Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.7/5 (50 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৩-২০১২

‘চলচ্চিত্র মেলায় আজীবন সম্মাননার উদ্যোগ

‘চলচ্চিত্র মেলায় আজীবন সম্মাননার উদ্যোগ
আজ এফডিসি-চ্যানেল আই আয়োজিত চলচ্চিত্র মেলায় আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চলচ্চিত্রকার ও অভিনেতা সুভাষ দত্ত। গুণী এই মানুষটির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজকের বিশেষ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মোশাররফ রুমী
কেমন আছেন?
খুব বেশি ভাল না। শরীরটা গত কয়েকদিন ধরেই ভাল যাচ্ছে না।  
আপনি তো এবার চলচ্চিত্র মেলায় আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন, কেমন লাগছে?
চলচ্চিত্র মেলায় আজীবন সম্মাননার  উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু আমার শরীরের যা অবস্থা, তাতে মনে হচ্ছে না অনুষ্ঠানে যেতে পারবো। আজ (গতকাল) ওরা ফোন করেছিল। বলেছি, কাল (আজ) সকালে ফোন করার জন্য। যদি শরীর ভাল থাকে, তাহলেই যাবো।
আপনার জীবনের শুরুর দিককার কথা জানতে চাচ্ছিলাম?
আমার জন্ম দিনাজপুরে। সময়কাল ব্রিটিশ-ভারত। ১৯৩০ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি আমার জন্ম। দিনাজপুরে আমার মামার বাড়ি। বাবা-মায়ের বাড়ি ছিল বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে। আমার সৌভাগ্যই হোক আর দুর্ভাগ্যই হোক, আঁতুড় ঘর থেকে পরবর্তী শৈশব-কৈশোর কেটেছে মামাবাড়িতে। সে অর্থে বাবার বাড়ি আমার কাছে অনেকটাই অচেনা। মূলত লেখাপড়ার জন্যই আমাকে মামার বাড়িতে রাখা হয়। আমার ডাক নাম পটলা। ভাল নাম সুভাষ চন্দ্র দত্ত।
অভিনয়ের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততা কিভাবে হলো?
ছোটবেলায় আমি খুব দুষ্টু ছিলাম। কিন্তু পড়াশোনায় ভাল ছিলাম বরাবরই। আমার বাবা স্বর্গীয় প্রভাষ চন্দ্র দত্ত ছিলেন একজন নাটকপাগল মানুষ। তিনি নাটকে অভিনয় করতেন এবং স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ছিলেন বেশ। মামারাও নাটক করতেন। মামাদের দেখে ৮/১০ বছর বয়সে নিজেই নির্দেশনা দিয়ে ছোটদের নিয়ে নাটক করলাম। নাটকটির নাম ছিল ‘পরাজয়’। এই নাটকটি করার পর  চারদিকে আমার খুব নাম হয়। দিনাজুপরের নাট্য সমিতির লোকজন বিষয়টি জানতে পারে। সমিতির লোকজন আমাকে একদিন ডেকে সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে উম্মে জোহরার চরিত্রে অভিনয় করতে বলেন। আমি অভিনয় করলাম। সবাই খুব বাহবা দিয়েছিল সেদিন। কিন্তু স্কুলের সবাই মেয়ে চরিত্রে অভিনয় করার কারণে ঠাট্টা করলো। আর মেয়ে চরিত্রে অভিনয় করিনি।  
আপনি তো দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে পাস করার পর কলকাতা আর্ট কলেজে পড়াশোনা করার কথা ছিল...
কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পরিবার থেকে সে সময় কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনি। তাই হয়ে ওঠেনি। কিন্তু আমি নিজেই টাকা যোগাড় করে মুম্বই যাই। কারণ, আমার ইচ্ছা ছিল মুম্বই গিয়ে সিনেমা পাবলিসিটির কাজ করবো। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোথাও কিছু করা হয়ে উঠলো না। একদিন ফুটপাতে দাঁড়িয়েছিলাম হতাশ মনে। কে একজন পেছন থেকে বলে উঠলো, আব্বে সুভাষ তুই এইহানে! আমি বললাম আরে বিশ্বনাথ তুই এখানে! বিশ্বনাথ ছিল সেখানকার আর্ট কলেজের ছাত্র। বিশ্বনাথের পরিচয়ের সূত্র ধরে একটি কমার্শিয়াল আর্টের কারখানায় কিছুদিন চাকরি করে আবার পর ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে আসি। আর  মুম্বই যাওয়া হয়নি আমার।   
ঢাকায় এলেন কবে?
ঢাকায় এলাম ১৯৫৩ সালের নভেম্বরে। ঢাকায় এসে একটি পাবলিসিটি ফার্মে চাকরি নিলাম। বেতন ধরা হলো ১১০ টাকা। আমার কাজ দেখে সবাই ব্যাপক খুশি তখন। চারদিকে ফার্মের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। মালিক খুশি হয়ে বেতন বাড়িয়ে করলেন ২০০ টাকা। পরের বছরই বিয়ে হলো সীমা দত্তের সঙ্গে।  
চলচ্চিত্রের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততা কিভাবে?
১৯৫৫-তে সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তি পেলো। সে বছর ছবিটি দেখলাম এবং দেখে আমার মাথা ঘুরে গেল। মাথায় তখন ছবি নির্মাণের পোকা ঢুকে গেল। যাই হোক এহতেশামের ‘এ দেশ তোমার আমার’ ছবিটিতে প্রথম কমেডিয়ান হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পাই। এভাবে ১৯৬০, ’৬১ ও ’৬২ প্রায় শেষ। তখন হঠাৎ আমার মনে হলো আমি তো অভিনয় করতে আসিনি। শচীন ভৌমিকের একটি গল্পের চিত্রনাট্য সৈয়দ শামসুল হককে দেখালাম। তিনি বললেন, সব ঠিক আছে। সত্য সাহার সঙ্গে কথা হলো। তিনিই চট্টগ্রামের একটি মেয়ের কথা বললেন। নায়িকা নির্বাচিত হলো। ছবিও শেষ। ১৯৬৪ সালের ২৩শে এপ্রিল মুক্তি পেলো ‘সুতরাং’। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী আর চট্টগ্রামে চারটি প্রিন্ট দিলাম। ছবি সুপারহিট। হিট এই ছবির নায়িকা  কবরীও।  
শুনেছি সত্যজিৎ রায় আপনাকে শুভেচ্ছাও পাঠিয়েছিলেন?
‘সুতরাং’ ছবিটি প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের কোন ছবি হিসেবে ফ্রাঙ্কফুর্ট চলচ্চিত্র উৎসবে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ছবির সম্মান অর্জন করে। ‘সুতরাং’ দেখে সে সময়ই সত্যজিৎ রায় আমাকে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখ ছিল একটাই- পুরস্কারের সেই বিজয়মাল্য গ্রহণ করার জন্য পাকিস্তান সরকার সে সময় আমাকে অনুমতিই দেয়নি।  
আপনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছবির নাম জানতে চাই।
রাজধানীর বুকে, চান্দা, তালাশ, নতুন সুর, রূপবান, মিলন, নদী ও নারী, ভাইয়া, ফির মিলেঙ্গে হাম দোনো, ক্যায়সে কাহু, আখেরি স্টেশন, সোনার কাজল, দুই দিগন্ত, সমাধান, আমার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি। আমার নির্দেশিত ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সুতরাং (অভিনয়সহ), কাগজের  নৌকা, আয়না ও অবশিষ্ট, আবির্ভাব, বলাকা মন, সবুজ সাথী, পালাবদল, আলিঙ্গন, বিনিময়, আকাঙ্ক্ষা, বসুন্ধরা, সকাল-সন্ধ্যা, ডুমুরের ফুল, নাজমা, স্বামী-স্ত্রী, আবদার, আগমন, শর্ত, সহধর্মিণী, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী ইত্যাদি।

বলিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে