Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১১ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৩-২০১২

আস্থাহীনতায় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: হাসিনা

আস্থাহীনতায় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: হাসিনা
ভারতের ত্রিপুরায় দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও বলতে হচ্ছে, আস্থাহীনতা ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে অতীতে বারবার দু’দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতীতকে পিছনে ফেলে আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে অবশ্যই দুই দেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে সামনে এগিয়ে যেতে পারবো। প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এছাড়াও ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে সাম্মানসূচক ডি-লিট উপাধি গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এই সম্মাননা গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মান তার জন্য অনুপ্রেরণার।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো দারিদ্র্যতা। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক না  থাকলে এই দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়। ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব ও ভূমিকা এবং এই উপমাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য ডি-লিট সম্মান তুলে দেন ভারতের ভাইস প্রেসিডেন্ট হামিদ আনসারী। অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ইংরেজিতে তার বক্তব্য বলার পর বাংলায় বলেন, যেখান দাঁড়িয়ে আমি কথা বলছি সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং ক্যাম্প ছিল। এখানে আসা আমার পক্ষে গৌরবের। মহান মুক্তিযুদ্ধের এ তীর্থভূমিতে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত। ত্রিপুরাবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আপনারা যেভাবে সাহায্য করেছেন তা কোনদিন ভুলবার নয়। এদিন আগরতলায় আসাম রাইফেলসের ময়দানে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনার উত্তরে হাসিনা ত্রিপুরার মানুষকে বারবার কৃতজ্ঞতা জানান। এদিকে ত্রিপুরার পালাটানায় ৭৪৬ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও  ত্রিপুরার মধ্যে বন্ধুত্বের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমাদের ভাষা সংস্কৃতি জাতিসত্ত্বা ও মূল্যবোধ এক। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের ভাগ্য প্রতিবেশী দেশ দুটির পারস্পরিক বহুমুখী সম্পর্কের মধ্যে নিহিত রয়েছে। তিনি বলেন, ইতিহাস, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবহমান কাল থেকে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ত্রিপুরাবাসী এই বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের ভবিষ্যতও একইসূত্রে গাঁথা। তিনি বলেন, ‘উভয় দেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে নজর দিতে হবে এবং আমাদের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এক চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদেরকে অবশ্যই এই সুযোগ কাজে লাগাতে    হবে। তিনি বলেন, ২০১০ সালে তার ভারত সফরের পর ঢাকা ও নয়া দিল্লির মধ্যে নিরাপত্তা, স্থলসীমানা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, ব্যবসা-বাণিজ্য, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়গুলো আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা উভয় সরকার এখন গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছি যাতে উভয় দেশের জনগণ তার সুফল ভোগ করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘সাবরোম-রামগড় স্থল শুল্ক বন্দর চালু ও বাংলাদেশ-ত্রিপুরা সীমান্তে চারটি সীমান্ত হাট বসানোর ব্যাপারে আমরা ইতিমধ্যে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছি।’ এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার পাশাপাশি গোটা অঞ্চলের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের জনগণের মধ্যে মানবিক সম্পর্ক স্থাপনের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করছে। আমরা যৌথভাবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী পালন করছি এবং আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যৌথভাবে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি ত্রিপুরার কবি ও সাহিত্যিকদের এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রায় ১৬ লাখ বাংলাদেশীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য ত্রিপুরা সরকার ও তার জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই ত্রিপুরার মাটি থেকেই আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা সর্বপ্রথম হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে।
এদিকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তনে ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মান তাকে জনগণের সেবায় আরও নিবেদিত হতে অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ জোগাবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের অসহায় মানুষ যখন সব কিছু হারিয়ে কেবল জীবন নিয়ে স্রোতের মতো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসছিল তখন আপনারা দুই বাহু প্রসারিত করে তাদের অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। আমাদের মনে সেই ভয়াবহ দিনগুলোর স্মৃতি এবং আমাদের জনগণের প্রতি আপনাদের ভালবাসা ও সমর্থন অমলিন রয়েছে।
ভারতের ভাইস প্রেসিডেন্ট হামিদ আনসারী, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ত্রিপুরার গভর্নর ড. ডিওয়াই পাতিল, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, ভারতের এইচ আর ডি ও বিজ্ঞান এবং আইসিটি বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল সিবাল এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অরুণোদয় সাহা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অমিয় কুমার বাগচী এতে সভাপতিত্ব করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. অমিয় কুমার বাগচী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি মানপত্র পড়েন। এতে বলা হয়, ‘আপনার দেশের মানুষ যাতে শান্তিময় ও উন্নত জীবন যাপন করতে পারে সেলক্ষ্যে একটি অনুকূল ও উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে আপনি সর্বশক্তি নিয়োগ এবং নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। এর আগে শেখ হাসিনা ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাস্কর্য উন্মোচন করেন।
এদিকে আনন্দ বাজার পত্রিকার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগরতলা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসায় সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তিস্তা নিয়ে ভারতের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর কৌশলই নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়ে সুনির্দিষ্ট সংকেতও দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যে দু’দিনের সরকারি সফর শেষে গতকাল বিকালে দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা  চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী  বেগম মতিয়া চৌধুরী, এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী  সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মো. ফারুক খান প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক  কোরের ডিন এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সিনিয়র দলীয় নেতৃবৃন্দ বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে