Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯ , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১৪-২০১৪

তিস্তা থেকে আরও পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা

তিস্তা থেকে আরও পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা

ঢাকা, ১৪ মার্চ- জানা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ব্যাপক হারে কমেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা নেমে এসেছে ১৯৭৩-১৯৮৫ সময়কালের মাত্র ১০ শতাংশে। এ অবস্থায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার আরও বেশি কৃষিজমি অভিন্ন নদীটির পানি দিয়ে সেচের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা বিষয়ে নতুন করে সমীক্ষার কথা ভাবছে। এমন পরিস্থিতিতে তিস্তায় ‘ন্যায়সংগত’ পানি ছাড়তে বাংলাদেশের অনুরোধে ভারত কতটা সাড়া দিতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। 
আরও পানি প্রত্যাহার!: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্ধৃত করে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া গত বুধবার জানায়, রাজ্যের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উত্তরাঞ্চলের অতিরিক্ত জমি সেচের আওতায় আনা হবে। এর অংশ হিসেবে আগামী বছর দেড় লাখ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সেচ চাহিদা মেটানোর মতো প্রয়োজনীয় পানি তিস্তায় নেই। তাই তিস্তা থেকে পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত পানির প্রয়োজন। নিজেদের চাহিদা না মিটিয়ে বাংলাদেশকে পানি দেব কীভাবে?’ 
মূলত পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রহের পরও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি আটকে যায়। 
‘ন্যায়সংগত’ পানির অনুরোধ: কলকাতায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক ও দুর্ভোগের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে তিস্তায় ‘ন্যায়সংগত’ পানি ছাড়তে দিল্লিকে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। গত বুধবার দুই দিনের ওই বৈঠক শেষ হয়েছে। এর আগে গত শনিবার ঢাকায়ও জেআরসির কারিগরি বৈঠকে বাংলাদেশ এ বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে। 
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার প্রবাহ ১৯৭৩-১৯৮৫ সময়কালের চেয়ে গড়ে এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-দশমাংশ পর্যন্ত কমেছে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুই দফা চিঠি দিয়ে ভারতকে ন্যায়সংগত পানি ছাড়ার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। পশ্চিম-বঙ্গের গজালডোবা ব্যারাজের নির্মাণ-প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে তিস্তায় পানিপ্রবাহ অনেক বেশি ছিল বলে তুলনার জন্য ১৯৭৩-১৯৮৫ সময়-কালের তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করা হয়। 
পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক তাঁর আসন্ন দিল্লি সফরের সময় ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অন্য বিষয়গুলোর পাশাপাশি তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি আলোচনা করবেন বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। চার দিনের সফরে পররাষ্ট্রসচিবের ১৯ মার্চ দিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে। 
শিগগিরই সুরাহার আভাস নেই: কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে তিস্তার বিষয়টি সুরাহার তেমন আভাস মিলছে না। দিল্লির কর্মকর্তারা ঢাকার কর্মকর্তাদের সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উদ্বেগ ও অনুরোধের বিষয়টি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে তাঁরা জানিয়েছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে এখনো আগের অবস্থানে অর্থাৎ উৎসে পানি কমেছে—এ যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশকে চাহিদা অনুযায়ী পানি না ছাড়তে অনড়। স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বক্তব্যেও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মিয়ানমারে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মনমোহন সিং। এ আলোচনার সময় মনমোহন সিং ‘তিস্তা চুক্তি কঠিন বিষয়’ বলে মন্তব্য করেন। 
ফের সমীক্ষা হচ্ছে?: ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে সঙ্গী না হওয়ায় সীমান্তের দুই পাড়েই সমালোচিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই সফরে তিস্তা নিয়ে চুক্তি হবে বলে ব্যাপকভাবে প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। সে বছরেই নভেম্বরে তিস্তা নিয়ে মমতা সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রকে নিয়ে এক সদস্যের কমিশন গঠন করেন। রুদ্র কমিশন ডিসেম্বরেই সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেয়। পর্যাপ্ত উপাত্তের অভাব দেখিয়ে এখন নতুন করে আরেকটি সমীক্ষার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। 
গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের চেয়ারম্যান অশ্বিন পান্ডের সঙ্গে বৈঠকের পর পশ্চিমবঙ্গের সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তিস্তা থেকে দুই দেশের কার কী পরিমাণ পানি দরকার, তা নির্ধারণে একটি কারিগরি ও আর্থসামাজিক সমীক্ষা প্রয়োজন। 
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নিজের মনঃপূত না হওয়ায় রুদ্র কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে নিজে কখনো মুখ খোলেননি মমতা। এমনকি ওই প্রতিবেদন নিয়ে গণমাধ্যম তো বটেই, কারও সঙ্গে কথা বলতে তিনি কল্যাণ রুদ্রকে নিষেধ করেন। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে ২০১২ সালের জুনে এই প্রতিবেদক কল্যাণ রুদ্রর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ নিয়ে কথা বলতে অপারগতা জানান। 
ওই সময় রাজ্য সরকারের ঘনিষ্ঠ একাধিক মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারতের কেন্দ্রীয় নদী কমিশনের বিশেষায়িত তথ্য ছাড়া তিস্তার বিষয়ে ওই প্রতিবেদন তৈরি করেন কল্যাণ রুদ্র। পশ্চিমবঙ্গের সেচ বিভাগসহ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া উপাত্তের ভিত্তিতে ওই সমীক্ষা তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে কল্যাণ রুদ্র মন্তব্য করেন, তিস্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে নদীটির বাংলাদেশ অভিমুখী গতি বিঘ্নিত করা সমীচীন হবে না। তিস্তার গতি ব্যাহত করা হলে অর্থাৎ উজানে বেশি পানি প্রত্যাহার করা হলে নদীর পানি কমতে থাকবে। কল্যাণ রুদ্রর এ অভিমত পছন্দ হয়নি মমতার। তা ছাড়া কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের উপাত্ত ছাড়া সমীক্ষা হওয়ায় এটিকে অসম্পূর্ণ প্রতিবেদন মনে করেন তিনি।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে