।’

বাংলাদেশকে ভালোবাসলেও বিয়ে করেছেন পাকিস্তানি মেয়েকে। তবে বাঙালি খাবারের স্বাদ এখনো ভোলেননি। ‘রসগোল্লা, চমচম এগুলো আমার খুব প্রিয়। এবারও ঢাকায় এসে মিষ্টি খেয়েছি। ভাবছি দেশে নিয়ে যাব এই মিষ্টি।’

ঢাকায় থাকতেই হকি খেলতেন। ইরানে গিয়েও খেলার নেশাটা ছাড়তে পারেননি। আশির দশকে সুযোগ পান জাতীয় দলে খেলার। বেশ কয়েকবারই খেলেছেন এশিয়ান গেমসে। এখন তো দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব দিয়েছে ফেডারেশন। বদলে যাওয়া ঢাকা শহর দেখে খুবই অবাক ৫৪ বছরের ভদ্রলোক, ‘আমি কাল গুলশান গিয়েছিলাম। গুলশানের রাস্তাঘাট, সবকিছুর উন্নতি দেখে খুব ভালো লাগল। তবে শুধু গুলশান নয়, পুরো ঢাকা শহরই পাল্টে গেছে। জনসংখ্যা বেড়েছে অনেক। চারদিকে শুধু দালান আর দালান।’

ইরানের এই ‘বাঙালি’ ম্যানেজারের হূদয়ের অনেকটা জায়গাজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তাই তো লাল-সবুজের পতাকা দেখলেই বুকের ভেতরে বয়ে যায় অন্য রকম ভালোবাসার ঢেউ। বলতে ভুললেন না, ‘ইটস মাই সেকেন্ড হোম।’

অন্যান্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে