Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.6/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৪-২০১২

৩০০০ ক্যাডারের বিরুদ্ধে অভিযান

৩০০০ ক্যাডারের বিরুদ্ধে অভিযান
জামায়াত-শিবিরের ৩ হাজার ক্যাডারের তালিকা ধরে সাঁড়াশি অভিযানে নামছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত রাজধানীর ২৩৫ টি মেস বাড়ি কাম অফিস বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের উপর নজরদারী চলছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে পুলিশের ওপর জামায়াত-শিবিরের চোরাগোপ্তা হামলার পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন, এ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে চরম মূল্য দিতে হবে। ওদিকে বৃহস্পতিবার হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় ২ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত পেট্রোল ইন্সপেক্টর শেখ আবুল বাশারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। তবে ক্ষত সারতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। মতিঝিল থানায় দায়েরকৃত দু’টি মামলার একটি অস্ত্র লুটের এবং অন্যটিতে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক ফরমান আলী। মামলা যে ৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- নকিবুল হাসান, শেখ নাসিরউদ্দীন ওরফে জায়েদ, আজিজুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন ওরফে চঞ্চল ও রাজধানীর ৩৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার খন্দকার আবদুর রব। এদের মধ্যে নকিবুল হাসান, শেখ নাসিরউদ্দীন ও আজিজুল ইসলামকে ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এছাড়া মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ শ’ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র দেখে আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এদের গ্রেপ্তার করে মামলায় আসামি হিসাবে দেখানো হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে অন্তত ৫শ’ জামায়াত-শিবিরকর্মী গোলাম আযমের মুক্তির দাবিতে ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিল থেকে দৈনিক বাংলা মোড়ে দায়িত্বপালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় ১০/১২ টি গাড়ি। এক পুলিশ কর্মকর্তার অস্ত্র লুট করা হয়। হামলার এ ঘটনাটিকে গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। নাসিম বলেন, দিনে দুপুরে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল অথচ গোয়েন্দারা কিছুই জানতে পারলো না। তাহলে তারা কি করে। এ সব প্রশ্নের উত্তর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে খুঁজে দেখতে হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম গতকাল মানবজমিনকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া গোয়েন্দা অনুসন্ধানে হামলার পরিকল্পনার বিষয়েও বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। তিনি বলেন, হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল। এ ধরনের হামলা আবারও করতে পারে তারা। তবে সে সুযোগ তাদের দেয়া হবে না। পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কয়েকমাস ধরেই জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছিল। তালিকায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার জনের নাম রয়েছে। গত সপ্তাহে ওই তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। দেশের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা সম্মিলিতভাবে এ তালিকা তৈরি করেছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তালিকায় বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের নামও আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বেশক’জন বিএনপি কর্মীর নামও রয়েছে। হামলার সময় পেট্রোল ইন্সপেক্টর শেখ আবুল বাশারের লুণ্ঠিত অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার দিন গ্রেপ্তারকৃত ৩ জনকে ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে আরও বেশ কয়েকজনকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ওই ৩ জন ছাড়া আর কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্বীকার করেনি মতিঝিল থানা পুলিশ। মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।  গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, জামায়াত-শিবির যে কোন সময় আত্মঘাতী হামলার মতো ঘটনাও ঘটাতে পারে। এজন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে যে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এখন থেকে প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আদর্শগত বিরোধ সত্ত্বেও সামপ্রতিক সময়ে জামায়াত-শিবিরকে সহায়তা করছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি বলে জানিয়েছে র‌্যাব’র গোয়েন্দা সূত্র। গত ১৮ই ডিসেম্বর মতিঝিলে তাণ্ডব চালানোর সময় জেএমবি বোমা সরবরাহ করেছিল বলে জানিয়েছেন র‌্যাব’র আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার সোহায়েল। ওই তাণ্ডবের পেছনে জামায়াত-শিবিরের সক্রিয় সহায়তা ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। ওদিকে বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর  রাজধানীতে পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। দৈনিক বাংলা মোড়ে অতিরিক্ত র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল দিচ্ছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে