Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (31 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-১১-২০১৪

ট্রেনের ধাক্কায় মিনিবাসের ৪ যাত্রী নিহত

ট্রেনের ধাক্কায় মিনিবাসের ৪ যাত্রী নিহত

চট্টগ্রাম, ১১ মার্চ- নগরীতে গেটম্যানহীন রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-মিনিবাস সংঘর্ষে পোশাক কারখানার ৪ নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ৭ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৭ মিনিটে চট্টগ্রামের ষোলশহর-দোহাজারী রেলপথে নগরীর চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ও আহতরা সবাই কালুরঘাট শিল্প এলাকার বেইজ টেক্সটাইল নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। নিহতরা হলেন- ইয়াসমিন (২৪), রিয়া আক্তার (২৫), সুইটি (২২), জুলি (২৪)।  

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকরা হলেন- বেলাল, শিল্পী, মৌমিতা, এনাম, নেছার আহমেদ, সুইটি-২। আর নিহতদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জানালী হাট থেকে আসা ষোলশহরগামী যাত্রীবাহী ট্রেনটি পশ্চিম দিকে আসছিল হুইসেল বাজিয়ে। এসময় দুর্ঘটনা কবলিত রাহে মদিনা নামের মিনিবাসের চালক দিদারের কানে হেড ফোন লাগানো থাকায় তিনি তা শুনতে পাননি। এছাড়া বেপারীপাড়া বাহির সিগন্যাল সড়কটির সংস্কার কাজ চলায় রেল ক্রসিংয়ে মাটি জমে ছিল। এ কারণে গাড়িটি রেল লাইন ক্রস করার সময় আটকে যায়। লাইন ক্রস করতে করতে ট্রেনটি সজোরে বাসের মাঝামাঝি স্থানে ধাক্কা দিলে প্রায় ৫০ গজ দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চার নারী শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরো ২৩ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ৭ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রেলওয়ে চট্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন ফারুক বলেন, ‘দোহাজারী থেকে ষোলশহরগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে বাহির সিগন্যাল এলাকার রেল ক্রসিংয়ে একটি মিনিবাসের সংঘর্ষ হলে ৪ নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়। এসময় আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।’

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় উপ পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, ‘দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর কথা শুনেছি।’

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তারা স্থায়ীভাবে গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানান। কালুরঘাট শিল্প এলাকার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কোনো ধরনের গেটম্যান না থাকায় তারা রেলওয়ের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার এসএম মুরাদ হোসেন বলেন, ‘বাহির সিগন্যাল রেল ক্রসিংটি অনুমোদিত হলেও জনবল সংকটের কারণে আমরা কোনো গেটম্যান দিতে পারিনি। বিষয়টি তদন্তে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা চট্টগ্রাম-আরাকান সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে শিল্প পুলিশ ও  চান্দগাঁও থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শ্রমিকদের দাবির মুখে ওই এলাকার সব কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে