Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-১৭-২০১৪

বরিশালের প্রেমে মজেছেন মজিনা

বরিশালের প্রেমে মজেছেন মজিনা

নিউইয়র্ক, ১৭ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে জ্যাকসন হাইটসে হাঁটতে হাঁটতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে হাঁটতে বেশ ভালোই লাগছে। মনে হচ্ছে বাংলাদেশের ঢাকা শহরের কোনো রাস্তায় হাঁটছি।’

রোববারও সারাদিন পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ালেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে। পায়ে হেঁটেই যোগ দেন প্রবাসীদের নানা কর্মসূচিতে।

প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনার কথা বললেন। তার দেশ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে, সহযোগিতা দেবে বলেও জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা দেবে। বাংলাদেশ যাতে প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগাতে পারে, পুরো এশিয়াজুড়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগের অমিত সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে সে কাজে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে।’

ড্যান মজিনা নিজেকে সব সময়ই ‘সেতুবন্ধ রচনাকারী’ বলে মনে করেন। এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতুবন্ধনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য।’ আর এ ম্যান্ডেট নিয়েই ২০০৯ সালে তিনি রাষ্ট্রদূতের হয়ে বাংলাদেশে যান বলেও জানান।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন অনেক গভীর ও শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

টানা দুদিন নিউইয়র্কে ম্যারাথন মিটিং করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। মার্কিন দূতাবাসের ‘পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি’ আওতায় ড্যান মজিনার এ কর্মসূচি সরকারি কর্মসূচি। একথা জানিয়েছে খোদ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে ড্যান মজিনার এ মিশন দেশে ও প্রবাসে বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা জল্পনারও জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশীয় বিভাগীয় আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর মি. এরিক আইডা জানিয়েছেন, ড্যান মজিনা ১০ দিনের কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের পর টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়ায়ও যাবেন। ২৪ ঘণ্টায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে প্রতিদিনই মজিনা অক্লান্ত সভা করে চলেছেন প্রবাসী বাংলাদশিদের সঙ্গে। ‘বাংলাদেশকে সত্যিই খুব ভালবাসেন রাষ্ট্রদূত মজিনা’ এই কর্মকর্তা বললেন।  

রোববার সকালে উডসাইডের গুলশান টেরেসে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক, দুপুরে আমেরিকা বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিসের আয়োজনে একই স্থানে মধ্যাহৃভোজ ও সভা, এরপর পায়ে হেঁটে বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দেখা, বিকেলে শিগগিরই সম্প্রচারিতব্য টাইম টেলিভিশন স্টুডিওতে বিশেষ মতবিনিময় এবং সন্ধ্যায় ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের আয়োজনে নৈশভোজ ও মত বিনিময়সভায় বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা।

জ্যাকসন হাইটসে মান্নান গ্রোসারি, খামারবাড়ি, খাবার বাড়ি, অবকাশ, ফুডকোর্ট ও আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও খোলা রাস্তায় হকারদের ব্যবসার খোঁজ খবর নেন রাষ্ট্রদূত। এসময় তিনি বাংলাদেশি বিভিন্ন শাক সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ সম্পর্কে যেমন জানতে চান তেমনি রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তিনি অনেক রসিকতাও করেন। পথে থেমে থেমে বাংলাদেশের গল্প করেন, যেমন বরিশালের ভালোলাগা, কূয়াকাটার গল্প, দিনাজপুরের লিচু, পাবনার চিনিগুঁড়া চাল আর ইলিশ মাছের গল্প।

কিছু সময় দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় তিনি বলেন, চাকুরি থেকে অবসরের পর তিনি বাংলাদেশ বেড়িয়ে দেখবেন। বরিশালে যাবেন। বাংলাদেশ সত্যিই ভীষণ সুন্দর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মিনি বাংলাদেশ’ বলে পরিচিত জ্যাকসন হাইটসে এসে মনে হয়েছে তিনি তার নিজের মানুষের কাছে এসেছেন।

উল্লেখ্য, জ্যাকসন হাইটসে প্রবাসীরা ড্যান মজিনাকে বিভিন্ন উপহার দিয়ে তাদের ভালোলাগা প্রকাশ করেন। খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাকে ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) লটারি পুনরায় চালু হবে কি না এমন প্রশ্ন করলে তার উত্তর না দিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

রোববার দুপুরে গুলশান টেরেসে, আমেরিকা বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিসের আয়োজনে মধ্যাহৃভোজ ও মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে কীভাবে সবোর্চ্চ পর্যায়ে নেয়া যায় সেটা সম্ভব করার জন্যই বাংলাদেশিদের সঙ্গে তার অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের এই মিশন।

টাইম টেলিভিশন স্টুডিওতে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মকে তাদের নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ভুলে গেলে চলবে না।’

সন্ধ্যায় ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনাতে ডেমোক্রেসি অ্যালায়েন্স আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ড্যান মজিনা বলেছেন, ‘আমেরিকার জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ইজ দ্য মডারেট, টলারেন্ট সেক্যুলার অলটারনেটিভ অব ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশ হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পণ্য হবে “গ্লোবাল ব্র্যান্ড”।’

মজিনা আরো বলেন, ‘নিজেই বিকশিত হবে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের গার্মেন্ট  “শীর্ষ ব্র্যান্ড” হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’

বিশ্ব অর্থনীতিতে এশিয়ান টাইগার, রয়েল বেঙ্গল টাইগার হবে “বাংলাদেশ”। চট্টগ্রাম বন্দরে এখন আর আগের মতো সমস্যা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী বলে মনে করেন মজিনা। প্রবাসীদের সঙ্গে ড্যান মজিনার ম্যারাথন মতবিনিময় সভা নিয়ে বিরোধী দুই রাজনৈতিক শিবিরে কৌতুহলের শেষ নেই। তবে সব মিলিয়ে সরকারবিরোধীরা মতবিনিময় সভাগুলোতে দেয়া ড্যান মজিনার বক্তব্যে অনেকটাই হতাশ হয়েছেন বলেই জানা গেছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে