Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৯ , ৪ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (36 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৪-২০১২

তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালের পক্ষে ১১ দল, প্রেসিডেন্টের কোর্টে বল

তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালের পক্ষে ১১ দল, প্রেসিডেন্টের কোর্টে বল
রাজনীতিতে ‘হট ইস্যু’ এখন ‘তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের আলোচনা। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে প্রেসিডেন্টের ডাকা সংলাপেও উত্তাপ ছড়িয়েছে অনির্ধারিত এ বিষয়। তত্ত্বাবধায়ক বাতিলে সরকারি দলের অনঢ় অবস্থান থাকলেও বিরোধী জোট, জোটের বাইরের অন্যান্য দল ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও দাবি উঠছে তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালের। এতো দিন মাঠের রাজনীতিতে তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা হলেও এবার সংলাপে অংশ নেয়া ১১টি দল এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে দেশের সাংবিধানিক শীর্ষ ব্যক্তি প্রেসিডেন্টের কাছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু নির্বাচন কমিশন গঠন নয়, এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর সমাধানের বলটিও এখন প্রেসিডেন্টের কোর্টে। সংলাপে বিএনপি নেতারা প্রেসিডেন্টকে নৈতিক শক্তিতে বলিয়ান হয়ে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নিশ্চয়তা দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সহযোগিতার। একই দাবি করেছেন মহাজোটের কয়েক শরিকসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও। সরকারি দল আওয়ামী লীগ ইস্যুটিকে অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করলেও দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের যে কোন সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে সরকার। নানা ইস্যুতে অচল প্রায় রাজনীতির আশারস্থল এখন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। রাজনৈতিক দলসহ দেশবাসী এখন তাকিয়ে তার দিকে। কি সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি? সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে তিনি শুধু নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনেই সীমাবদ্ধ থাকবেন নাকি উত্থাপিত তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতেও কোন উদ্যোগ নেবেন? এমন প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলসহ সর্বত্র।
মেয়াদ শেষে শান্তিপূর্ণ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের স্বার্থেই উদ্ভাবিত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফর্মুলা। যা ছিল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে তিক্ত অভিজ্ঞতার ফলাফল। ১৯৯৫-৯৬ সালে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দলের তীব্র আন্দোলনের মুখে একদলীয় নির্বাচনে সরকার গঠন করে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ আইন করেছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি। তারপর এ পদ্ধতির অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩টি জাতীয় নির্বাচন। দুই দলই জয়-পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। তবে ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়েই যত বিপত্তি। বিএনপি ওই সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে স্বীকার না করলেও তাদের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে মেনে নিয়েছে। অন্যদিকে ওই সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে স্বীকার এবং তাদের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ এখন এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ঘোর বিরোধী। যে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন করে ভূমিধস বিজয়, সেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকেই সংবিধান থেকে তুলে দেয়া হয়েছে সংশোধনীর মাধ্যমে। বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি বিএনপি। আওয়ামী লীগের যেমন তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে তেমনি বিএনপি’র রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের তিক্ত অভিজ্ঞতা। ফলে প্রথম থেকেই এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিএনপি হরতালসহ দিনের পর দিন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মানববন্ধন-গোলটেবিল বৈঠকে সোচ্চার রয়েছে। বিদেশী কূটনীতিকরা আগাগোড়াই পর্যবেক্ষণে রেখেছেন পরিস্থিতি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনে জনমত সৃষ্টি করতে সারাদেশে বিভাগীয় রোড মার্চ ও জনসভা করেছে বিরোধী দল। রোড মার্চ থেকেই বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকারের প্রতি আলোচনার দাবি জানায়। তবে শুরু থেকেই আগামী জাতীয় নির্বাচন নিজেদের অধীনে অনুষ্ঠানের কথা বলে আসছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এ জন্য তারা শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনেই জোর দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট তার সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাজনৈতিক সংলাপের উদ্যোগ নেন। এতে অংশ সরকারি ও বিরোধী দলসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। সংলাপে অংশ নেয়া বেশির ভাগ দলই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সংলাপে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের কাছে। আন্দোলনের মধ্যে থেকেও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে বিএনপি সে সংলাপে অংশ নেয়। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া নিজেই বিএনপি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সংলাপে বিএনপি দাবি করেছে- নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ছাড়া নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এদিকে প্রেসিডেন্ট সংলাপ ডেকেছেন সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সেখানে প্রধানমন্ত্রীর একটি ভূমিকা রয়েছে। সংলাপে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি প্রশ্ন জনগণকে উদ্বিগ্ন করেছে। তা হচ্ছে- সংবিধানের বিধান মোতাবেক নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের ওপর ন্যস্ত হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ ছাড়া এককভাবে তা করতে পারবেন না। রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের জনমতকে উপেক্ষা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর সংলাপের ফলাফল নিয়ে অনেকেই আশান্বিত নয়। এদিকে সংলাপে প্রেসিডেন্ট নিজেও তার সীমাবদ্ধতার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। তবে এই সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়েই যতটুকু করা সম্ভব তা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতাদের। সংলাপে অংশ নেয়া বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্যরা হতাশা ও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, সরকার সদিচ্ছা না দেখালে পুরো বিষয়টিই প্রহসনে পরিণত হবে। কারণ, সাংবিধানিকভাবে প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে ক্ষমতাবান ও সীমাবদ্ধ। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আসম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, ড. আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আমাদের বক্তব্যের জবাবে প্রেসিডেন্ট বারবার তার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন।
সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেও বিরোধী দলগুলো বলছে, সংলাপকে অর্থবহ ও ফলপ্রসূ করার মাধ্যমে চলমান সঙ্কট উত্তরণে প্রয়োজন প্রেসিডেন্টের ভূমিকা। সে ভূমিকা রাখলে দেশবাসী তার সঙ্গে থাকবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বলেন, প্রেসিডেন্ট যে বিষয়ে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছেন, তার বাইরেও কিছু যৌক্তিক প্রসঙ্গ উঠে এসেছে রাজনৈতিক দলের তরফে। আমার মনে হয়, তা আলোচ্য বিষয়ে বিস্তৃত করতে হবে। উত্থাপিত এসব প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরেও প্রেসিডেন্টের ভূমিকা রাখতে হবে। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। যদিও তিনি সরকারকে বাধ্য করতে পারেন না, তবে নৈতিকভাবে উদ্যোগ নিলেও সরকারসহ সবার উচিত হবে তাকে যথাযথ সম্মান দেখানো। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নিজ উদ্যোগে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে। তিনি চাইলে সবার মতামত নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোটের ব্যবস্থা করতে পারেন। এদিকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, প্রেসিডেন্টের সংলাপে বসে বিএনপি এজেন্ডাবিহীন আলোচনা করেছে। বিএনপি যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কথা বলবে, তাহলে তারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় গেল কেন?
ক্ষমতাসীন দলের এই নেতার এমন বক্তব্যে হতাশ হয়েছেন অনেকে। তবে এ-ও আশা করছেন কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নৈতিক কোন উদ্যোগ নিলে তা হতে পারে দেশের রাজনীতির জন্য অনুকরণীয়। বিষয়টি নির্ভর করছে পুরোপুরি সরকারের ওপর।
১১ দলই তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালের পক্ষে:
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সংলাপে অনির্ধারিত ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ই ছিল আলোচনার শীর্ষে। সংলাপের এজেন্ডায় না থাকলেও বেশির ভাগ দল এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের পক্ষে মত দিয়েছে। গত বছরের ২২শে ডিসেম্বর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪টি রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১১টি দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। এছাড়া ৪টি দল সংবিধান অনুযায়ী আইন তৈরি, ৬টি দল সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, এবং ২টি দল বর্তমান কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং একটি দল বর্তমান পদ্ধতিতে কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেয়। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সংলাপে অংশ নিয়ে ইসি গঠনে তাদের মতামত দিয়েছে। দলের নেতারা জানিয়েছেন, কমিশন গঠনে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন তারা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্টের এই উদ্যোগের ইতি ঘটছে। এদিন মহাজোটের শরিক গণতন্ত্রী পার্টির সঙ্গেও সংলাপ করেন প্রেসিডেন্ট। সংলাপে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন জোট ঘরানার দলগুলো আইন তৈরি এবং সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের পক্ষে মত দেয়। আর বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ইসি পুনর্গঠনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল দাবি করেছে। দুই জোটের বাইরে থাকা বিকল্পধারা, সিপিবি, বাসদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং গণফোরাম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে। সংলাপে প্রেসিডেন্ট তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য শুনে কোন প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে দলগুলোর বক্তব্য সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
গত বছরের ২২শে ডিসেম্বর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপের প্রথম দিন জাতীয় পার্টি ও জাসদ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে সার্চ কমিটি গঠনের পরামর্শ দেয়। সাংবিধানিক পদগুলোতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা যেতে পারে বলে মত দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। সংলাপে অংশ নিয়ে হাসানুল হক ইনু’র নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) তিন স্তরের সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। ২৬শে ডিসেম্বর ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টি জেপি’র সঙ্গে সংলাপ করেন প্রেসিডেন্ট। সংলাপে ওয়ার্কার্স পার্টি ইসি গঠনে সার্চ কমিটি এবং জেপি নতুন কমিশন গঠনের পক্ষে মত দেয়। ২৭শে ডিসেম্বর সংলাপে অংশ নিয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে মত দেয়। ২৯শে ডিসেম্বর সংলাপে অংশ নেয়া সাম্যবাদী দল ও ইসলামিক ফ্রন্ট তত্ত্বাবধায়ক না রাখার পক্ষে মত দেয়। ১০ই জানুয়ারি খেলাফত আন্দোলন ও মজলিস সংলাপে অংশ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের পক্ষে মত দেয়। এ দুই দলের নেতারা নির্বাচন কমিশন গঠনেও প্রেসিডেন্টকে তাদের পরামর্শ দেন। ৮ই জানুয়ারি জাকের পার্টি ও তরিকত ফেডারেশন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তারা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা না রেখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পক্ষে মত দেয়। ৪ঠা জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংলাপে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বাসদ তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে মত দেয়। ২রা জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংলাপে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে মত দেয়। ১লা জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংলাপে গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে মত দেন। একই দিন সংলাপে অংশ নেয়া দল ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী তত্ত্বাবধায়ক না রাখার পক্ষে মত দেন। সর্বশেষ বুধবার বিএনপি সংলাপে অংশ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে মত দিয়েছে।
ইসি গঠনের আগে তত্ত্বাবধায়ক ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অন্যান্য দলের দাবিকেও অযৌক্তিক বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন দল। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতার জন্যই আগে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এদিন তাৎক্ষণিক আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের সংলাপে গণতন্ত্রী পার্টির নেতারা অংশ নেন।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি এখনই ইসি পুনর্গঠন না করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ইসি পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেয়ার পক্ষে মত দেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আদালতের রায় অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা আরও দুই মেয়াদে রেখে দেয়ার কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, এটা করা হলে দেশের রাজনীতির চলমান অচলাবস্থা দূর হবে। এলডিপি সভাপতি সংলাপে প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন, আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার সমাধান না হলে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে কোন লাভ হবে না। সিপিবি’র সভাপতি মনজুরুল আহসান খান বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আরও দুই মেয়াদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। আবার কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতারাও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। বিজেপি জানিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চলমান সংলাপ স্থগিত করে তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা প্রয়োজন। ইসলামী আন্দোলন হাইকোর্টের রায় মেনে আরও দুই মেয়াদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের কথা বলেছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে