Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-১৮-২০১৪

সোনার বার আটক করে পুলিশেই ভাগবাটোয়ারা

ইমরান আলী


সোনার বার আটক করে পুলিশেই ভাগবাটোয়ারা

ঢাকা, ১৮ মার্চ- রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সোনার বার উদ্ধার করা নিয়ে খোদ পুলিশেই ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। উদ্ধার করা সোনার বারের সংখ্যা নিয়ে পুলিশের ভেতরেই চলছে নানা তর্ক-বিতর্ক। তবে বিষয়টি খুবই গোপনীয়তা রক্ষা করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন বলে জানা গেছে।

এমনকী সোমবার রাতে এ ঘটনা নিয়ে থানায় আসেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শাহাবুদ্দিন খান, মতিঝিল জোনের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা।

থানা পুলিশ প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ৭০ পিস সোনার বার (৪০ হাজার টাকা ভরি ধরে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা) উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দুজন আটকও হয়। বর্তমানে আটকদের থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
 
১৩ মার্চ সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হলেও ১৬ মার্চ তা জানাজানি হয়।
 
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে পুলিশ মোট ২৩৫ পিস সোনার বার উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে মাত্র ৭০ পিস উদ্ধার দেখানো হয়েছে। বাকিগুলো ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে।
 
এ বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।
 
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ১৩ মার্চ রাতে রামপুরা থানা এলাকার ব্যাংক কলোনির বালুর মাঠ এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল আলম একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো গ ৩৫-১৪৭২) তল্লাশির জন্য দাঁড়াতে বলেন।

এ সময় গাড়ির ড্রাইভার ও ভেতরে বসে থাকা দু’জন দ্রুত দরজা খুলে পালিয়ে যান। এসআই মঞ্জুরুলের নেতৃত্বে পুলিশের দলটি তাদের আটকের জন্য পিছু নেন। কিন্তু, তাদের না পেয়ে গাড়ি নিয়ে থানায় চলে আসেন। এরপর গত ১৬ মার্চ থানা পুলিশের কাছে মাহিন ও সমির নামে দুই ব্যক্তি থানায় এসে গাড়ি ছাড়ানোর জন্য তদবির করেন। এক পর্যায়ে তারা জানান, গাড়ির ভেতরে সোনার বার রয়েছে। টাকা যতই লাগুক, তা দিয়ে ছড়িয়ে নেবেন।

পরে পুলিশ গাড়ি তল্লাশি করে সিটের ভেতরে একটি কালো ব্যাগের ভেতরে থাকা ৭০টি সোনার বার উদ্ধার করে। পাশাপাশি ওই দু’জনকেও আটক করে। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। খবর শুনে তারাও থানায় আসেন।
 
এদিকে, পুলিশের অন্য একটি সূত্র বলছে, এসআই মঞ্জুরুল ঘটনাস্থলেই গাড়ি তল্লাশি শুরু করেন। এক পর্যায়ে গাড়ির সিটের ভেতরে সোনার বার ভর্তি ব্যাগ দেখতে পান।

এ সময় তিনি ওসি কৃপা সিন্ধু বালা ছুটিতে থাকায় তার দায়িত্বপালনকারী অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। পরে তারা সেখানে ৭০টি বার রেখে দিয়ে বাকিগুলো নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে নেন।
 
অন্যদিকে, উদ্ধার করা সোনার বার নিয়ে খোদ পুলিশের মধ্যেই ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশ বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করলেও তা ফাঁস হয়ে যায়।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রামপুরা থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ৭০টি সোনার বার উদ্ধার দেখানোর পর চোরাচালানের এই চক্রটি পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রকৃত সংখ্যা জানিয়ে দেন। আর এ ঘটনার পর পরই মতিঝিল জোন ও ডিএমপি সদর দফতরের কর্মকর্তাদের রামপুরা থানায় দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ও অতিরিক্ত পুলিশ থানায় অবস্থান করে। এ সময় তারা আটক দু’জন ছাড়াও থানা পুলিশের এসআই মঞ্জুরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

পরে রাতে থানায় আসেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার শাহাবুদ্দিন খানসহ মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার। তারা আটক দু’জনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পাশাপাশি থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন।
 
সার্বিক বিষয়ে ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে