Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-১৯-২০১৪

খালেদা-তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

খালেদা-তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

ঢাকা, ১৯ মার্চ- জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে এবং বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ নয়জনকে দোষী সাব্যস্ত করে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে ঢাকা-৩ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায় এ আদেশ দেন। সেই সাথে দুই মামলাতেই আগামী ২১ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে বলেও আদেশে বলা হয়।

তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানালেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়‍ার আইনজীবীরা। বুধবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় চার্জ গঠনের শুনানির সময় আরও বাড়ানোর আবেদন নাকচ করায় আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করেন খালেদার জিয়ার আইনজীবীরা।

বুধবার বিকেল তিনটায় আদালতে দ্বিতীয় দফায় শুনানি শুরু হলে আদালতের প্রতি এ অনাস্থা জ্ঞাপন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘এ আদালতের প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই। আমরা ন্যায় বিচার পাবো না। সুতরাং আমরা এ কোর্টে কোনো মামলা করবো না।’

দ্বিতীয় দফায় বেলা ৩টা ২০ মিনিটে এজলাশে আসন গ্রহণ করেন বিচারক বাসুদেব রায়। এর মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই হট্টগোল শুরু হয় আদালতে। ব্যাপক হট্টগোলের মুখে এজলাশ ত্যাগ করেন বিচারক।

এর আগে দুপুর বারোটায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানির জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আইনজীবীদের পক্ষে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ।

এদিকে আদেশের পরপরই ‘সময় বাড়ানোর আবেদন নামঞ্জুর করায় এ আদেশের বিরুদ্ধে আইনজীবীরা হাইকোর্টে যাবেন‘- মর্মে দরখাস্ত নিয়ে বিচারক বাসুদেব রায়ের কক্ষে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়ার পাঁচ আইনজীবী।

সোয়া দুইটার দিকে তারা বেরিয়ে এসে জানান, বিচারক তার খাস কামরায় তাদের এবং দুদকের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনেন। এ ব্যাপারে বিকেল তিনটায় সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন বিচারক।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়া আদালতে অবস্থ‍ান করছিলেন।

এর আগে পৌনে দুইটায় প্রথম দফা শুনানিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সময় চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানির জন্য এ সময় আবেদন করা হয়।

বুধবার ঢাক‍ার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতে দু’টি মামলায় আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ। দুপুরে আদালতে খালেদা জিয়ার এ আবেদন দু’টির ওপর শুনানি নিয়ে সময় বাড়ানোর বিষয়টি নাকচ করে দেন বিচারক।

এ আদেশের পরপরই আদালতে শুরু হয় হট্টগোল। বিচারকের ওপর চড়াও হন খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা। অকথ্য ভাষাও ব্যবহার করতে থাকেন তারা।

একপর্যায়ে আজই অভিযোগ গঠনবিষয়ক আদেশ দেওয়া হবে জানিয়ে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারক। পরে আইনজীবীরা খালেদা জিয়া বলেছেন, এই আদালতের প্রতি তাঁদের আস্থা নেই।

বেলা একটার দিকে খালেদা জিয়া দুই মামলায় আদালতে হাজির হন। বিচারকাজ চলাকালে খালেদা জিয়াকে বসার জন্য একটি চেয়ার দেওয়া হয়। বেলা দুইটার দিকে বিএনপিপন্থী চারজন আইনজীবী মামলা থেকে খালেদা জিয়ার অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদন নিয়ে বিচারকের খাস কামরায় যান। এরপর সেখান থেকে বের হয়ে এসে সোয়া দুইটার দিকে আবারও বিচারকের কাছ যান তাঁরা। এ সময় তাঁরা সকালে সময় চেয়ে করা আবেদনটি খারিজ করে আদালত যে আদেশ দিয়েছেন তা পুনর্বিবেচনার জন্য ফের সময় চেয়ে আবেদন জানান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা সেখান থেকে বের হয়ে আদালতের এজলাস কক্ষে গিয়ে খালেদা জিয়াকে জানান, এই আদালতের প্রতি তাঁদের আস্থা নেই।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, আদেশের জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

বুধবার আদালতে খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, খন্দকার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন, আবদুল্লাহ আবু, রিজাউর রহমান, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ। খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা করা হয় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায়। এই মামলাটিও করে দুদক।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট:
গত বছর ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ খান।

২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান। ১৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়া ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামিননামা দাখিল করেন।

মামলায় অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব, বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান জামিনে আছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু হতেই পলাতক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট:
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশী ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

তারেক রহমান সরকারের নির্বাহী আদেশে দেশের বাইরে আছেন। মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন। ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু হতেই পলাতক।

মামলাটি তদন্তকরে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ অপর চারজনকে অভিযুক্ত করে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে