Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৪-২০১২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নবিদ্ধ সংগঠনেরসন্দেহমূলক তৎপরতা:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নবিদ্ধ সংগঠনেরসন্দেহমূলক তৎপরতা:
ব্যাঙের ছাতার মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনের একটি স্লোগান ৭১। সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে চলা এই সংগঠনের বিশ্ব¦বিদ্যালয়ে নেই কোনো বৈধতা। পর্দার পেছনে থেকে গুটিকয়েক সাবেক ও সন্দেহভাজন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের রাতে টিএসসির দোতলার পূর্বদিকের একটি রুমের তালা ভেঙে রুম দখল করার মাধ্যমে শুরু হয় সংগঠনটির কার্যকলাপ। সেই থেকে এর কার্যক্রম চলছে। আগে রুমটি ঢাবিসাস নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
 বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এনজিও’র সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানের নাম করে তাদের (এনজিওগুলো) পরিচিত করার মাধ্যমে টিকে আছে এই সংগঠনটি।
 
প্রতিষ্ঠার সময় থেকে সংগঠনটির সঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা জড়িত। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি তানজিন হোসেন মিথুন, জিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান রিমু ও জগন্নাথ হলের শান্তুনু দে’র নেতৃত্বে এই সংগঠনটি গড়ে ওঠে।
 
নির্বাচনের রাতে তালা ভাঙেন অমিত দেবনাথসহ (স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথের ভাগ্নে) আরো কয়েকজন সাবেক ও  বর্তমান ছাত্রলীগের নেতা। বার্তা২৪ ডটনেটকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংগঠনের কয়েকজন সদস্য।
 
জানা গেছে, সংগঠনের প্রথম পর্যায়ে আহ্বায়ক কমিটিতে ছিলেন সুদীপ্ত সরকার (আহ্বায়ক) ও শফিকুল ইসলাম (সদস্য সচিব)। প্রথম ঘোষিত কমিটিতে আসেন অমিত দেবনাথ, যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব ছিল না। তখন থেকেই সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হয় নানা সমস্যা। মূলত ছাত্র ও অছাত্রদের দ্বন্দ্বের কারণে এ সমস্যা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী গঠনতন্ত্রহীন এ সংগঠনের কোনো অনুমোদন নেই।
 
সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ নেতা তানজিন হোসেন মিথুন ও রফিকুজ্জামান রিমুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় এই সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ সরকারপন্থি বিভিন্ন শিক্ষক। ২০১০ সালে বিভিন্ন এনজিও (এসডিএসএল ও অ্যাকশন এইডসহ ব্যক্তিগত সহায়তায়) ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের চাঁদার টাকায় বিভিন্ন দিবসে অনুষ্ঠান করে এ সংগঠনটি। অ্যাকশন এইডের কর্মকর্তা ইফাত আরা পারভীনও এই সংগঠনের সঙ্গে প্রথম থেকে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন।
 
অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্লোগান ৭১-কে দেখিয়েই এসব ব্যক্তি দিনের পর দিন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে চলছেন। ‘ন্যায় যুদ্ধে বাঙালি’ সংগঠনের মূল স্লোগান থাকলেও এরা নীতি বির্সজন দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। পূর্বে সংগঠনটির বিভিন্ন অুনষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন এনজিওকর্মী ও পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার কমিশনের সদস্য অ্যারোমা দত্ত, অ্যাকশন এইড’র ফারাহ কবির প্রমুখ।
 
সংগঠনের কয়েকজন সদস্য জানান, ২০১০ সালের পহেলা বৈশাখে ‘একতারা ডটকম’ নামের একটি অনলাইন রেডিও চালু করেন অমিত দেবনাথ। ব্যক্তিগত এই অনলাইন রেডিও’র অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন স্লোগান ৭১’র দখল করা রুমটি। বারবার সংগঠনের নিয়মনীতি প্রণয়নের তাগিদ থাকলেও অমিত দেবনাথ তার নিজস্ব লোক দিয়ে ইচ্ছেমতো সংগঠন পরিচালনা করেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে সংগঠনের তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এই ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয় সংগঠনের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ রাব্বি জ্যোতি সমর্থিত অংশকে।
 
বহিষ্কৃত এসব নিয়মিত ছাত্র ও অছাত্রদের মধ্যকার বিরোধ নিয়ে ২৭ দিন বন্ধ থাকে স্লোগান ৭১-র রুমটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সাবেক প্রক্টরের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে দু’পক্ষই। এ সময় নিয়মিত ছাত্রদের বদলে সাবেক ছাত্রদের সমর্থনে রুমটি খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। তখন ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি জয়দেব নন্দী গ্রুপকে সাথে নিয়ে টিএসসিতে টানা সপ্তাহখানেক শোডাউন করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের ভাগ্নে অমিত দেবনাথ (বর্তমানে সরকারপন্থি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত) রিমু , শান্তনু দে ও তানজিন হোসেন মিথুন।
 সূত্র আরো জানায়, এরপর  ২০১১ সালের জানুয়ারিতে বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়াই নতুন কমিটি দেন অমিত দেবনাথ। এতে নিয়াজ মাখদুম শিবলী সভাপতি ও সাদিক আহম্মেদকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। শিবলীর বিরুদ্ধে শিবির ও সোহরাওয়ার্দীতে ছিনতাই করার অভিযোগ রয়েছে। শিবির করার অভিযোগে গত জাতীয় নির্বাচনের পর তাকে এসএম হল থেকে বের করে দেয়া হয়। বেশ কয়েক মাস পর তিনি আবারো হলে ওঠেন।
 শিবলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একটি সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে উত্তরাঞ্চলের এক জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতিতে হামলা চালান শিবলী। ওই কমিটিতে তার এক ঘনিষ্ঠজনকে শীর্ষস্থানীয় পদ না দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগী ওই হামলা চালান। এ সময় ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাবেক এক সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হন।
 এদিকে, কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের কক্ষ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন শিবলী ও তার সহযোগীরা।  স্লোগান ৭১-এর সাধারণ সম্পাদক সাদিক আহম্মেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে ফাইনাল পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য  হওয়ার ক্রোধ থেকেই এ ঘটনায় উষ্কানি দেন- এমন অভিযোগ করেছেন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী।
 বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন ছাত্রলীগে নেতার ইন্ধনে পেশিশক্তির মহড়া ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঝিমিয়ে পরা সংগঠনকে পুনরুজ্জিবিত করার প্রয়াস হিসেবে শিবলীরা এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 স্লোগান ৭১ সম্পর্কে টিএসসির পরিচালক আলমগীর হোসেন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “এদের (সংগঠনটির) কোনো বৈধ নিবন্ধন নেই। ভিসি’র কাছে তারা দরখাস্ত করেছে। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন।”
 
সংগঠনের কোনো বৈধতা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সভাপতি নিয়াজ মাখদুম শিবলী বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আমার পরীক্ষা আছে। কথা বলার জন্য অন্য একজন আছে, তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।” এই বলে কল কেটে দেন শিবলী।
 বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ আলী বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “এদের (স্লোগান ৭১) বৈধতা আছে কি না এ বিষয়ে আমি সঠিক কিছু জানি না। সংগঠনের নেতাদের ও ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলে এদের বিষয়ে জানা যাবে।”
 স্লোগান ৭১ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বৈধ সংগঠন কি না- জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “স্লোগান ৭১ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি সংগঠন।”
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে